প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ওয়াসার পানিবাহি লরির ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত, বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নেমে এলো শোকের ছায়া

সুজন কৈরী : এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার ওয়ারি উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীদের জন্য বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলো। এজন্য সোমবার সকাল থেকেই পরীক্ষার্র্থীরা দল বেধে সংবর্ধনায় যোগ দিতে স্কুল প্রাঙ্গনে যেতে শুরু করে। উচ্ছাস আনন্দ করাসহ নেচে গেয়ে পুরো স্কুল মাতিয়ে তুলছিলো শিক্ষার্থীরা। এমন সময় খবর ছড়িয়ে পড়ে তাদের সহপাঠি মো. আবীর হোসেন (১৫) গাড়ির ধাক্কায় মারা গেছে। মূহুর্তেই আনন্দ উৎসবের মধ্যে বিষাদের ছায়া নেমে আসে।

সোমবার সকালে এসএসসি পরীক্ষার্থী আবীর হোসেন ওয়াসার পানির লরির ধাক্কায় নিহত হয়। বলধা গার্ডেনের পানির পাম্পের পেছনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গাড়ি ও গাড়ির চালক চুন্নু মিয়াকে পুলিশ আটক করেছে। আবীর নিহতের ঘটনায় তার স্কুলের সহপাঠীরা বিচারের দাবিতে ওয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ফোল্ডার স্ট্রিটে গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এতে বেশ কিছু সময় যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল কুদ্দুসও চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। এ সময় স্কুলের সব কর্মসূচি বন্ধ রাখা হয়। পরে সেখানে আবিরের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল করা হয়।

আবিরের পারিবারিক সূত্র জানায়, পাঞ্জাবি ও পায়জামা পড়ে সকালে ৫৩/৪, জয়কালী মন্দিরের নিজের বাসা থেকে বের হয়ে স্কুলের দিকে যেতে থাকে আবীর। বলধা গার্ডেনের উত্তর পাশের গেটের সামনে ওয়াসার পানির পাম্প স্টেশন থেকে পানি নিয়ে বেপরোয়া গতিতে এসে ওয়াসার পানির লরি আবীরকে ধাক্কা দেয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে গেলে আবীরের মাথার উপর দিয়ে উঠে যায় লরির চাকা। এরপর আবীরকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কতর্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে আবিরের সহপাঠি ও এলাকাবাসী লরির চালক চুন্নুকে (৪৯) আটক করে পুলিশে দেয়।

পরিবার জানায়, আবিরের মা মিনু বেগম ১১ মাস আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আবীরের বড় ভাই ফয়সাল হোসেন পানিতে ডুবে পাঁচ বছর আগে প্রাণ হারায়। আবীরের বাবা হানিফ মিয়া পুরান ঢাকার নবাবপুরে খুচরা যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন। বড় ছেলের মৃত্যুর পর হানিফ মিয়ার তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ছিল আবির। বাকি দুই বোন লিমা আক্তার ও লিজা আক্তার আবিরের চেয়ে বড়।

লিমা আক্তার বলেন, আবীর আমাদের তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। সে এইবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। আমার ভাইকে যারা মেরে ফেলেছে তাদের ফাঁসি চাই। আরেক বোন লিজা আক্তার বলেন, মায়ের পর বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর পরিবারের সবাই ভেঙ্গে পড়েছে। ছোট ছেলেকে নিয়ে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল।

এদিকে ঢামেক মর্গে ছেলের নিথর দেহ দেখার পর বাবা ও বোনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। হানিফ মিয়া বলেন, ‘বড় ছেলের মৃত্যুর পর ছোট ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিলো তার। কিন্তু এখন আবিরও চলে গেলো। আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো।’ মাঝে মধ্যেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন।

ওয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘আবিরের মৃত্যু নিছক দূর্ঘটনা। আমরা জানতে পেরেছি ওয়াসার গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল। তার এই ঘটনার জন্য আমরা সবাই মারাত্মক ব্যথিত। আমরা স্কুলের পক্ষ থেকে চালকের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।’

ডিএমপির ওয়ারী জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরুল আমিন বলেন, আবির ও তার বন্ধু দুজন স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠানে আসছিলো। পথে ওয়াসার পানির গাড়ি (ঢাকা মেট্টো ঢ ১১-০১১৪) তাকে চাপা দেয়। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গাড়ি জব্দ ও গাড়ির চালককে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীকে দাফন শেষে তার বাবা বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় লরির চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত