শিরোনাম
◈ ভোররাতে ৫.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপলো সিলেট ◈ সীমান্তে ব্রিজ নির্মাণের চেষ্টা, বিজিবির বাধার মুখে নির্মাণাধীন ব্রিজ ফেলে পালাল বিএসএফ ◈ ২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য সেরা ২০ আন্তর্জাতিক গন্তব্য ◈ ১২ জানুয়ারি ঢাকায় আসছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ◈ গণভোটের প্রচারে সরকারের উদ্যোগ: জনগণকে জানাতে সকল বিভাগে বড় আয়োজন ◈ মোস্তাফিজের শেষ ওভারের ম্যাজিকে ঢাকাকে হারিয়ে রংপুরের শ্বাসরুদ্ধকর জয় ◈ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১৮৪২, বাতিল ৭২৩ ◈ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত পরিবর্তনে কূটনৈতিক উদ্যোগে মার খাচ্ছে ভারত ◈ গুমের পেছনে মূলত ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কমিশন ◈ দিল্লিতে বসে থাকা ‘বোন’ শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান: মোদিকে আসাদুদ্দিন ওয়াইসি

প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারী, ২০২০, ০১:৫৭ রাত
আপডেট : ২৭ জানুয়ারী, ২০২০, ০১:৫৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কেউ মারা গেলে পাঁঠার রক্তে মুড়ি মাখিয়ে খায় পাহাড়িরা!

মুসবা তিন্নি: পাহাড়িদের জীবনযাত্রা বরাবরই আকর্ষিত করে অন্যদের। তাদের সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে সবার মনেই রয়েছে কৌতূহল। কারণ তারা বেশ অদ্ভূতভাবে জীবনযাপন করে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের সংস্কৃতি ও রীতিনীতির সঙ্গে অন্যদের মিল পাওয়া যায় না। - ডেইলি বাংলাদেশ

ঠিক তেমনই পাহাড়িদের সমাজে কেউ মারা গেলে তাদের কীভাবে সৎকার করা হয় জানেন? প্রথমে তাদের বাড়ির উঠানে রেখে গোসল করিয়ে মৃতের পুরো শরীরে সরিষার তেল ও হলুদ মাখানো হয়। এরপর সাদা কাপড় পরানো হয়। মৃত ব্যক্তির সন্তানসহ চারজন বাঁশের মাচা বানিয়ে মৃতকে কাঁধে করে শ্মশানে নিয়ে যায়। সাথে থাকে গ্রামের মণ্ডল, তার হাতে থাকে ডিম ও পানি ভর্তি ঘট। কবরের পাশে নিয়ে রাখা হয় মৃতকে।

এরপর সেখানকার অধিবাসীরা যে যার মতো পয়সা দেয়। মৃত ব্যক্তির চোখে বটের পাতা দেয়া হয়। পূর্ব-পশ্চিমে কবর দেয়া হয়। মৃতের বড় ছেলে সুতায় আগুন ধরিয়ে লাশের মুখের উপর সাতবার ঘুরায়। কবর থেকে ফেরার পথে সবার আগে মণ্ডল একটি জায়গায় আগুন জ্বালায়। আর সেই আগুনের উপর দিয়ে সবাই হেঁটে যায়। এরপর সূচীকরণের উদ্দেশ্যে মণ্ডল ঘটের পানি ও ডিম সবার গায়ে ছিটিয়ে দেয়।

পরে সবাই মুড়ি ও হালকা পানীয় ভাগ করে খায়। মৃত্যুবরণের ৪০ দিন পর অথবা সাধ্য মতো দিনে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় মৃত ব্যক্তির নামে।এদিন আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশীরা সবাই শ্রাদ্ধে যোগ দেয় এবং সাধ্য মতো সবাই চাল, ডাল উপহার হিসেবে আনে। অনুষ্ঠানটির প্রধান ব্যক্তি ঠাকুর মশাই যিনি সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। তিনি কুঁড়ি কুটির নামক স্থানে গ্রাম প্রধান এবং শীর্ষসহ মন্ত্র পাঠ করেন। এসময় ধূপ জ্বালানো হয়, ১৮ টি বটের পাতা ও ডিমসহ সমস্ত পূজার জিনিসপত্র সাজানো হয়।

অতঃপর একটি পাঁঠাকে সিঁদুর মাখিয়ে তুলসি পাতা দিয়ে আশীর্বাদের পানি ছিটানো হয়। এসময় মৃত ব্যাক্তিকে স্মরণ করে সবাই তার নাম জপে। অন্যদিকে ঢোলের বাজনার সঙ্গে নৃত্য করে একজন। ভাবা হয়, মৃতের আত্মা বোধ হয় নৃত্য করা ব্যক্তির ওপর ভর করেছে! তখন সে অবিকল মৃত ব্যক্তির মতো আচরণ করে। এসময় তাকে মৃতের প্রিয়জনরা আদর করে। সেই ব্যক্তিই পাঁঠাটিকে বলি দেন। এরপর পাঁঠার রক্তে মুড়ি মাখিয়ে তিনি খান।

অতঃপর বলিকৃত পাঁঠার মাথা কুঁড়ি কুটিরে ঝুলিয়ে রাখা হয়। মাংস বা দর দিয়ে ভোজ প্রস্তুত করা হয়। রান্না চলাকালীন সময় আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসী হাড়িয়া পান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। প্রথমেই মৃত ব্যক্তির নামে কলা পাতায় কিছু ভাত উৎসর্গ করে। যারা মৃত ব্যাক্তির লাশ কাঁধে নিয়ে কবরে গিয়েছিল তারা একটি কলার পাতায় খায়। তারপর মণ্ডল খাওয়া শুরু করে অথবা সবাই মিলে একসঙ্গে খায়। মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তি কামনা করে চলে নৃত্য। সমস্ত দুঃখ বেদনাগত সমস্ত অতীত যেন ভুলিয়ে দেয় এই নৃত্য।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়