শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ০৯:১৩ সকাল
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ০৯:১৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হযরত লিঙ্গভেদ মুক্ত সম্বোধন, বাংলায় জনাব একই অর্থে ব্যবহৃত

হুমায়ুন আইয়ুব: ২)  حضرة ‘হযরত’ আরবী শব্দ। অর্থ নৈকট্য, নেতা, জনাব, সম্মানসূচক উপাধি, সম্মানিত ব্যক্তি, আশ্রয়স্থল ইত্যাদি।-(ফীরোযুল লুগাত (উর্দূ)।

৩) সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য তাঁদের নামের শুরুতে হযরত, জনাব ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। যেমন, হযরতুল উস্তায/আদ-দাকতূর, হযরতুল মুহতারাম ইত্যাদি (মু‘জামুল লুগাতিল আরাবিইয়াহ আল-মু‘আছারাহ ১/৪০১, ৫১৪)।

৪) আরবী ভাষায় হযরত শব্দের ব্যবহার বহূ পূর্ব থেকেই চালু আছে। ইমাম যাহাবী, হাফেয ইবনু কাছীর রহ. প্রমুখ বিদ্বানগণ সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে এ শব্দ ব্যবহার করেছেন। - (সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ১০/৫৫২, আল-বিদায়াহ ১৩/২৬১)।

৫) ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, প্রত্যেক দেশের প্রচলিত সর্বোচ্চ সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। যেমনটা আরব দেশে উপনাম দিয়ে ডাকাকে সম্মানসূচক মনে করা হত। যেমন, আবুল ক্বাসেম, আবু হুরায়রা, আবু হাফছ ইত্যাদি। বর্তমানে সেখানে শায়েখ, সাইয়্যেদ, বহুবচনে সাদাত, সাইয়েদাত ইত্যাদি বলা হয়। এছাড়া ইংরেজীতে ইয়োর অনার, হিজ ম্যাজেস্টী, ইয়োর এক্সেলেন্সী এবং জাপানে সান, সামা, চ্যান ইত্যাদি। একইভাবে আমাদের উপমহাদেশে জনাব, হযরত, হুযুর, মাওলানা ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়।এটা নবীদের ক্ষেত্রেই শুধু ব্যবহৃত এটা ভুল।

৬) আমরা বাংলায় জনাব বলতে যা বুঝাই হযরত অর্থও তা’ই। এটা নারী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। স্বাভাবিক অর্থে হযরত একটি ধর্মীয় শব্দ হিসেবেই পরিচিত। সেটা কেবলই সম্মানার্থে যে ব্যবহার না হয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে ব্যবহার হয় সেটা জানার একটি অন্যতম কারণ হল, আমাদের বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে কেবলই ইসলাম ধর্ম সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনদের নামের আগে হযরত শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

৭) ভাবগতভাবে হযরত শব্দটির বেশ কয়েকটি প্রতিশব্দ বা ভিন্নার্থ আছে। বিশেষকরে নবী রাসূলগণের নামের আগে যখন হযরত শব্দটি ব্যবহৃত হয় তখন তা ধর্মপ্রচারক হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে বলে ভাষাবিদ এবং সাবেক কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান তাঁর যথাশব্দ গ্রন্থে বলেছেন।

৮) আবার অন্য অর্থ বুঝতে গিয়ে এই শব্দের অর্থ তিনিই আবার বলছেন আদেশকর্তা বা প্রভু। হযরত শব্দের যথাশব্দ হিসেবে তিনি রাজা অধিনায়ক প্রতিপালক সম্রাট সুলতানসহ এ ধরনের অনেক শব্দ ব্যবহার করেছেন। অভিজন বা অভিজাত শ্রেণী হিসাবেও হযরত শব্দটিকে চিহ্নিত করেছেন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

৯) তুরস্ক এবং বসনিয়া অঞ্চলের হাযরিতি শব্দ থেকেই হযরত শব্দটির উৎপত্তি এবং সে সময় কেবল নবী রাসূলদের নামের আগেই এই শব্দটি ব্যবহার হত। ধারণা করা হয়, কেবল দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল ছাড়া আর কোথাও কোন ইসলামি প্রবক্তার নামের আগে হযরত শব্দটি ব্যবহার হয় না। অঞ্চলগত কারণে আমাদের এখানে এই হযরত শব্দটি হয়তোবা সম্মানিত বা মাননীয় অর্থে ব্যবহার করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়