শিরোনাম
◈ পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলা‌দেশ ওয়ানডে দলে লিটন ও আফিফ ◈ মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় প্যানিক, সন্ধ্যা থেকেই তেল নেই অনেক পাম্পে ◈ পুনরায় চালু হচ্ছে বন্ধ থাকা ৭টি পাটকল ◈ মাঝ আকাশে নিখোঁজ ভারতের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ◈ এয়ারপোর্ট ও বুর্জ খলিফা টাওয়ার ধ্বংসের ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল ◈ জয়ের ফাঁস করা তালিকায় শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ নায়িকা ◈ চলছে তালিকা তৈরির কাজ, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ অভিযান ◈ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন: থামাতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই বিশ্ব শক্তির ◈ খামেনির ছেলেকে পছন্দ নয়, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে চান ট্রাম্প ◈ দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও পরিকল্পনায় ইবি শিক্ষিকা খুন—স্বামীর মামলায় ৪ আসামি

প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী, ২০২০, ০৫:৫৯ সকাল
আপডেট : ৩১ জানুয়ারী, ২০২০, ০৫:৫৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গ্রাহকের শত কোটি টাকা নিয়ে উধাও দেড়শতাধিক কো-অপারেটিভ প্রতিষ্ঠান

বাংলা ট্রিবিউন : কুমিল্লায় দেড়শতাধিক সমবায় এবং কো-অপারেটিভ প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। অধিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত হিসেবে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে এইসব প্রতিষ্ঠান। পরে কয়েক মাস মুনাফার লোভ দেখিয়ে পরবর্তী সময়ে পুরো টাকাই আত্মসাৎ করে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

তাদের অভিযোগ, আইসিএল, আইডিএল, রুরাল (আরসিএল), এফআইসিএল, এফআইবিএল (প্রিভেল), মাল্টিভিশন, গ্লোবাল, রাজগঞ্জ প্রাইম, বন্ধন, সেমা ও সেটেলেসহ দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার গ্রাহককে প্রতিশ্রুতির ফাঁদে ফেলে শতা কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তারা আইসিএল, আইডিএল, আরসিএল, এফআইসিএলসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ-আত্মসাতের অভিযোগ তুলে শতাধিক মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলায় হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও অর্থ আত্মসাৎকারী রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

কুমিল্লা জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, কুমিল্লা জেলায় ছোট, বড় ও মাঝারি ধরনের তিন হাজার ২০০টি সমবায় ও কো-অপারেটিভ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার মধ্যে গ্রাহকের অভিযোগ যাচাই-বাছাই এবং সরেজমিনে গিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় ১৩০টি সমবায় এবং কো-অপারেটিভ ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের টাকা আমানত নিয়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুনাফা দিচ্ছে না।
এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ১৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইসিএল, আইডিএল, আরসিএল, এফআইসিএল, এফআইবিএল (প্রিভেল), মাল্টিভিশন, গ্লোবাল, রাজগঞ্জ প্রাইম, বন্ধন, সেমা ও সেটেলেসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তালা লাগিয়ে গ্রাহকের আমানতকৃত টাকা আত্মসাৎ করে পালাতক রয়েছে। তাদের এসব প্রতারণায় শিকার হয়ে গত ২০১৩ সাল থেকে হাজারও মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন।
সাধন ভৌমিক একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের কোয়ার্টারের বাসিন্দা তিনি। অধিক মুনাফার প্রতিশ্রুতিতে রুরাল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. (আরসিএল) নামে একটি সমবায় প্রতিষ্ঠানকে জমি বিক্রি করে ৩০লাখ ৫৭ হাজার টাকা আমানত দিয়েছিলেন। গত ২০১৩ সালের ২ মার্চ থেকে বিভিন্ন কিস্তিতে রুরাল কো-অপারেটিভের নগরীর কান্দিরপাড় ব্রাঞ্চে এই টাকা আমানত রাখেন।
সাধন ভৌমিকের দাবি, তিনি রুরাল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. (আরসিএল) এর কাছে আসল এবং মুনাফাসহ ৫৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা পাওনা।
তিনি অভিযোগ করেন, রুরাল কো-অপারেটিভের কান্দিরপাড় ব্রাঞ্চের কর্মকর্তা ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শাহজাহান এবং জেনারেল ম্যানেজার আবু রায়হান তার আমানতকৃত টাকাসহ অন্যান্য গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শাহজাহান এবং রায়হানের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলা সমবায় কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। ২০১৭ সালে জেলা সমবায় কর্মকর্তারা তদন্ত করে সালিশির মাধ্যমে ডিরেক্টর শাহজাহান ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং ম্যানেজার ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধের কথা বললেও তিন বছর পার হয়েছে কিন্তু টাকা আদায় হয়নি। জেলা সমবায় কর্মকর্তা ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার জন্য বলছেন।
শুধু সাধন ভৌমিক নয় আমানতকৃত অর্থ হারিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন রুরাল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. (আরসিএল) এর গ্রাহক মো. জামশেদ ও খোরশেদ আলম নামে আরও দুই ব্যক্তি। সাধন ভৌমিকের মত তাদেরও একই অভিযোগ।
এ ব্যাপারে ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শাহজাহান এবং জেনারেল ম্যানেজার আবু রায়হানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার ফোনে চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সহযোগিতার বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘রুরাল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. (আরসিএল) ছাড়াও আইসিএল, আইডিএল, এফআইসিএল, এফআইবিএল’র (প্রিভেল) মত বড় বড় অর্ধশতাধিক কো-অপারেটিভ গ্রাহকের আমানতকৃত অর্থ নিয়ে কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন। গ্রাহকের কথা চিন্তা করে ওই সব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলও করা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা আমাদের সহযোগিতার জন্য আসলে সালিশির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি। কিন্তু অভিযুক্তরা আমাদের কথা না মানলে অভিযোগকারীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ ছাড়া কিছুই করার থাকে না। এই পর্যন্ত ২৫ জনের বেশি ভুক্তভোগী গ্রাহককে অর্থ উদ্ধারে মামলায় সহযোগিতা করেছি।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়