প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পশ্চিমা বিশ্বের ব্রেকাপ শব্দটা আমাদের সংস্কৃতিতে খুব ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে

 

আরিফ মাহবুব : বিয়ে হলেই কী আর না হলেইবা কীÑ পশ্চিমা বিশ্বের ব্রেকাপ শব্দটা আমাদের সংস্কৃতিতে খুব ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে। বহু বছর আগে এই ব্রেকাপ শব্দটা নিয়ে পর্দার আড়ালেই যতো ফুসুরফাসুর শুনতাম, অন্তত লোকসমাজে বিষয়টি নিয়ে কেউ তেমন একটা উচ্চবাচ্য করতো না।

ইদানীংকালে ওই বিয়েশাদী হলো কী হলো না, ছেলেমেয়েরা কিন্তু বন্ধুদের আসরে খুবই অনায়াসে বলে ফেলছে, ‘জানিস পটলার সঙ্গে না আমার ব্রেকাপ হয়ে গেছে’। ও আচ্ছা আপনারা যারা একটু সেকেলে তারা নিশ্চয়ই ওই ব্রেকাপ শব্দটার মাথা কী মু-ু কিছুই ধরতে পারছেন না, যাক আমি না হয় একটু বুঝিয়ে দিচ্ছি, ব্রেকাপ হচ্ছে দুজন মানুষের মাঝে প্রেম বা ভালোবাসার যে সম্পর্ক সেটার বিচ্ছেদ। আধুনিক যুগে ব্রেকাপের কিছু নমুনা থাকে, এর মাঝে হতাশাজনিত কারণে একধরনের ব্রেকাপ ঘটে, যেমন ধরুন মেয়েটি পটলাকে বলছে, ‘জানো পটলা, আসলে আমার আর তোমার মাঝে কোনো ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি না, এভাবে আসলে দুটো জীবন একসঙ্গে চলতে পারে না’। একধরনের ব্রেকাপ হচ্ছে অস্থিরতায় ব্রেকাপ, কারণ ছেলেটি কেমন যেন একটু ভাবুক আর মেয়েটি হয়তো খানিক চঞ্চল। তাই এখানেও একধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। যেমন : ধরুন ‘জানো পটলা, আসলে আমাদের দুজনার জীবনে আজকাল তেমন কোনো স্পিড নেই তোমার সঙ্গে জীবনটা খুবই চার্মল্যাস হয়ে যাচ্ছে’। এবার আসুন যুগলদের মাঝে সিদ্ধান্তহীনতা ও ব্যক্তিত্বহীনতার বিষয়ে একটু আলোচনা করে দেখা যাক সেখানে ব্রেকাপে কী বলা হচ্ছে। ‘জানো পটলা, আমি আসলে ঠিক তোমাকে ঠকাতে চাই না, আমার মনে হয় আমি তোমাকে ঠিক আগের মতো ভালোবাসতে পারছি না, সত্যি কথা বলতে কী জানো পটলা, দোষটা আসলে তোমার নয়, দোষটা আমার নিজের’। খুবই সততার মাঝে ব্রেকাপে ক্ষতির চাইতে জীবনে নতুনভাবে উঠে দাঁড়ার অনুপ্রেরণা থাকে বেশি। যেমন : ধরুন ‘পটলা শোনো, তোমার জন্য আমার ভালোবাসা নেই, তুমি অন্য কাউকে খুঁজে নিয়ে একটা সুন্দর জীবন রচনা করবে এটাই আমি চাই, আমাদের কিছুদিন আলাদা থাকা উচিত’। এও জানি আমাদের সমাজে অনেকেই এ সব পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবকে ছ্যাঁ ছ্যাঁ ছ্যাঁ বলে ধিক্কার জানাবেন, কটাক্ষ করবেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন।

সোজা কথায় ব্রেকাপ নিয়ে যে বিষয়গুলো আলোচনা করলাম সেগুলো সম্ভব শুধু যে সমাজে নারী-পুরুষের অধিকার সমান, কেউই কারও উপর অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল নয়, যেখানে মানুষ সামাজিক কুসংস্কারমুক্ত পরিবেশে নিজেদের জীবনকে মুক্তভাবে সাজাতে জানে। প্রেম-ভালোবাসা বিষয়টি হচ্ছে স্বর্গীয় সুখ, যারাই প্রেম-ভালোবাসা পেয়ে জীবনে সুন্দর একটা সংসার সাজাতে পারেন তারা সত্যি ভাগ্যবান। সমাজের মানুষগুলো যখন বিয়ে নামক প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে আবদ্ধ হয়ে প্রেম-ভালোবাসাহীন নরকের সংসার সাজাতে ব্যস্ত তাদের মাঝে ব্রেকাপ বা বিচ্ছেদ সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সবচাইতে উত্তম ব্যবস্থা, সন্তানদের যদি প্রেম ভালোবাসায় পূর্ণ একটি সংসারে মানুষ করতে না পারি তবে বিবাহ নামক প্রাতিষ্ঠানিক সংসারের খুব একটা প্রয়োজন আছে কী? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত