সারোয়ার জাহান: ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)।শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বসুন্ধরার অ্যাপোলোতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৩ বছর। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে, এক ছেলে এবং তিন নাতি-নাতনি রেখে গেছেন। ২২ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার মরদেহ ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। দুপুর সাড়ে ১২টায় আর্মি স্টেডিয়ামেই নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে। জানাজার পর ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ফজলে হাসান আবেদের জন্ম। আন্তর্জাতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর কর্মের পরিধি বিস্তৃত করেছিলেন। একেবারে সমাজের নিম্নবিত্ত অসহায় মানুষের কল্যাণে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনকে সামনে রেখে বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ এলাকার শাল্লা গ্রামে তিনি কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্র্যাকের জন্ম দিয়েছিলেন। সেই সময়ে কবি সুফিয়া কামালকে চেয়ারম্যান করে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ফজলে হাসান ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা হলেও এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সিলেটের আরেক কৃতি পুরুষ ব্যারিস্টার ভিকারুল ইসলাম চৌধুরী। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী চৌধুরী গত ১ সেপ্টেম্বর মারা গেলেন।
জাতির চরম বিপদের দিনে একদিন জনকল্যাণকে সামনে রেখে এই দুই বন্ধু এক বিন্দুতে মিলিত হওয়ার মধ্য দিয়ে মহৎ কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। আসলে ফজলে হাসান আবেদ শৈশবের শুরুতে দেখেছেন, সমাজের একেবারে নিম্নশ্রেণির মানুষকে নিয়ে তাঁর মমতাময়ী মায়ের কাজ কারবার। মূলত তাঁর সেই মা তার হৃদয়ের দুর্বল স্থানের এক বিশাল অংশজুড়ে ছিলেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছর স্যার ফজলে আবেদ ব্র্যাকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি নেন। তাকে প্রতিষ্ঠানটির ইমেরিটাস চেয়ার নির্বাচিত করা হয়। ১৯৭২ সালে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করার পর সংস্থাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় পরিণত হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় স্যার আবেদ বাংলাদেশ ও বিশ্বের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা পেয়েছেন।
১৯৮০ সালে র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার, ২০১১ সালে ওয়াইজ প্রাইজ অব এডুকেশন, ২০১৪ সালে লিও টলস্টয় ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড মেডেল, স্প্যানিশ অর্ডার অফ সিভিল ম্যারিট, ২০১৫ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি পুরস্কার অর্জন করেন। সর্বশেষ চলতি বছর তিনি সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সাউথ এশিয়ান ডায়াসপোরা অ্যাওয়ার্ড, শিক্ষায় ভূমিকা রাখায় ইয়াডান পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।