প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মির্জাপুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়কের কাছ থেকে পাওনা টাকা না পেয়ে দলের কর্মীর আত্মহত্যা

অলক কুমার দাস, টাঙ্গাইল : [২] টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যুবলীগের আহ্বায়ক শামীম আল মামুনের কাছ থেকে পাওনা টাকা না পেয়ে দলেরই এক কর্মী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে বাবুল সিকদার (৩০) নামের উপজেলা যুবলীগের এক কর্মীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

[৩] এর আগে বাবুল সিকদার তার ফেসবুক আইডিতে তার মৃত্যু জন্য কারা দায়ী এ নিয়ে স্ট্যাটাস দেন। আর মৃত্যুর আগের দিন তার দেয়া স্ট্যাটাসে পুরো মির্জাপুরে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।
[৪] স্থানীয়রা জানান, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও স্থানীয় এমপির সাবেক পিএস শামীম আলম মামুনের সাথে দীর্ঘদিন পূর্বে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বহনতলী গ্রামের বাবুল সিকদারের পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে বাবুল সিকদার শামীম আল মামুনের হাত ধরে যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পরে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। আর এই সুযোগ কাজে লাগায় উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শামীম আল মামুন। বাবুল সিকদারকে ব্যবসায়ীক পার্টনার বানানোর লোভ দেখিয়ে তার কাছ থেকে শামীম আল মামুন বিভিন্ন সময় স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে ১৫ লাখ টাকা ধার নেন। কিন্তু ধার দেয়া ১৫ লাখ টাকা বাবুল সিকদার আবার অন্য কারো কাছ থেকে এনে দেন শামীমকে। এ কারনে পাওনাদার বাবুল সিকদারকে প্রতিনিয়তই টাকা ফেরত দেয়ার জন্যা চাপ সৃষ্টি করে। পাওয়ানাদারের চাপে বাবুল সিকদার আবার শামীম আল মামুনের কাছে টাকা ফেরত চান। কিন্তু এতে কোন লাভ হয়নি। উল্টো শামীম আল মামুন তার প্রভাব খাটিয়ে বাবুল সিকদারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভিতি দেখাতে শুরু করে। স্ট্যাটাসে শামীম ছাড়াও আরো তিন জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন গেরেজ মাসুদ, শাহীন ও শাজেদুল।
[৫] বাবুল সিকদারের পরিবারের আভিযোগ শামীম আল মামুন ব্যবসায়ীক লোভ দেখিয়ে বাবুল সিকদারের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেন। আর এই টাকা বাবুল অন্য এক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার নিয়ে শামীমকে দেন। কিন্তু সেই টাকা শামীম ফেরত না দিয়ে উল্টো তাকে ভয়ভিতি দেখাতে শুরু করে। এ কারনেই বাবুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। আত্মহত্যার আগের দিন বাবুল তার নিজের ফেসবুক আইডিতে মৃত্যুর কারন ও কারা কারা জড়িত তাদের নাম লিখে গেছেন। একই সাথে শামীম আল মামুন যে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে টাকা নিয়েছেন সেটিরও ছবিও পোস্ট করেছেন।
[৬] এদিকে এক সময়ের ছাত্রদল নেতা শামীম আল মামুন ১৯৯৫ সালে ছাত্রলীগে যোগদান করেন। দলীয় কোন সভাসমাবেশে অংশগ্রহন না করেও উপজেলার শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতার আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে যান তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শামীম আল মামুনের একচ্ছত্র আধিপত্ব শুরু হয়। গড়ে তোলেন এক সন্ত্রাসী বাহিনী। শুরু করেন ব্যাপরোয়া চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড। শামীমের বাবার নামে গ্রামের বাড়ি মির্জাপুরের পোষ্টকামুরী গ্রামে পাঁচ শতাংশ জমি থাকলেও বর্তমানে শামীমের রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও বিলাশবহুল বাড়ি-গাড়ি। দেশের বাইরে দুবাই বিমানবন্দরের পাশে হোয়াইট হাউজ, আল-বায়াত ও বিগব্র্যান্ড স্টোর নামের তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন শামীম। তবে সেগুলো নিজের নামে না করে ভাইদের নামে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
[৭] ২০০৭ সালে চন্দ্রবিন্দু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক অনন্ত দাস নামের এক সংখ্যালঘু ব্যক্তির কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন শামীম। বিষয়টি র‌্যাবকে জানায় অনন্ত। পরে গোপনে র‌্যাবের সদস্যরা ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে উপস্থিত হয়ে হাতেনাতে চাঁদার টাকাসহ শামীম ও তার সহযোগীদের আটক করে।

[৮] এ ঘটনায় অনন্ত দাস বাদি হয়ে ২০০৮ একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শামীমকে সাত নম্বর আসামী করা হয়। যার মামলা নং ১০৮, তারিখ ২২-৪-২০০৮। ২৬দিন করাগারে থাকার পর জামিনে বের হয়ে বাদিকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলাটি আপোষ করতে অনন্তকে বাধ্য করেন শামীম। মামলা আপোষের পরপরই শামীমের ভয়ে এলাকা ছেড়ে সপরিবারে চলে যান অনন্ত দাস।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শামীম আল মামুনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
[৯] মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান জানান, যুবলীগ কর্মী বাবুল সিকদারের আত্মহত্যার আগের দিন তার নিজ ফেসবুক আইডিতে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, সেটি তদন্ত করা হচ্ছে। একই সাথে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শামীম আল মামুনও আমাদের নজরদারিতে রয়েছেন। এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহতের লাশ ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গলবার রাতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত