প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গিনেস বুক রেকর্ড গড়তে ২৮ ফুট দৈর্ঘ্যের কলম তৈরি করলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আব্দুল্লাহ আল হায়দার

রাজু আলাউদ্দিন: [২] গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ ও নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে গাছ দিয়ে প্রায় ২৮ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বলপয়েন্ট কলম তৈরি করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আব্দুল্লাহ আল হায়দার। কলমের গায়ে লিখেছেন আল্লাহর ৯৯ নাম ও কোরআনের ১১৪টি সুরার নাম। গিনেস বুকে নাম তুলতেই যুবকের এই প্রয়াস। এটিকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বলপয়েন্ট কলম হিসেবে স্বীকৃতি পেতে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদনও করেছেন হায়দার।

[৩] আব্দুল্লাহ আল হায়দার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামের বাসিন্দা। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট হায়দার হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

[৪] আব্দুল্লাহ আল হায়দার জানান, কলমটি তৈরিতে সেগুন গাছ ব্যবহার করা হয়েছে। ওজন ৭৮ কেজি। দৈর্ঘ্য ২৭ দশমিক ৮ ফুট (৮ দশমিক ৪৭ মিটার) ও এর প্রস্থ ১৮ইঞ্চি। কলমের গায়ে আরবি হরফে আল্লাহর ৯৯ নাম ও ১১৪টি সুরার নাম ছাড়াও মুখে ‘আল্লাহু আকবর’ এবং সুরা আলাকের দুটি ও সুরা কলমের দুটি আয়াত খোদাই করা হয়েছে।

[৫] গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির ছাদের ওপর পলিথিনে মুড়িয়ে কলমটি রাখা হয়েছে। পলিথিন সরাতেই চোখে পড়ে খোদাই করে লেখা আল্লাহর ৯৯ নাম ও পবিত্র কোরআনের ১১৪টি সুরার নাম। আরবিতে এসব হায়দার নিজেই খোদাই করেছেন। কলমের বলপয়েন্ট তৈরির কাজে সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় মাস্টার ক্রাফটম্যানশিপের হেড ট্রেইনার জাহিদ হোসেন। আর নির্ভুল আরবি লেখা যাচাইয়ের কাজে সহযোগিতা করেছেন সদর উপজেলার বিরামপুর উত্তরপাড়ায় অবস্থিত মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নজরুল ইসলাম বিন সাইদ এবং সদর উপজেলার নরসিংসারের জোবায়দা খাতুন মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

[৬] হায়দার বলেন, বলপয়েন্ট কলম তৈরির জন্য ১৫ দিন আরবি লেখার চর্চা করেছি। তারপর আরবিতে খোদাই করে লিখেছি। তিনি বলেন, এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বলপয়েন্ট কলম হিসেবে স্বীকৃতি পেতে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদন করেছি। কর্তৃপক্ষ আমার আবেদন গ্রহণ করে উত্তর দিয়েছেন। উত্তরে তারা আমাকে ৬১টি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। তাদের দেওয়া সব শর্ত আমি পূরণ করেছি। হায়দারের কাছে পাওয়া নথিপত্র থেকে দেখা গেছে, কলমের বিষয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ উত্তর দিয়ে ১২ সপ্তাহের মধ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগ করবে বলে জানিয়েছে।

[৭] হায়দার আরও বলেন, গিনেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের হায়দরাবাদের আচার্য মুকুনুরি শ্রীনিভাসা নামে এক ব্যক্তি ৩৭ দশমিক ২৩ কেজি ওজনের সাড়ে পাঁচ মিটার (১৮ দশমিক ৫৩ ফুট) দৈর্ঘ্যের একটি বলপয়েন্ট কলম তৈরি করেছিলেন। তা দেখে নিজে কিছু করার চেষ্টা করি। কলম প্রস্তুতের জন্য একটি সেগুন গাছ ২৮ হাজার টাকায় ক্রয় করি। বাড়িতে এনে পরিষ্কার করে ছাদের উপর গাছটি শুকিয়েছি। তারপর গাছটি দুইভাগে কেটে এরমধ্যে স্টিলের পাইপ স্থাপন করে আঠা দিয়ে যুক্ত করে রঙ করেছি।

[৮] গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেলে কলমটি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে উপহার দিতে চাই বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আব্দুল্লাহ আল হায়দার।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত