প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এই মূহুর্তে লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের না যাওয়ার পরামর্শ দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক : লিবিয়াতে অবশ্যই কেউ এখন যাবেন না, যে যাই বলুক, কোন ভাবেই এই মূহুর্তে লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ৮ থেকে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লেবাননে অবৈধভাবে বসবাস করায় জরিমানার কবলে পড়েছেন প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশি।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ত্রিপলীর চলমান যুদ্ধের কারণে আটকে পড়া এবং দেশে ফেরার জন্য দূতাবাসে নিবন্ধনকৃত ১৪৮ জন প্রবাসীকে লিবিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধানে এবং আইওএম এর সহয়তায় একটি চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে।

এদের মধ্যে ত্রিপলীর যুদ্ধে মারাত্মকভাবে আহত ২ জন প্রবাসীসহ ৯ জন অসুস্থ বাংলাদেশী নাগরিক ছিলেন। এছাড়া ত্রপলীর যুদ্ধে নিহত চারজন প্রবাসীর মৃতদেহসহ মোট পাঁচজন বাংলাদেশী নাগরিকের মৃতদেহও প্রেরণ করা হয়েছে।

ত্রিপলীর যুদ্ধ কবলিত এলাকায় আটকে পড়া প্রবাসীদের ইতোপূর্বে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর পূর্বক আইওএম-এর সাথে তাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দূতাবাস হতে লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হতে এ সকল প্রবাসীর অনুকূলে বহির্গমন ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় অনুমতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে ত্রিপলীর মেতিগা বিমানবন্দরে বারংবার বোমা হামলার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় চার্টার্ড ফ্লাইটটি ত্রিপলী হতে ২২০ কি.মি. দূরবর্তী মিসরাতা বিমানবন্দর হতে পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসের দেয়া তথ্যমতে, ৪০ হাজারের মতো অবৈধ বাংলাদেশি রয়েছেন লেবাননে। ফেরার ইচ্ছা থাকলেও বিপুল অংকের জরিমানার কারণে তারা দেশে ফিরতে পারছেন না। দেশটির আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে অবস্থান করা কর্মীরা দেশে ফিরতে চাইলে প্রতি বছরের জন্য পুরুষদের ২৬৭ ডলার এবং নারী কর্মীদের ২০০ ডলার জরিমানা দিতে হয়। সেই সঙ্গে বিমান ভাড়ার অর্থও ওই কর্মীকে বহন করতে হয়।

সে হিসেবে একজন কর্মী যদি পাঁচ বছর অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করেন, তাকে দেশে ফিরতে হলে জরিমানা বাবদ ১ হাজার ৩৩৫ ডলার (প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা) পরিশোধের পাশাপাশি বিমান ভাড়াও জোগাড় করতে হয়। যদিও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ অর্থ জোগাড় করা প্রায়ই অসম্ভব।

দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ ক্ষমায় অবৈধ বাংলাদেশীদের দেশে ফেরার বিশেষ সুযোগ দেয় লেবানন সরকার। বিশেষ ওই সুযোগে একজন শ্রমিক যত বছরই অবৈধভাবে থাকুন না কেন, তাকে শুধু এক বছরের জরিমানার অর্থ (পুরুষদের জন্য ২৬৭ ডলার ও নারীদের জন্য ২০০ ডলার) ও বিমান টিকিটের টাকা জমা দিয়ে দেশে ফিরতে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়।

দূতাবাস বলছে, লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটি বিভাগ ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিতে কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই। গত বছর তিন ধাপে দূতাবাস অবৈধ প্রবাসীদের নাম নিবন্ধনের সুযোগ দেয়। যার প্রথমটি গত বছরের সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয়টি নভেম্বর ও তৃতীয় ধাপটি ডিসেম্বরে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লেবাননে অস্থিরতার কারণে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে নাম নিবন্ধনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

এসব অবৈধ শ্রমিকদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস মাত্র তিনদিন (১৫, ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর) সুযোগ দেয়। ওই তিনদিনে মাত্র আড়াই হাজার অবৈধ প্রবাসী তাদের নাম নিবন্ধনের সুযোগ পান। তাদের মধ্যে প্রাথমিক ধাপে ৪৫০ বাংলাদেশি দেশেও ফিরেছেন। বঞ্চিত হন অন্তত ৪০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি।

জনশক্তি রফতানি ও কর্মসংস্থান উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, লেবাননে ১৯৯১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার বাংলাদেশি কর্মী গেছেন। তাদের মধ্যে নারী কর্মী গেছেন ১ লাখ ৭ হাজার। দেশটিতে ২০১৭ সালে ৮ হাজার ৩২৭ জন, ২০১৮ সালে ৫ হাজার ৯৯১ ও ২০১৯ সালে ৪ হাজার ৮৬৩ জন বাংলাদেশি গিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে লেবাননের অর্থনীতি এখন খুবই নাজুক সময় পার করছে। দেশটি এখন ঋণের ভারে জর্জরিত। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে গত অক্টোবরে পদত্যাগে বাধ্য হন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী। আর্থিক সংকট মোকাবেলায় ব্যয় সংকোচনের নীতিও বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে দেশটি।

যার ধারাবাহিকতায় বেতন-ভাতা কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হচ্ছে অভিবাসী শ্রমিকদের। এ অবস্থায় লেবানন থেকে দেশে ফিরতে চাইলেও জরিমানার অর্থ পরিশোধের ব্যর্থতায় আটকা পড়েছেন অন্তত ৪০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত