প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাবির হলে শিক্ষার আলো ছড়াতে ‘বর্ণ পরিচয়’ স্কুলের যাত্রা শুরু

ওবায়দুর রহমান সোহান, ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে মেস এবং ক্যান্টিন কাজ করা শিশু-কিশোরদের মাঝে বিনামূল্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে হল সংসদের উদ্যোগে গঠিত ‘বর্ণ পরিচয়’ স্কুলের আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়েছে।

সোমবার বিকেলে বিজয় একাত্তর হল সংসদের সদস্য রেজাউল হক রাইয়ানের তত্ত্বাবধানে হল প্রাঙ্গনেই পাটি বিছিয়ে শিক্ষা বঞ্চিত শিশু-কিশোরদের নিয়ে পাঠদান কর্মসূচি শুরু করে। এই কর্মসূচিতে হলের ক্যান্টিনে কাজ করা শিশু-কিশোরেরা স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

প্রথম দিনে ক্লাস নিয়েছেন একই হলের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া ও প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন্স বিভাগের শিক্ষার্থী কাউসার আহমেদ।

হল সংসদের উদ্যোগে খাতা, কলম বিতরণের মাধ্যমে ‘বর্ণ পরিচয়’ -এর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বিজয় একাত্তর হল সংসদের সহ-সভাপতি সজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান নিশান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রনো আনোয়ার, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক সুজন শেখ, রিডিং রুম সম্পাদক শিবলী নুমান উপস্থিত ছিলেন৷

‘বর্ণ পরিচয়’ -এর বিষয়ে বিজয় একাত্তর হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) সজিবুর রহমান বলেন, আমাদের হলের ক্যান্টিনে এবং মেসে অনেক বাচ্চা ছেলেরা আছে যারা জীবিকার তাগিদে এখানে এসে কাজ করে। তাদের অনেকের অক্ষরজ্ঞান একেবারেই নেই আবার অনেকে আছে অল্প কিছু পড়াশুনা করেছে কিন্তু প্রাইমারী লেভেল শেষ না করেই তাদের পড়াশুনা ছেড়ে দিতে হয়েছে। আমরা হল সংসদ সবসময় চেয়েছি এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকতে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের এ উদ্যোগ।আমাদের এই কাজটি চলমান রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান নিশান বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার যে নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় সেই স্বপ্ন প্রত্যয়ের খুব কাছাকাছি এসে আমরাও বিজয় ৭১ হল সংসদ চেষ্টা করেছি আমাদের হলকে নিরক্ষরমুক্ত হল করতে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা হলের কাজ করে এমন নিরক্ষর শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আলো দেখাতে ‘বর্ণ পরিচয় ‘নামক স্কুলের প্রতিষ্ঠা করেছি। দেশের সকল মানুষ হোক নিরক্ষরমুক্ত এই আশাবাদ ব্যক্ত করি ও সামাজিক কাজে নিজেদেরকে বেশি করে এগিয়ে আসার অনুরোধও জানান তিনি।

‘বর্ণ পরিচয়’-এর তত্ত্বাবধায়ক রেজাউল হক রাইয়ান বলেন, আমরা দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। কিন্তু আমরা দেখি আমাদের আশেপাশেই অনেক মানুষ আছে যারা নিজের নামটাও লিখতে পারে না। জীবিকার তাগিদে এসব মানুষ হয়তো ক্যান্টিন/মেসে কাজ করছে।কিন্তু তাদেরও শিক্ষার অধিকার রয়েছে । ঢাবির একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এটি আমরা অস্বীকার করতে পারি না।

এই বিষয়টি মাথায় রেখেই ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, অক্ষর জ্ঞান আমার অধিকার’- স্লোগান কে সামনে নিয়ে বিজয় একাত্তর হল সংসদ “বর্ণ পরিচয়” স্কুলের কার্যক্রম শুরু করেছে। আজ থেকে স্কুলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।

তিনি আরোও বলেন, আমরা হল সংসদের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বই খাতা সরবরাহ করছি।হলের শিক্ষার্থীরাই প্রতিদিন ক্লাস নিবেন। এর মাধ্যমে একটি ছেলেও যদি অক্ষরজ্ঞান লাভ করে এটিই আমার স্বার্থকতা।

বর্ণ পরিচয়ের এই কার্যক্রম প্রতিদিন বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত চলবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে বিজয় একাত্তর হল প্রতিষ্ঠিত হয়। গত বছরের ডাকসু নির্বাচনে হল সংসদে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত