শিরোনাম
◈ নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এগিয়ে ১৬২ আসনে, তৃণমূল ১১৫ ◈ রাজধানীতে নতুন আতঙ্ক ছিনতাই ◈ ললিত মোদির দখলে ক্রিকেটের রত্নভাণ্ডার! ◈ হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ চালুর ঘোষণা ট্রাম্পের ◈ মাতারবাড়ী পোর্ট এক্সেস রোড: টেকসই অবকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণে নতুন দিগন্ত ◈ চাহিদা থাকলেও ইউরোপ-আমেরিকায় বন্ধের পথে বাংলাদেশের মসলা রপ্তানি ◈ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি: অর্থনৈতিক সুযোগ না ভবিষ্যতের ঝুঁকি? ◈ আজই ফয়সালা: পশ্চিমবঙ্গে কে বসবে ক্ষমতায়? ◈ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিলেন ◈ ১২ দল নি‌য়ে সোমবার শুরু হ‌চ্ছে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ

প্রকাশিত : ১৭ মার্চ, ২০২০, ০৬:৩৫ সকাল
আপডেট : ১৭ মার্চ, ২০২০, ০৬:৩৫ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] প্রধানমন্ত্রীর ১২ লাখ টাকা অনুদান পেলেন অসুস্থ ভাষা সৈনিক শহিদুল্লাহ

আব্দুল্লাহ আল আমীন, ময়মনসিংহ: [২] মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক গণপরিষদ সদস্য, ভাষা সৈনিক খোন্দকার আব্দুল মালেক শহিদুল্লাহ'র (৮৫) উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১২ লক্ষ টাকার অনুদান প্রদান করা হয়েছে। অনুদানের চেক হাতে পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন খোন্দকার আব্দুল মালকের পরিবারের সদস্যরা।
[৩] খোন্দকার আব্দুল মালকের ছোট ছেলে খোন্দকার মনজুর মালেক সুদীপ্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ মোঃ আবু জাফর রাজু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খোন্দকার মালেক শহিদুল্লাহকে দেখতে এসে সেখানে তার স্ত্রী সুরাইয়া মালেকের হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন।
[৪] তিনি আরো বলেন, ২ লাখ টাকার চেক ও ১০ লাখ টাকার এফডিআর দেয়া হয়েছে। খন্দকার আব্দুল মালেক গত ২৫ শে ফেব্রুয়ারী থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বর্তমানে খন্দকার আব্দুল মালেকের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ গত বছরের ১৩ অক্টোবর প্রথম দফায় ৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলেও আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। অসহায় পরিবার পরে তাকে মুক্তাগাছায় নিজ বাড়িতে রাখেন।
ব্রিটিশ আমল থেকে ঐহিত্যবাহী মুক্তাগাছার খোন্দকার পরিবারের জন্ম নেয়া খোন্দকার আব্দুল মালেক শহিদুল্লাহ সারা জীবন মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সকল সম্পদ মানুষের সেবায় বিলিয়ে দিয়ে শেষ বেলায় নিজেই চরম সংকটে পড়েন।
তৎকালীন বৃহত্তর ময়মনসিংহজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (সভাপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম) বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহচর এবং ১৯৭০’র নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হিসেবে খোন্দকার মালেক শহিদুল্লাহ চিকিৎসা নিয়ে অসহায় পরিবারের করুণ আকুতি জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল রাইজিংবিডি সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
গত ২৫ ফেব্রæয়ারী সাবেক আইনমন্ত্রী আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মতিন খসরু ও তার সহধর্মিনী সেলিমা সোবহান খসরু’র সহযোগিতায় অসুস্থ খোন্দকার মালেক শহিদুল্লাহকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর অসুস্থতা এবং পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবগত হয়ে তাঁর খোঁজ খবর নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১২ লক্ষ টাকার অনুদান প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, খোন্দকার আব্দুল মালেক শহীদুল্লাহ ১৯৩৬ সালে মুক্তাগাছার ঐতিহ্যবাহী খোন্দকার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা খন্দকার আবদুল মান্নান ছিলেন চিকিৎসক। ৫২'র ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দানের দায়ে মামলা আসামী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত হন। ৬৬’র ৬ দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দানের জন্য বার বার জেলে যান। ৭০’র নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্ব প্রার্থীদের সবার জামানত বাজেয়াপ্ত করে দিয়ে বিপুল ভোটে আওয়ামীলীগের এমপি নির্বাচিত হন। ৭৫’র বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর খন্দকার মোস্তাক ও জিয়াউর রহমানের আহবানে সারা না দেয়ায় তাকে জেল খাটতে হয়। ১৯৯৯ সালে তিনি বিপুল ভোটে মুক্তাগাছা পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে আর তিনি কোন নির্বাচনে অংশ নেননি। এলাকায় তিনি ক্লিন ইমেজের স্বজ্জন ব্যক্তি হিসেবে দলমত সর্ব মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়