প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রাম্পের নির্দেশে বাগদাদে মার্কিন রকেট হামলায় ইরানি জেনারেল সোলায়মানি ও ইরাকের আশশাবি নেতা মুহানদিস নিহত (ভিডিও)

রাশিদ রিয়াজ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এক বিমান হামলায় বাগদাদে ইরানের আল কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাশেম সোলায়মানি ও ইরাকের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী আশ-শাবির সেকেণ্ড-ইন-কমাণ্ড আবু মাহদি আল-মুহানদিস সহ ৭ জন নিহত হয়েছে। সিরিয়া থেকে বিমানটিতে ইরানের ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির কুদস বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি শুক্রবার ভোররাতে বাগদাদে আসেন। এরপর ইরাকের বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা বিমানবন্দর থেকে তাকে নিয়ে দুটি গাড়িতে করে রওনা দেয়া মাত্রই মার্কিন হেলিকপ্টার থেকে কয়েকটি রকেট হামলা করা হয়। এ হামলায়  আশ-শাবির সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু মাহদি আল-মুহানদিস নিহত হন।  পেন্টাগন এক বিবৃতিতে বলেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এ হামলা করেছে। সিএনএন’এর ব্রেকিং নিউজের শিরোনাম ছিল, ‘পেন্টাগন এনাউন্সেস  দি ইউএস কিল্ড ইরানিয়ার মিলিটারি লিডার ইন এ স্ট্রাইক’। ব্রিটিশ মিডিয়া ডেইলি মেইল এ সংবাদের শিরোনাম করে, ‘ডোনাল্ড ডিলস ডেথ’। এ হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার টুইটে কোনো বক্তব্য ছাড়াই একটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার ছবি পোস্ট করেন।

ট্রাম্পের প্রচার সম্পাদক কালেইগ ম্যাকেনি ফক্স নিউজকে বলেন সোলাইমানি হত্যাকাণ্ড ‘আমাদের জীবনকাল না হলে দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য। ডেমোক্রেটরা ট্রাম্পের এ হামলাকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন।সিনেটর ক্রিস মার্ফি বলেছেন, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। সন্দেহ নেই জেনারেল সোলায়মানি যুক্তরাষ্ট্রের বড় শত্রু কিন্তু এই হামলার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের কোনো অনুমোদন ছাড়াই ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে হত্যা করার নির্দেশ দিতে পারেন কি না তাও এক বিরাট প্রশ্ন। ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী অ্যান্ড্রু ইয়াং বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সর্বশেষ পছন্দের বিষয় এবং তা মার্কিনিদের ইচ্ছাও নয়। আমাদের উচিত উত্তেজনা হ্রাস ও মার্কিনিদের রক্ষার ব্যবস্থা নেয়া।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী জেনারেল সোলায়মানিকে হত্যার চরম প্রতিশোধ নেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। টুইটারে তিনি এসম্পর্কে লেখেন, শাহাদাত প্রাপ্তি সোলায়মানির নিরলস প্রচেষ্টার প্রতিদান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধের কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলায়মানিকে হত্যা করে ওয়াশিংটন একটি ভয়ঙ্কর, কাণ্ডজ্ঞানহীন ও উত্তেজনা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। আমেরিকার এই ঔদ্ধত্বপূর্ণ ও হঠকারী হামলার যেকোনো পরিণতির দায় ওয়াশিংটনকে বহন করতে হবে। জারিফ বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এখন যে সিদ্ধান্ত নেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও জন হপকিন্সের অধ্যাপক ভালি নাসর বলেন, ইরান এধরনের হত্যাকে এক বিরাট সামরিক উস্কানি হিসেবেই দেখবে।

হাশদ আশ-শাবির মুখপাত্র আহমেদ আল-আসাদি এক বিবৃতিতে এ হত্যাকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলকে দায়ী করে এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত মার্কিন বিমান হামলা’ বলে অভিহিত করেন। তাদের পক্ষ থেকে নিহতের সংখ্যা ৭জন বলা হয়েছে। ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মিডিয়া সেল এক বিবৃতিতে জানায়, বিমান বন্দরের কার্গো টার্মিনালের কাছে রকেট হামলা হয়। এতে দু’টো গাড়ি পুড়ে যায়। হামলার পরপরই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বাগদাদে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত দুই লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালান হয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে,মার্কিন হেলিকপ্টার থেকে রকেটগুলো নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর আগে গত রোববার হাশদ আশ-শাবি’র কয়েকটি ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ৩০ জওয়ানকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিবাদে ইরাকি জনতা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয় এবং তারা গত মঙ্গলবার থেকে বাগদাদাদে মার্কিন দূতাবাসের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায়। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসের দেয়ালের একাংশ এবং দূতাবাসের নিরাপত্তা চেকপোস্টে আগুন ধরিয়ে দেয়।তারা ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ বলে স্লোগান দেয় এবং মার্কিন সেনাদের ইরাক থেকে বহিষ্কার করার আহ্বান জানায়।

টানা তিন দিন বিক্ষোভ দেখানোর পর বৃহস্পতিবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আল-মাহদির আহ্বানে সাড়া দিয়ে মার্কিন দূতাবাসের সামনে থেকে সরে যায় বিক্ষোভকারীরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত