প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কেন্দ্রে-কেন্দ্রে আ.লীগ, কোথাও নেই বিএনপি

বাংলা ট্রিবিউন : বাংলামোটরে খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে ২১নং ওয়ার্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বিজয়ের ‘ভি’ চিহ্ন দেখাচ্ছেনশুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ১০টা। নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ইস্কাটন গার্ডেন। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে মহানগরীর প্রশস্ত রাস্তাগুলোয় গাড়িঘোড়ার আনাগোনা কম, দোকানপাটগুলো বন্ধ হতে শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে তরুণ-যুবকদের অবস্থানে গমগম করছিল ডিএসসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র ‘ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কটি। কথা বলে জানা গেলো, তারা ওয়ার্ডের ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুস সালামের সমর্থক এবং তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার এক সমর্থক জানালেন, পরিবেশ শান্ত ও প্রতীক্ষা কেবল সকালের- শনিবার যেন তাদের কাছে পরম আরাধ্য।
বাংলামোটরে খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান কুশল বিনিময় করছেন স্থানীয় আ. লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গেশুক্রবার রাত ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদকদের সরেজমিন তথ্য বলছে, ডিএসসিসি’র ইস্কাটনের মতো শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, মোহাম্মদপুর, কাঁঠালবাগান, বাংলামোটর এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোর আশেপাশে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপস্থিতি ছিল প্রতিটি কেন্দ্রেই। তবে প্রতিবেদকদের পাওয়া তথ্যমতে, কোথাও বিএনপি বা অন্য কোনও দলের প্রার্থীদের অবস্থান দেখা যায়নি। এছাড়া কোনও- কোনও এলাকায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও কর্তব্যরত দায়িত্বশীলদের উপস্থিতি ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে বিএনপির মনোনীত দুই প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এদিন রাত ১০.৪০ মিনিটে ডিএসসিসিতে দলের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভোট তো সকালে, রাতে আওয়ামী লীগের লোকেরা কেন কেন্দ্রে, তা কোনও পাঁয়তারা হতে পারে। আমরা খোঁজ নিচ্ছি- এখনও কোনও দুর্ঘটনার খবর পাইনি।’

শুক্রবার রাত ১০টায় ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে কথা হয় আওয়ামী লীগের তরুণ কর্মী মুনজুরুল আলম মুন্নার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ইস্কাটনের পরিবেশ খুব শান্ত। একটা উৎসব ভাব আছে। সবাই কাজ করার সুযোগ পেয়েছে আমাদের এলাকায়। বিএনপিও কাজ করেছে। আমরা আছি আবদুস সালামের পক্ষে।’ এ সময় তার সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অন্তত ২০-২৫ জন তরুণ-যুবক উপস্থিত ছিলেন।
এরপর কেন্দ্রের গেটে কথা হয় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে। জানালেন, স্কুলের ভেতরে দায়িত্বশীলরা রয়েছেন। সেখানে গিয়ে কথা হয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র চৌধুরীর সঙ্গে, তার সঙ্গেও ছিলেন কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। কোনও সমস্যার সম্ভাবনা নেই। আমরা সারারাত স্কুলেই থাকবো।’
ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিদ্রোহী প্রার্থী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুস সালামের সমর্থকরা
‘শাহবাগ থানায় দুটি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পড়েছে। ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রগুলো ঘুরে-ঘুরে দেখছি। এরমধ্যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও এই এলাকার আওতায় পড়েছে। এখন পর্যন্ত কোনও সমস্যার খবর পাইনি’ খোশমেজাজেই কথাগুলো বলছিলেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় বাংলামোটর এলাকায় খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পরিবেশ দেখতে এসেছিলেন তিনি।
বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে আবুল হাসান বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে আশা করি। পরিবেশ শান্ত আছে। এখনও কোনও অঘটনের তথ্য পাইনি।’

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কথা জানান ২১নং ওয়ার্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনও। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কুশলপর্ব শেষ করে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমরা নৌকার প্রার্থী ফজলে নূর তাপসের হয়ে কাজ করছি। ভোট সুষ্ঠু হলে নৌকার প্রার্থী জয়ী হবে বলে আশা করি।’
ইভিএমে কারচুপির সুযোগ আছে বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছে- এমন প্রশ্নের জবাবে জাকির হোসেন বলেন, ‘ইভিএমে কারচুপির সুযোগ নেই। সবাই যেন নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারে এজন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা এই নির্দেশনা পালন করতে কাজ করছি।’
রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি এলাকার কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, এই এলাকার ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের অবস্থান ছিল।
সিটি কলেজের সামনের দৃশ্য সিটি কলেজের সামনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় ১০-১৫ জন নেতা-কর্মীদের মধ্যে কামাল নামে একজনের সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। কামাল বলেন, ভেতরে থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা দেখতে গিয়েছেন, আমরা বাইরে অপেক্ষা করছি। কেউ যাতে কেন্দ্র দখল বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আমরা রাতভর কেন্দ্রের পাশে থাকবো।’
উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচশ’র মতো বহিরাগতকে দিয়ে নির্বাচনি কেন্দ্রগুলোতে হট্টগোল পাকিয়ে বিএনপি নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা করছে। এ কারণে আমরা সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছি, যেন জনগণ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। এ বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

সিটি কলেজের মতো জিগাতলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান ছিল। কেন্দ্রের ভেতরে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানান, বাইরে লোকজন আছে। কিন্তু ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
মোহাম্মদপুরের গ্রাফিক্স আর্ট ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রের সামনে প্রধান ফটকের ভেতর পুলিশ ও নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন। বাইরে ব্যানার টাঙানো কাজে ব্যস্ত ছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
এদিকে ফাঁকা চিত্র দেখা গেছে মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে। গেটের ভেতরে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করলেও বাইরে সুনসান নীরবতা। একই চিত্র দেখা গেছে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল কলেজের সামনে।
সেগুনবাগিচা এলাকার একটি বিদ্যালয় কেন্দ্র রাজধানীর কাঁঠালবাগান বাজার এলাকায় নিউ জুনিয়র আইডিয়াল স্কুলকেন্দ্রের নিচতলায় পুলিশ সদস্যদের দেখা মিললো। কেন্দ্রের সামনে লোকজনের উপস্থিতি না থাকলেও একটু পূর্ব দিকে এগিয়ে গেলেই স্থানীয় কমিশনারের কার্যালয় ঘিরে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় ছিল। কেন্দ্রের নিচতলায় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য জানালেন, এখন পর্যন্ত কোনও সমস্যা হয়নি। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক আদিত্য রিমন জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সেগুনবাগিচায় দুটি কেন্দ্রে কোনও প্রার্থীর লোকজনকে দেখা যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বে ছিলেন।
বাংলা ট্রিবিউনের নিজস্ব প্রতিবেদক শাহেদ শফিক জানান, খিলগাঁও মডেল কলেজ, মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজসহ কয়েকটি কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের লোকজন দেখা গেলেও প্রার্থীর পক্ষে কাউকে দেখা যায়নি।

ফার্মগেটে তেজগাঁও এলাকায় বসবাস করেন ছাত্রদলের এক নেতা। রাত পৌনে ১১টার দিকে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘কোনও এলাকাতেই বিএনপির লোকজন নেই। কেমনে থাকবে, সংগঠনই তো নেই। এই যে, আজকে রাতে আওয়ামী লীগের লোকজন উপস্থিত আছে, আমাদের থানায় তো প্রত্যেকটি কেন্দ্রে সরকারি দলের ছেলেরা আছে, কিন্তু বিএনপির কেউ নেই। এটা হচ্ছে সংগঠন না থাকার কারণে। এমনকি কমিশনার প্রার্থীদেরকেও পাওয়া যায় না।’
ছাত্রদলনেতার মুখে এমন হতাশার কথা শোনা গেলেও ডিএসসিসিতে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ভোট হবে সকাল থেকে। রাতে কেন থাকবে লোকজন? ক্ষমতাসীন দলের যারা আছে, তাদের পাঁয়তারা কেন? রাত বাড়লে হয়তো আরও খারাপ খবর পাবো।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে ডিএনসিসি’র বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ফোন রিসিভ করেননি। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের অভিযোগ, ‘গত দু’দিন ধরেই আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত