প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবশেষে জমি ও বাড়ি পেলো প্রতিবন্ধী শাকিল

আলআমিন ভূঁইয়াঃ দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ফুটপাতে পথচারী পারাপারের সাইনবোর্ডের খুঁটি ও পায়ের সঙ্গে লাগানো শিকলই ছিলো মানসিক ভারসাম্যহীন শাকিলের (১৯) সারা দিনের সঙ্গী। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় যা-ই হোক, শালিকের মা মানুষের বাসার কাজ থেকে না ফেরা পর্যন্ত তাকে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

সন্ধ্যা বা রাতে মা শিকলের তালা খুলে ১৯ বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফেরেন” ঠিক এমনটাই ছিল রাজধানীর শাহজাহানপুরে বসবাসরত শরীয়তপুর জেলার পালংয়ের দক্ষিণ কেবল নগরের মৃত আলম শিকদার ও হেনুফা বেগমের ছেলে প্রতিবন্ধী শাকিলের।

এমন বন্দীদশা অবস্থা থেকে শাকিলকে মুক্ত করতে এগিয়ে আসে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙালিদের সহায়তায় পরিচালিত “সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট” নামের একটি সংগঠন।

সংগঠনটির সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শাকিলকে জমির ব্যবস্থা করা হয়। এরপর সংগঠনটি সম্পুর্ণ নিজেদের অর্থায়নে শাকিলকে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ, রান্নাঘর, বাথরুম ও টিউবওয়েল স্থাপণ করে দেন।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শাকিলের পরিবারকে হস্তান্তর করেন, সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবক নাহিদ আহমেদ, সাহাবীর মিয়া, রেজাউল করিমসহ সংঘঠনের অন্যান্য সদস্যরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও।

জমি বরাদ্ধের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, মাননীয় জেলা প্রশাসক জনাব কাজী আবু তাহের স্যারের নির্দেশনায় জমি বরাদ্দ কাজে নিজেকে শামিল করতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত বোধ করছি, যদিও এটা আমার দ্বায়িত্বেরই অংশ।

উক্ত বাড়িতে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেয়া হবে এবং যতদ্রুত সম্ভব শাকিলের প্রতিবন্ধী ভাতা এবং তার মায়ের জন্য বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। এমন মানবিক একটি কাজের সুযোগ করে দেয়ার “সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট” নামের সংগঠনটির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও সংগঠনটির প্রয়োজনে আমি পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ। সর্বোপরি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত সকলের জন্য শুভ কামনা।

জমি ও বাড়ি পেয়ে শাকিলের মা হেনুফা বেগম কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, জীবনে কল্পনাও করিনি শাকিলের এক খন্ড জমি হবে, একটি ঘর হবে! আলহামদুলিল্লাহ্‌ “সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট” এর মাধ্যমে আল্লাহ সব কিছুর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এখন আমি চিন্তামুক্ত অন্তত আমার মৃত্যুর পর আমার ছেলেকে মাথা গোজার জন্য কারো দারে দারে ঘুরতে হবেনা।

এ বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষে জানানো হয়, শাকিলের মায়ের চাহিদা অনুযায়ী তাদের একখন্ড জমি একটি বাড়ি দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি, এই প্রজেক্টটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ছিল, যা আমরা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। সমাজের অসহায় মানুষের জন্য আমাদের বরাবরই চেষ্টা থাকে কিছু করার, ভবিষ্যতেও এধারা অব্যাহত থাকবে। পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের এমন মানবিক কাজে সমাজের বৃত্তবানরা যেন এগিয়ে আসে এবং সমাজ থেকে এমন চিত্র দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। সম্পাদনাঃ জেরিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত