প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নির্মাণাধীন ভবনের ক্যাবল-পাম্প চুরি করতেই গার্ডকে পরিকল্পিত হত্যা গ্রেফতার ৫জন

আব্দুল্লাহ মামুন [২]রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম আগারগাঁওয়ের নির্মাণাধীন ভবনের গার্ডকে পরিকল্পিতভাবে হত্যায় জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন, আশিকুল রহমান , কাওসার আলী , নয়ন আলী , আফাজুল ইসলাম ওরফে বাবু ও অনন্ত রাজওয়ারী । তাদের সবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার বিভিন্ন গ্রামে।

[৩] পুলিশ জানায়, গত ১৫ এপ্রিল সকালে পশ্চিম আগারগাঁও এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের (২৭২/১/১) অষ্টম তলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় গার্ড আনোয়ারের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ভবনের মালিক মো. এমদাদুল হক বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানা মামলা করেন। এরপর শুক্রবার রাত সাভারের আমিন বাজার এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

[৪] জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে আসামিরা জানান, তারা সবাই ভবনটিতে রাজ মিস্ত্রির কাজ করতেন। করোনাভাইরাসের কারণে তাদের কাজ বন্ধ ছিল। এরপর সবাই এই পরিস্থিতিতে বাড়িতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।আসামি মো. আশিকুল রহমান, কাওসার, অনন্ত, আফাজ ওরফে বাবু ও নয়ন পানির পাম্প ও কয়েল তার চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। যদি কেউ বাধা দেয় তবে তাদের হত্যা করা হবে বলে পরিকল্পনা করেন।

[৫]পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামিরা ১৩ এপ্রিল রাতে আনুমানিক ১০টার দিকে বিল্ডিংয়ের নিচতলায় ভিকটিম আনোয়ারের টিনশেড ঘরে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাওসার মূলগেটে পাহারা দেন। অন্য চারজন ভিকটিমের ঘরে ঢুকে যান।ভিকটিমের সাথে কিছুক্ষণ গল্প করার পর আফাজ ওরফে বাবু ভিকটিমকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় চেপে ধরেন। অনন্ত সাথে থাকা রশি দিয়ে পা বেঁধে ফেলেন। নয়ন হাত বেঁধে ফেলেন। আশিকুল ভিকটিমের ঘরে থাকা গামছা ভিকটিমের মুখে ঢুকিয়ে দেন ও লুঙ্গি দিয়ে মুখ বেঁধে ফেলেন। এরপর তারা ৪ জন ভিকটিমকে জড়িয়ে ধরে বিল্ডিংয়ের অষ্টম তলায় নিয়ে যান। এরপর ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে জেনে নিচে চলে আসেন। ফজরের আজানের পর আসামিরা বিল্ডিং থেকে পালিয়ে যান। যাবার আগে ভিকটিমের মোবাইল ফোন নিয়ে যান কাওসার। বিষয়টি জানাজানি হলে আফাজ ওরফে বাবু আমিন বাজারের কয়লার ঘাটে ফারুখের মেসে মোবাইলটি ভেঙে ফেলেন। এসব তথ্য জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন আসামিরা।

[৬] শেরেবাংলা নগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা ভিকটিমের লাশ যেভাবে পাই, তাতে আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এরপর বিল্ডিংয়ের মালিক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এর ধারাবাহিতায় আমরা তদন্তে নামি। তদন্তে বিচার-বিশ্লেষণ করে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহাতায় শুক্রবার সাভারের আমিন বাজার এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে আসামিদের গ্রেফতার করি। আসামিরা প্রাথমিকভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
[৭] তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশানার (এসি) মো. মাহমুদ খানের নেতৃত্ব অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।শনিবার (১৮ এপ্রিল) আদালতে পাঠানো হবে তাদের’,- যোগ করেন । তিনি আরও বলেন, মামলার প্ররিপ্রেক্ষিতে আমরা হত্যার তদন্ত শুরু করি। আমরা প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে তাদের আমিন বাজারের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার করি। তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আমিন বাজারে বিভিন্ন জায়গায় কাজ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে তিন জন রাজমিস্ত্রি ও দুইজন সহকারীর কাজ করত। তাদের সবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত