প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপির কিছু করার আছে বলে মনে হয় না

 

সাঈদ তারেক :  বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটির ওপর অভিযোগের পাহাড়। তারা রাজনীতি করতে পারছে না দল চালাতে পারছে না, আন্দোলন করতে পারছে না নির্বাচনে জিততে পারছে না, বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে বা করাতে পারছে না, কোনো ইস্যুতেই সরকারের ওপর চাপ সৃস্টি করতে পারছে না। জনমত গঠিত হয়ে আছে কাজে লাগাতে পারছে না। নেতৃত্ব ব্যর্থ, অমুকে সরকারের পকেটে চলে গেছে তমুকে এজেন্সির এজেন্ট। অভিযোগের অন্ত নাই।

এবার আমি একটু বিএনপির পক্ষ নিতে চাই। তো কী করবে দলটি? প্রথমত দেশে গণতন্ত্র নাই। আইনের শাষন ন্যায়ের শাসন অনুপস্থিত। রাজনীতির নিয়ন্ত্রক পুলিশ এবং সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি। প্রতিটি নেতা কর্মীর নামে কয়েক ডজন করে মামলা, হুলিয়া। মাসের অর্ধেক দিন যায় আদালতে হাজিরা দিতে। কাকে কখন জেলে যেতে হয়- সবাই আছে দৌড়ের ওপর। এ অবস্থায় কী করবে তারা? এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তখনকার বিরোধী দলগুলো আন্দোলনের এক নতুন মডেল প্রতিষ্ঠা করেছে। জ্বালাও-পোড়াও। ভাঙচুর। আন্দোলন বলতে তখন থেকে মানুষ বোঝে হরতাল অবরোধ ঘেরাও সন্ত্রাস সহিংসতা। এসব করতে গেলে দোষ। সরকারের অনুগত মিডিয়া এবং দলদাস সুশীল সমাজ তারস্বরে চিৎকার শুরু করে দেবে গেলো গেলো সব গেলো বিএনপি সব ধ্বংস করে দিলো! ওরা আবার মানুষ মারার রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক সমাজে আন্দোলন বলতে বোঝায় মিটিং-মিছিল ধর্না। এসব করতে আবার পুলিশের পারমিশন লাগে। পুলিশ ইচ্ছা হলে দেয় না হলে দেয় না। দিলেও এন্তার শর্ত। পারমিশন না নিয়ে মিটিং মিছিল করতে গেলে তাতেও দোষ। লাঠিচার্জ জলকামান টিয়ার গ্যাস। এরপর ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে মামলা। তো কি করবে, লাঠি বন্দুক নিয়ে পুলিশের সাথে যুদ্ধ করবে। এ তো সেই হাত-পা বেধে পুকুরে ফেলে দিয়ে বলা- সাতার কাটো! ডুবে যেতে দেখে কারও কারও পৈশাচিক উল্লাস। কেউ কেউ টিকা টিপ্পনী কেটে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়ে মজা নেন।

এইরকম একটা চরম বৈরী পরিস্থিতিতে বিএনপি কেন, কোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের পক্ষে কি টিকে থাকা সম্ভব? আন্দোলন তো দূরের কথা। সমাজে কখনো কখনো এইরকম পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। আমাদের দেশে অতীতে কয়েকবার এমনটা হয়েছে। পরে ঠিক হয়ে গেছে। এই কঠিন সময়টাকেই বলা হয় ক্রান্তিকাল। এ সময়ে টিকে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। আমি তো দেখছি সেদিক থেকে বিএনপি ঠিকই আছে। নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে। ভাল ভোট পাচ্ছে। বড় বড় শোডাউন করছে। সবে সরকারের এক বছর পার হয়েছে। কমপক্ষে আরও দুইটি বছর বিরোধী দলগুলোকে মার্কটাইম করতে হবে। পরের বছর ওয়ার্ম আপ। তার পরের বছর আন্দোলন এবং নির্বাচন। এটাই রাজনীতির সরল হিসাব।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপির কিছু করার আছে বলে আমি মনে করি না। এটা সম্পূর্ণ সরকারের ইচ্ছার ব্যাপার। সরকার চাইলে তিনি মুক্ত হবেন, না চাইলে হবেন না- এটাই বটম লাইন। বিএনপি বড়জোর প্রচার প্রচারণা চালিয়ে ইস্যুটাকে চাঙ্গা রাখতে পারে। প্রতিহিংসার মামলায় এরশাদ সাহেবও জেলে আটক ছিলেন। সে সময়ের সরকার স্বেচ্ছায় তার মুক্তি দেয় নাই। আন্দোলন সংগ্রাম নির্বাচন করে শেষ পর্যন্ত সরকার বদলের মাধ্যমে তাকে মুক্ত হতে হয়েছিল। সময় লেগেছিলো সাত বছর। অনুনয় বিনয় করুণা ভিক্ষা না করে এই দলটির উচিত হবে রাজনীতি ঠিক করা। বক্তব্য স্পষ্ট করা। বহুমাত্রিক নেতৃত্বের ধুম্রজাল কাটিয়ে এককেন্দ্রিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা। যেটা আমরা করেছিলাম ‘৯১ থেকে ‘৯৭ এরশাদ মুক্তির আন্দোলনে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত