প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকার ১৫৯৭ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

আমাদের সময়: ঢাকার দুই সিটিতে ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) ভোটকেন্দ্র ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে পুলিশ। এ কেন্দ্রগুলোর দিকে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও বাড়তি নজর থাকবে। ঢাকার দুই সিটিতে মোট ২৪৬৮ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫৯৭টি ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও পুলিশ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বলছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১১৫০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮৭৬টি ভোটকেন্দ্র হলো ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ)। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৩১৮ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৭২১টি ভোট কেন্দ্র হলো ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ)। এ হিসাবে উত্তর সিটিতে ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি। নির্বাচন কমিশন বলছে, তাদের হিসাবে দুই সিটিতে মাত্র ১৮টি কেন্দ্র হলো ঝুঁকিপূর্ণ।

পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার কী ভূমিকা থাকবে সে পরিকল্পনা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি ভোটের দিন, আনসার, র‌্যাব, বিজিবি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২০ সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২২ সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানে ঢাকার দুই সিটির ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের খাতায় ঝুঁকিপূর্ণ বলে কোনো কেন্দ্র নেই। দুধরনের কেন্দ্র আছে। সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ভোটার সংখ্যা, ভোটকেন্দ্রের ভৌগলিক অবস্থানসহ আরও বেশ কিছু বিষয় মাথায় রেখেই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

উত্তর সিটির ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাওলা সিভিল এভিয়েশন হাইস্কুল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ এবং বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা হস্কুলের ভোটকেন্দ্র খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে পুলিশ। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দুজন প্রার্থী। এদের মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর আনিসুর রহমান নাইম বিদ্রোহী এবং পনু মোল্লা আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী। গত কয়েক দিন ধরেই এ দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত লেগেই আছে।

ঢাকা দক্ষিণের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র, বদরুননেছা মহিলা কলেজ কেন্দ্র, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র, উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যানেক্স ভবন ভোটকেন্দ্র খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দেখছে পুলিশ। এ ছাড়া পুরান ঢাকার বংশাল, সূত্রাপুর, চকবাজারের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দারা বলছেন, কয়েকটি কারণে ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরাও একটি কারণ। ঢাকার বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা সক্রিয়। ভোটের দিন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা করছে। আবার কোনো কোনো কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে। যেসব কেন্দ্র এ ঝুঁকিতে রয়েছে, সেসব কেন্দ্রে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরামর্শ দিয়েছে গোয়েন্দারা।

পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের পাশাপাশি রাজধানীতে ভোট উপলক্ষে ঢাকা উত্তরে পুুলিশের ৫৪টি মোবাইল টিম এবং দক্ষিণে ৭৫টি মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৮টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও দক্ষিণ সিটিতে ২৫টি মোতায়েন থাকবে। রিজার্ভ ফোর্স থাকবে ঢাকা উত্তরে ২৭টি ও দক্ষিণে ২৫টি। ঢাকা উত্তর সিটিতে বিজিবি ২৭ প্লাটুন ও দক্ষিণে ৩৮ প্লাটুন মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত