প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রথম আলো ও আওয়ামী লীগ একই বৃন্তে দুটি ফুল বা একই মায়ের পেটে দুই ভাই বা বোন

মাহবুব মোর্শেদ : প্রথম আলো ও আওয়ামী লীগ একই বৃন্তে দুটি ফুল বা একই মায়ের পেটে দুই ভাই বা বোন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের আদর্শিক ভিত্তি তৈরি করেছে যে সংগঠনটি তার নাম বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি। আদর্শ, নীতিনিষ্ঠ ও ভালো আওয়ামী লীগ বলতে যা বোঝায় সিপিবি তাই। আবার স্খলিত সিপিবি বলতে যা বোঝায় তাই আওয়ামী লীগ। সিপিবি দলটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে টিকে আছে। কিন্তু এর মতাদর্শ পুরোটা টিকে আছে প্রথম আলোর মধ্যে। ফলে প্রথম আলোই এখন আওয়ামী লীগের মতাদর্শিক মেন্টর। প্রথম আলোই ভালো ও আদর্শ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের কী করা উচিত সেটা প্রথম আলো ঠিকভাবেই বলে। অনেকে মনে করেন এগুলো বানানো কথা।

কিন্তু আপনারা কখনো খেয়াল করেছেন প্রথম আলোর সাংবাদিক হয়েও ফারুক ওয়াসিক যখন কোনো নাগরিক আন্দোলনে সংহতি জানান তখন ব্যাপারটাকে খুব বেখাপ্পা লাগে। তিনি প্রতিবাদী বাম এ ব্যাপারটা প্রথম আলোর সঙ্গে ঠিক যেন যেতে চায় না। অন্য দল দূরে থাকুক, একটু সামাজিক আন্দোলনেই বেশ অস্বস্তি তৈরি হয়। কিন্তু প্রথম আলোর নীতি নির্ধারক ও শীর্ষ ব্যক্তি হয়েও আনিসুল হক আওয়ামী লীগের দলীয় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন, বছরের পর বছর আওয়ামী লীগের জন্য প্রোপাগান্ডা উপন্যাস লেখেন, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমে অংশ নেন। কিন্তু এসব কারও কাছেই বেমানান মনে হয় না। পাঠকরা প্রশ্ন তোলেন না, প্রথম আলোও এটাকে সমালোচনামূলকভাবে দেখে না। কারণ আওয়ামী লীগ ও প্রথম আলোর মধ্যে মতাদর্শিক বিবাদ নেই। থাকলেও খুব সামান্য। প্রশ্ন হলো বিবাদটা কোথায়? বিবাদ ভাইয়ে ভাইয়ে রেষারেষি। মনোমালিন্য।

সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বড় মিডিয়া হিসেবে প্রথম আলোকে নানা নেগেটিভ খবর প্রকাশ করতে হয়। এটা সরকারের অনেকে মেনে নিতে পারেন না। এখন প্রথম আলো ওই খবরগুলো ছাপা বন্ধ করলে দেশে আর কোনো সমস্যা সত্যিই থাকে না। কিন্তু তারা পাঠক হারাবে। তারা পাঠক হারালে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে শক্তিশালী মতাদর্শিক ওয়েপনটি দুর্বল হবে। দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হবে আওয়ামী লীগেরই। আজ যদি মতিউর রহমানকে জেলে ঢুকিয়ে আপন মায়ের পেটের ভাই প্রথম আলোকে আওয়ামী লীগ সরকারই ধ্বংস করার উদ্যোগ নেয় তবে এর চেয়ে দুঃখের কারণ আর কী হতে পারে। নিজের স্বার্থে আওয়ামী লীগের উচিত এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসা। তাছাড়া রেসিডেন্সিয়ালে যখন অনুষ্ঠান হয় সে সময়, মানে ওইদিনগুলোতে মতিউর রহমান বেশ অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ওই অনুষ্ঠান, আবরারের মৃত্যু এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না এবং এটাই বাস্তব। ফলে ব্যাপারটাকে ওদিকে না নিয়ে যাওয়াই ভালো হবে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত