প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সমাজে রাজনীতিতে কতো পাপিয়া আছে? আছে তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা ও অপরাধের সঙ্গী?

পীর হাবিবুর রহমান : যুব মহিলা লীগের নেত্রী পাপিয়া ১৫ দিনের রিমান্ডে। জিজ্ঞাসাবাদে সে তার গডমাদার গডফাদারদের নাম নিশ্চয় বলবে। এতে কি এমন ভয়ংকর অপরাধের চেইনে বা সিন্ডিকেটে জড়িতদের নাম আসবে? তার কাছে পাওয়া ভিডিও ক্লিপে যাদের কুৎসিত চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে তাদের কি ধরা হবে? আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিয়ে মামলায় সবাইকে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে? ক্যাসিনো বাণিজ্যের অপরাধে সম্রাটকে ধরা হলো। যুবলীগের চেয়ারম্যান নেতৃত্ব হারালেন।সম্রাট বহিষ্কৃত হয়ে জেল খাটছেন।সম্রাট তো অনেক তথ্য দিয়েছিলেন,কারা তার ক্যাসিনোর টাকার ভাগ পেতেন? তার তথ্যের আলোকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিয়ে কি মামলায় কাঠগড়ায় আনা হয়েছে? ক্যাসিনো বাণিজ্য তো একদিনে একজনের ক্ষমতায় চলেনি।

টাকার ভাগ কারা নিয়েছেন? পাপিয়া কি একদিনে তৈরি হয়েছে? ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা নেতৃত্ব হারালে যুব মহিলা লীগ নেতৃত্ব কেন বেশ্যাদের অপরাধের দায় নিয়েও পদে বহাল থাকবেন? যুব মহিলা লীগে পাপিয়া কি একজন বা সরকারি দলে কিংবা ক্ষমতাবলয়ে? পাপিয়াকে কারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছে? কারা অপরাধের শক্তি যুগিয়েছে? পাঁচ তারকা হোটেলকে কীভাবে বেশ্যালয় বানিয়েছে? সব পাঁচ তারকা হোটেল কি অপরাধের বাইরে? পাপিয়াকে বহিষ্কারেই কি দল রাজনীতি অপরাধীমুক্ত? এসবের উত্তর দিতে হবে। দলের জেলা নেতৃত্বে থাকবে, কেন্দ্রের পদ-পদবিতে আসবে তাদের খাসলত, চরিত্র, আমলনামা ও পদবি পাওয়ার পর কর্মকা- তৎপরতা জানা যাবে না এটা কেমন রাজনৈতিক দল? পাপিয়ার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী অনেক নেতা ও সম্মানিতদের ছবি ভাইরাল করে তাদের কেন বিব্রত করা হচ্ছে? নষ্টদের দলে সমাজে জায়গা দেবেন, যে কেউ যেকোনো অনুষ্ঠানে গেলে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে দেবে আর এ নিয়ে মজা করার কোনো মানে হয়? অনেকে তো তাকে চিনেনই না। কারা তাকে এ সব বেশ্যা ও বেশ্যার দালাল সর্দারণীদের বঙ্গভবন থেকে সব সরকারি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেন?

সমাজে রাজনীতিতে কতো পাপিয়া আছে? আছে তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা ও অপরাধের সঙ্গী? তাদের সন্ধান করে, তাদের নাম রিমান্ডে জেনে, তাদের আসরের খদ্দেরদেরসহ শক্তিদাদাতা প্রশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনা হবে না কেন? গোয়েন্দা সংস্থা চাইলেই বের করতে পারেন সমাজের রাজনীতির সব বেশ্যা, বেশ্যার দালাল, সর্দারণী ও তাদের অপরাধের আশ্রয় প্রশ্রয় শক্তিদাতাদের। বেশ্যাদের চেয়েও বড় অপরাধী তাদের নিয়ে গড়ে তোলা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপরাধ জগতের অপরাধীরা। সম্রাট আর পাপিয়া জেল খাটবে আর তাদের অন্ধকার জগতে এগিয়ে দেওয়া বা টেনে আনা, সব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত শক্তিশালী মদদদাতা, আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ও বেনিফিশিয়ারিরা কেন আইনের আওতায় শাস্তি পাবে না? সরকার ও সরকারি দলকে আজ এই বিষয়ে নির্মোহ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না পারলে অপরাধের নেপথ্য শক্তিধররা আরও বেপরোয়া হবে, অপরাধ কমবে না, বাড়বে। সরকার ও দলে পাপিয়াদের দৌরাত্ম্যও বেড়ে যাবে। সমাজ রাজনীতি নষ্টদের দাপটে আরও কলুষিত হবে। তাদের নিয়ে লিখলে, বললে, ভয়ংকর সিন্ডিকেট শক্তিশালী সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ, নোংরা কুৎসিত মিথ্যা প্রচারণা চালায়, চরিত্রহননের চেষ্টা করে তাই কেউ অনেক জেনেও ভয়ে মুখ খোলে না, আজ সমাজ রাজনীতি পরিবেশ রক্ষায় সবাইকেই মুখ খুলতে হবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত