প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডাকসু নির্বাচন: ছাত্র অধিকার পরিষদ প্যানেলে লড়বেন যারা

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রায় তিন দশকের অচলায়তন ভেঙে সচল হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) পার করেছে ১১ মাস। মেয়াদ ফুরোতে আর মাত্র ৩৩ দিন বাকি। আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত মেয়াদ আছে। এরপরই নতুন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের রদবদল আসবে দেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট হিসেবে খ্যাত ডাকসুতে। দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস

তবে বর্তমান সংসদের মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে না পারলে আরও ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগের কথা গঠনতন্ত্রে রয়েছে। ডাকসু নেতাদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

এদিকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যেই কোন প্যানেল থেকে কারা মনোনয়ন পাবেন-তা নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে নেমেছেন। ক্যাম্পাস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ইশারা-ইঙ্গিতও দিচ্ছেন তারা।

প্রায় তিন দশক পর গত বছরের ১১ মার্চ ছাত্রদের সরাসরি ভোটে ডাকসুর নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়। সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সমাজসেবা সম্পাদক বাদে বাদবাকি পদগুলোতে ছাত্রলীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এই দুটি পদে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই নেতা নুরুল হক নুর ও আখতার হোসেন জয়ী হন।

এবারও ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে লড়বেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। তবে গত নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হলেও এবার আর নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ভিপি নুর। নিয়মানুযায়ী তার আবার নির্বাচন করার সুযোগ আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের এই ছাত্রের বয়স মাত্র ২৫ বছর।

আসন্ন এ নির্বাচনে ভিপি-জিএস-এজিএস পদে কে লড়বেন-এ প্রশ্নের জবাবে পরিষদের নেতারা বলছেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় তিন এবং ঢাবির দুই নেতার মধ্য থেকেই এসব পদে মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে কাকে কোন পদে মনোনয়ন দেয়া হবে, সেটি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

আলোচনায় থাকা সংগঠনের কেন্দ্রীয় তিন নেতার মধ্যে রয়েছে-পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন এবং আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন। এদের মধ্যে মামুন এমফিলের (মাস্টার অব ফিলোসফি) ছাত্র। রাশেদ এমবিএর (রেগুলার) ছাত্র। আর ফারুক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সান্ধ্যাকালীন মার্স্টাসে পড়ছেন।

আর সংগঠনের ঢাবির দুই নেতার মধ্যে রয়েছে-পরিষদের ঢাবি শাখার সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন। বিন ইয়ামিন মোল্লা লোকপ্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আর আখতার আইন বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষে পড়ালেখা করছেন।

এছাড়াও আলোচনায় আছেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ), মাহফুজ খান ও সোহরাব হোসেন (তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ)। তবে গত কমিটিতে সমাজসেবা সম্পাদক আখতার এবার ভিপি-জিএস কোন একটি পদে লড়বেন বলে জানা গেছে।

পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ে সব সময় পাশে ছিল ছাত্র অধিকার পরিষদ। ক্ষমতাসীনদের শত নির্যাতনের পরও তারা সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন। তাই সাধারণ ছাত্ররা ডাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে তাদের চায়। তাদের দাবি নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ভিপি, জিএস এবং এজিএস তিন পদেই তারা জয়ী হবেন।

এ ব্যাপারে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) ও পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, আমি ডাকসুতে নতুন নেতৃত্ব দেখতে চাই। আমি চাই নতুন কেউ এই পদে আসুক। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হিসেবে ছাত্রসংসদের সবচেয়ে বড় পদে আমি নির্বাচন করে জয়ী হয়েছি। তাই আবার একই পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা আমার নেই। নানা প্রতিকূলতা সত্ব্বেও ছাত্ররা ভোট দিয়ে আমাকে ভিপি নির্বাচিত করেছেন। আমি চেষ্টা করেছি তাদের পাশে দাঁড়াতে। আমি ভিপি হওয়ার আগেও সাধারণ ছাত্রদের দাবির প্রতি সোচ্ছার ছিলাম, ভিপি হওয়ার পরও ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।

নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের অনেক কার্যকর নেতৃত্ব আছে, তাদের মধ্য থেকেই একজন ভিপি পদে নির্বাচন করবেন। এছাড়া ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন আছেন। সংগঠনের আহবায়ক হাসান আল মামুন. রাশেদ খানঁ ফারুক হাসান এদের হাতেই আগামী দিনের নেতৃত্ব থাকবে বলেও জানান তিনি।

পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, আমরা ডাকসু নির্বাচন হওয়া নিয়েই সংশয়ের মধ্যে আছি। আমি গতবার নির্বাচন করতে পারিনি। তবে এবার আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। সাধারণ ছাত্রদের পাশে থেকে তাদের জন্য কাজ করতে চাই।

নির্বাচনে প্রার্থী হলে কোন পদে লড়বেন এমন প্রশ্নের জবাবে মামুন বলেন, এটা আমাদের সাংগঠনিক আলোচনায় সিদ্ধান্ত হবে। যে যে পদের জন্য যোগ্য তাকে সে পদের জন্যই মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে ভিপি-জিএস এবং এজিএস পদের জন্য মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন, ফারুক হোসেন, আখতার হোসেন এবং বিন ইয়ামিন মোল্লার মধ্যে থেকেই প্রার্থী দেয়া হবে। কারণ এরা সবচেয়ে পরীক্ষিত নেতা।

আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, ক্ষমতাসীনদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রদের পাশে ছিলাম। সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে আন্দোলন করার কারণে জেলও খেটেছি। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আবারও জেল খাটব। ডাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। এক্ষেত্রে নিজেকে ভিপি অথবা জিএস পদটির জন্য দাবিদার বলে মনে করি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত