শিরোনাম
◈ অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ, ১৭ ব্যাংক দেবে ৪১ হাজার কোটি ◈ আগস্টের ২৬ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২.৩ শতাংশ ◈ ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি ◈ আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন দেখভালের দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ ◈ এবার সংসদীয় কমিটি থেকেও বাদ পড়লেন গাজী নজরুল ইসলাম ◈ সংসদে বিল উত্থাপন : গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ◈ বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদক হলেন কাদের গনি চৌধুরী ◈ গত বছরের তুলনায় কমেছে খুন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতা: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল, নভেম্বরে ভোট: সিইসি ◈ গঙ্গা চুক্তি নবায়ন ও তিস্তা প্রকল্পে অগ্রগতি: সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কৌশলগত বার্তা

প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর, ২০২৫, ০৭:২১ বিকাল
আপডেট : ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে নর্দমার পঁচা পানিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শতাধিক পরিবার, ছড়াচ্ছে রোগবালাই

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে নর্দমার পঁচা পানিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শতাধিক পরিবার ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি নর্দমায় দীর্ঘদিনের পঁচা পানি থেকে সৃষ্ট মশা ও পোঁকায় ডেঙ্গু আতঙ্কে দিন কাটছে সেখানকার বাসিন্দাদের, ছড়িয়ে পড়ছে রোগবালাই। এমনকি বৃষ্টি হলে বাসাবাড়িতে ময়লাযুক্ত পানি উঠে যাওয়াসহ তলিয়ে যায় একমাত্র সড়কটিও। ফরিদপুর পৌরসভার ২২ নং ওয়ার্ডের কমলাপুর এলাকায় এমন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই এলাকার শাহ পাগলা সড়ক সংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃতি রয়েছে নর্দমাটি। নর্দমা সংলগ্ন রয়েছে শেখ শাহাবুদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শেখ শাহাবুদ্দিন জামে মসজিদ। চারপাশে শতাধিক বাসিন্দাদের বসবাস, গড়ে উঠেছে একাধিক বহুতল ভবন। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে দীর্ঘদিন যাবৎ পানি জমে পঁচা দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে পয়ঃবর্জ্যও নর্দমাটিতে এসে জমা হচ্ছে। সেখানে জমে থাকা পঁচা পানি থেকে জন্ম নিচ্ছে মশা সহ পোকামাকড়। এছাড়া এলাকাটির অন্তত পাঁচটি স্থানে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন মান্নি অভিযোগ করে বলেন, “এটি ছিল একটি বড় ড্রেন বা খাল। কালের পরিক্রমায় কিছু অসাধু লোকজন, যারা সমাজ সভ্যতা কিছুই তোয়াক্কা করে না, তাঁরা দখল করে খালটি বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে পঁচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, এডিস মশার উৎপত্তিস্থলে পরিণত হয়েছে। যার পাশে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে, মসজিদের মুসল্লিরা ময়লা পানি ডিঙিয়ে মসজিদে যাচ্ছে। এই এলাকার প্রতিটি ঘরে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে, মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর এমন পরিবেশের বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দীর্ঘদিন যাবৎ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের। যার কারণে নানা রোগসহ ডেঙ্গুও ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাটিতে। তাঁরা অতিদ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। 

নর্দমাটিতে ড্রেন নির্মাণের দাবি জানিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এমদাদুল হক এমদাদ। 

তিনি বলেন, “এই নর্দমা থেকে সৃষ্ট মশার উৎপাতে স্থানীয়রা ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিগত দিনে এই নর্দমায় একটি বাচ্চা পড়েও মারা গেছে। আমি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে ড্রেন নির্মাণের দাবি জানাই। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে আমাদের মুক্ত করা হোক।” এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের নানা দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক ও ফরিদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সোহরাব হোসেন বলেন, “এলাকাবাসী পূর্বে পৌরসভাকে অবগত করেছে কি-না সে বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে এলাকাবাসী পুনরায় অবগত করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশকনিধন অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

  • সর্বশেষ