প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এক সপ্তাহের শেয়ারবাজার ১৭ হাজার কোটি টাকা নেই

ডেস্ক রিপোর্ট  : ধারাবাহিক বড় দরপতনের কবলে পড়ে গত এক সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে বিনিয়োগকারীদের ১৭ হাজার কোটি টাকা হাওয়া হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বড় পতন হয়েছে মূল্যসূচকের, দেখা দিয়েছে লেনদেন খরাও। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসেই লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এতে প্রতিদিনই বড় পতন হয় সবকটি মূল্যসূচকের। ফলে সপ্তাহ শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। সা¤প্রতিক সময়ে এক সপ্তাহে এতো বড় দরপতন শেয়ারবাজারে হয়নি।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া মাত্র ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১০টির। আর ১৩টির দাম অপরিবর্তিত। অর্থাৎ সপ্তাহজুড়ে ৮৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে।
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের এই দরপতনের কারণে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১৭ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

এ হিসাবে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম এক সপ্তাহে ১৭ হাজার ১৬১ কোটি টাকা কমেছে। এ দিক থেকে বিবেচনা করলে বড় দরপতনের কবলে পড়ে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের ১৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে নেই হয়ে গেছে। বড় অঙ্কের বাজার মূলধন হারানোর সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৬১ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ কমেছে। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি বাড়ে ৪০ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৯২ শতাংশ। অবশ্য তার আগের টানা চার সপ্তাহের পতনে এই সূচকটি ৩০০ পয়েন্টে কমেছিল।

প্রধান মূল্যসূচকের সঙ্গে বড় পতন হয়েছে ডিএসইর বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকেরও। গত সপ্তাহে এ সূচকটি কমেছে ৯৯ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি ২ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বা দশমিক ১৯ শতাংশ কমে। এর মাধ্যমে টানা পতনে এই সূচকটি প্রায় আড়াইশ’ পয়েন্ট কমলো।

ডিএসইর অপর মূল্যসূচক ডিএসই শরিয়াহ্ কমেছে ৬৩ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি বাড়ে ১৪ দশমিক ৫১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
এদিকে দরপতনের সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩১৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৩২৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৭৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ১ হাজার ৩০২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ২৭৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা বা ২০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। লেনদেন বাড়ার কারণ গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে এক কার্যদিবস কম লেনদেন হয়। গত সপ্তাহের মোট লেনদেনের মধ্যে ‘এ’ গ্রæপের প্রতিষ্ঠানের অবদান দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এছাড়া ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘বি’ গ্রæপের অবদান ১২ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ‘জেড’ গ্রæপের প্রতিষ্ঠানের অবদান ২ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ‘এন’ গ্রæপের অবদান ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের শেয়ার। কোম্পানিটির ৯০ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া লেনদেনের ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খুলনা পাওয়ার কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকার, যা সপ্তাহের লেনদেনের ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ৭৪ কোটি ৮০ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এডিএন টেলিকম।
লেনদেনে এরপর রয়েছেÑ ব্র্যাক ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, প্রিমিয়ার ইন্স্যুরেন্স, সিটি ব্যাংক এবং ন্যাশনাল টিউবস।

ইনকিলাব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত