প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রানীশংকৈলের ইট ভাটাগুলোতে কয়লার বদলে জ্বলছে কাঠ

জাকির হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি কাঠ খরি ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে কাঠ পোড়ানো হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই ইট ভাটা গুলো পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান ভাটা মালিকরা।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, হাইব্রিড হফম্যান, জিগজ্যাগ ও ভার্টিক্যাল শ্যাফট কিলন পদ্ধতির চিমনি বা পরীক্ষিত নতুন প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। এ ছাড়া ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালালি কাঠ ব্যবহার করলে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

তারপরেও জেলা ভাটামালিক সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪৬টি ইটভাটা আছে। এর মধ্যে মাত্র ১১টি ভাটায় পরিবেশসম্মত জিগজ্যাগ চিমনি ভাটা আছে। আবার জিগজ্যাগ চিমনির ভাটার মালিকদের মধ্যে অনেকেই কয়লার বদলে পুরানো হচ্ছে কাঠ।

বিভিন্ন ইট ভাটা গুলোতে ঘুরে ইটভাটার শ্রমিকেরা জানান, আমরা যতটুকু নিয়ম জানি কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানোর কথা থাকলেও মূলত কাঠ দিয়েই ইট পোড়ানো হচ্ছে। একটি বড় ইটভাটায় একবারে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ ইট পোড়াতে ২২-২৫ দিন সময় লাগে।

এ সময় কমপক্ষে ১১ হাজার মণ জ্বালানির প্রয়োজন। আবহাওয়া ভালো থাকলে এক মৌসুমে পাঁচ-ছয়বারে ৪৫-৫০ লাখ ইট পোড়ানো সম্ভব। এ পরিমাণ ইট পোড়াতে ৬৫ থেকে ৬৭ হাজার মণ (প্রায় দুই হাজার ৭০০ মেট্রিক টন) জ্বালানি কাঠ পোড়াতে হয়।

সে হিসাবে রানীশংকৈল তিন থেকে চারটি জিগজ্যাগ চিমনির ভাটা বাদে ৪২টি ভাটায় প্রায় ১৮ হাজার ৯০০ মণ জ্বালািন কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন ইট ভাটায় ট্রাক থেকে কাঠের গুঁড়ি ও বাশের মুড়ো ভাটার চুল্লির পাশে ফেলা রয়েছে ভাটার শ্রমিক জাহিদ হোসেন বলেন, এ ভাটায় প্রতিদিন দুই ট্রাক করে কাঠ পোড়ানো হয়।

একই মালিকের এসকে নামের ইটভাটায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে জিগজ্যাগ চিমনিতে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন এমন প্রশ্ন তুলেন সাধারণ মানুষের। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বাধিক পঠিত