প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সীমান্ত হত্যা বাড়িয়ে বাংলাদেশের জনগণকে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলার কৌশল হাতে নিয়েছে মোদী-অমিত শাহ, তা বাস্তবায়ন করছে বিএসএফকে দিয়ে?

 

ফারুক আস্তানা : সীমান্ত হত্যা বাড়িয়ে বাংলাদেশের জনগণকে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলার কৌশল হাতে নিয়েছে মোদী-অমিত শাহ তা বাস্তবায়ন করছে বিএসএফকে দিয়ে। বাংলাদেশে সরকার সরাসরি ভোটের নয় এরপর এসেও জনসমর্থন নেই। ভোটের পরীক্ষায় ফাঁকিবাজি করে পার পেলেও পরবর্তীতে এসে জনগণ সর্মথনের প্রশ্নেও ব্যর্থ। তাহলে এতো ফাঁকিবাজি ও ব্যর্থতার মধ্যে আ’লীগ সরকারে থাকে কীভাবে এতে কারও না কারও কাছে তো মাথানিচু করতে হবে। দাদা মানতে হবে। মুরব্বি ধরে চলতে হয়। সেই তাগাদা থেকেই এতো বছর শেখ হাসিনা বিনা ভোটের সরকার ও জনগণ সর্মথন ছাড়া চলতে বা চালিয়ে নিতে মোদীদেরই মুরব্বি, দাদা বানিয়ে চলছিলো। তার ধারাবাহিকতায় মোদী সরকারই বিভিন্ন প্রশ্ন … থেকে নিরাপদ করছে।
দেশীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক পেশাজীবীদের এতো অমতে গিয়েও সরকার একলা চলেছিলো বা চলছে। আর যারা বেশি বলছে, তাদের দৃষ্টিতে সেসব লোকজনকে সরকার রাষ্ট্রীয় ও দলীয় বাহিনী দিয়ে হামলা, মামলা, জেল-জুলুমের মুখামুখি করছে। দেশের সরকার বিরুদ্ধ সব ব্যক্তি, গোষ্ঠী, দল এমনকি গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষদের উপর জুলুম করলেও সরকারের মনে কোনো টেনশন নেই কারণ আ’লীগের সঙ্গে ভারতের মোদী সরকার আছে। মনে থাকা দরকার ভারত ও বাংলাদেশে বিজেপি ও আ’লীগ একই ধরনের মনোভাব গতি নিয়ে হাঁটছে। বিরুদ্ধ শক্তিকে দেশের শত্রু বলে প্রচার করে দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠা করা।
সরকার ও ব্যক্তির সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখা এবং তা রাজনৈতিক বাস্তবায়ন করা। জনমতের তোয়াক্কা না করা। জনগণকে দলীয় ক্যাডার ও লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে পিটিয়ে দমিয়ে রাখার, মুখ বন্ধ করার চেষ্টা। রাষ্ট্র ক্ষমতা দমন-দখলের কৌশল এক হলেও। ভারতের নাগরিক পুঞ্জি বাংলাদেশ সরকার আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার টেনশন বাড়িয়ে দিয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যু যেভাবে আ’লীগ সরকারকে নিরাপদ করেছিলো ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশীয় শক্তিগুলো চাপা পড়ে গিয়েছিলো আর আন্তর্জাতিক মহলে সাড়া জাগানোর কাজ করেছিলো। সেখান মোদী সরকারের নাগরিক পুঞ্জি হাসিনার জন্য বড় চিন্তার বিষয়। রোহিঙ্গা নিয়ে আন্তর্জাতিক কমিউনিটিগুলোকে কাছে পেয়েছিলো আর অং সান সু চিও শেখ হাসিনার সরকার ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে দরকারী ব্যক্তি বিষয় দেশ ছিলো না। এনআরসির শুরুতে মন্ত্রীরা যে ভারত সফর বয়কট করে মোদীকে একটা ছোট মন খারাপের হালকা বার্তা দেওয়ার কৌশল নিয়েছে ‘নাগরিক পুঞ্জি’ বাংলাদেশ নিতে চায় না চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
সীমান্ত হত্যার ভয়াবহতা হাসিনাকে মোদী পাল্টা ফিরতি বার্তা। হতে পারে, মোদী বাংলাদেশের জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে দেওয়ার কৌশল হাতে নিয়েছে। অন্যদিকে সরকার ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ভারত নির্ভরতা বাড়ানোর জন্যও হতে পারে দুইদিনে সাতজন বাংলাদেশিকে গুলি করে মারা হয়েছে । মোদী বিজেপি ভারত থেকে যে সব মুসলিম হিন্দু জনগোষ্ঠী লোকদের বিতাড়িত করবে তা বাংলাদেশকেই নিতে হবে। সেটা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটা চ্যালেঞ্জ, কিন্তু সরকারি দল আ’লীগের কাছে এটা ক্ষমতায় টিকে থাকা না থাকার সময়ের চরম প্রশ্ন। এ সব নিয়ে যদি হাসিনা-মোদী সম্পর্ক টানাপোড়ন থেকে আরও মন্দের দিকে যায়। শেখ হাসিনার জন্য বেশ কিছু নগদ চ্যালেঞ্জ আছে। যা ভোট আর জনসমর্থনের মতো ফাঁকিবাজি ও গায়ের জোরে পার পাওয়া সম্ভব নয়।
প্রতিবেশী ভারত দেশ হিসেবে যেমন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্ব বহন করে তেমনি অনেক ব্যক্তি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠানও বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতায় থাকা না থাকার সেনসিটিভ বিষয়েও ঢুকে আছে। এমন অবস্থায় থেকে বা মোদীর বিরুদ্ধতা করে, ডিনাই করে তার থেকে ছুটে এসে এমন একটা উপকারী বন্ধু, গোষ্ঠী শেখ হাসিনার জন্য যোগাড় করা কতোটা সহজ হবে এবং তা আবশ্যই দরকার আছে। সময়েরও প্রয়োজন আছে। শুধু গরুকেন্দ্রিক সীমান্ত হত্যা হচ্ছে। বিষয়টা তা নয়। সময়ে সময়ে বিএসএফ বাংলাদেশিদের গুলি করে মেরে জাতিকে রাজনৈতিক বার্তা ছুড়ে দিচ্ছে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত