প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একাত্তরে ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে বিশেষ কমিটি করেছিল জামায়াত

ডেস্ক রিপোর্ট  : ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায় ‘আনুষ্ঠানিক ক্ষমা’ চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল জামায়াতে ইসলামী। ২০১৭ সালে গঠন করা ওই কমিটির প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বেশিরভাগ সদস্য একমত হতে না পারায় বিষয়টি তখন থমকে যায়। তবে চলতি ডিসেম্বরে দলে নতুন-নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় প্রক্রিয়াটি আবারও সচল হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও প্রভাবশালী নেতারা। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তারা বিষয়টি সম্পর্কে তাদের মনোভাব তুলে ধরেছেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্য  বলেছেন, ‘কমিটির প্রস্তাব ২০১৭ সালে শুরা সদস্যদের কাছে পাঠানোর পর ৪০ শতাংশের মত ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে ছিল। তবে ৬০ শতাংশ বিপক্ষে মত দেওয়ায় ওই সময় বিষয়টি আর এগোয়নি। নতুন করে আমির নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি দলের অন্যান্য স্তরের কমিটিগুলোতেও পরিবর্তন আসবে। সেক্ষেত্রে আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হবে।’

জামায়াতের একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল নেতা শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘দৈনিক সংগ্রামের কার্যালয় ভাঙচুর ও সম্পাদক আবুল আসাদের গ্রেফতারের বিষয়টির পর দলের নেতারা অত্যন্ত গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এক্ষেত্রে যেকোনও ধরনের চিন্তা-ভাবনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের মধ্যে অনেকের সাজা হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি চিন্তা ছিল না। কিন্তু দৈনিক সংগ্রামের ঘটনার পর মুক্তিযুদ্ধ ও এ সংক্রান্ত আলোচনা জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা তো আছেই।’

গত ফেব্রুয়ারিতে একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে দলকে রাজি করতে না পারার কারণে পদত্যাগ করেন ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। ওই সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার চিঠিতে বলা হয়েছিল, ‘স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর আজও দলের নেতৃবৃন্দ ৭১-এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে পারেনি। এমনকি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রসঙ্গে দলের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেনি।’

দলের নির্বাহী পরিষদের একাধিক সদস্যের ভাষ্য, ব্যারিস্টার রাজ্জাক দলত্যাগ করায় ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টির অগ্রগতি কমে গেছে। তিনি দলে থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো। দলের অভ্যন্তরে শক্তিশালী একটি পক্ষ যেহেতু এখনও ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে, সেক্ষেত্রে আবারও এজেন্ডা আকারে তা উত্থাপন হতে পারে।’

জামায়াতের নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধে দলের রাজনৈতিক অবস্থান পর্যালোচনা ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশেষ কমিটি করেছিল জামায়াত। দলের বর্তমান নতুন আমির ডা. শফিকুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এ কমিটির সদস্য ছিলেন।

দলের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, কমিটির প্রস্তাব সদ্য বিদায়ী আমির মকবুল আহমাদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। তিনি এরপর আর কোনও সিদ্ধান্ত দেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকার একজন অঞ্চল পরিচালক  বলেন, ‘সেটা আর নেই। জামায়াতের নেতাদের বিচার তো সরকার করেই ফেলেছে। কমিটির প্রস্তাবেই তা নাকচ হয়ে গেছে। এখন ক্ষমা চাওয়াও হবে না, নতুন নামও হবে না আপাতত। আমাদের রাজনৈতিক ধারা পরবর্তী পরিবেশের উন্নতি ছাড়া স্থিতিশীল থাকবে।’

তবে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি নতুন করে এজেন্ডা আকারে আনার সম্ভাবনা তৈরি হবে কিনা, এমন প্রশ্নে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার এই সদস্য বলেন, ‘ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ধাপে অন্তত ১১০ জন নির্বাচিত হয়েছেন। এই সদস্যরা ভোট দিয়ে আরও ৩০ জনকে নির্বাচন করবেন। এরপর তৃতীয় ধাপে নতুন আমির আরও ২০ জনকে মনোনীত করবেন গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতাবলে। সেক্ষেত্রে শুরা গঠনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পর তিনি এই নীতি নির্ধারক কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাহী পরিষদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ মনোনীত করবেন। এরপর নতুন করে রাজনৈতিক এজেন্ডা ঠিক হবে। তবে মুক্তিযুদ্ধে ক্ষমা চাওয়ার বিষয় আসবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’ নতুন সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগে বিলম্বিত হওয়ার পেছনে শুরা গঠন যুক্ত বলে জানান এই সদস্য।

ক্ষমা চাওয়ার প্রক্রিয়া নতুন করে সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জামায়াতের একাধিক প্রভাবশালী নেতা জানান, দলের নতুন আমির হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান প্রথমবারের মতো নেতৃত্বে এসেছেন, যিনি একাত্তর-পরবর্তী প্রজন্মের নেতা। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিতে তার অবস্থান মাঝামাঝি। শফিকুর রহমান নিজেও ‘ক্ষমা চাওয়ার’এই বিশেষ কমিটির সদস্য।

দলের ভেতরে ক্ষমা চাইতে আগ্রহী অংশটি এখনও সক্রিয় ও কার্যকর উল্লেখ করে জামায়াতের প্রভাবশালী এক নেতা  বলেন, ‘নতুনভাবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন হওয়ার অপেক্ষায় আছে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবেই ক্ষমা চাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় কিনা, সেই চেষ্টা আবারও শুরু হতে পারে। নতুন আমির এসব বিষয়ে বিগত সময়ের চেয়ে আলাদাই হবেন, এমন সম্ভাবনা রয়েছে।’

কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য, ফেনী জেলা জামায়াতের আমির একে এম শামসুদ্দিন শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে  বলেন, ‘একাত্তর প্রশ্নে অনেক আগে মতামত চাওয়া হয়েছিল সারাদেশ থেকে। এসব বিষয়ে আসলে দলের সেন্ট্রাল পলিসির ওপর নির্ভর করে। আমাদের বলার কিছু নেই।’

জামায়াতের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধে দলের ভূমিকা নিয়ে ক্ষমা চাওয়া ও দলে সংস্কার চিন্তা অনেক আগে থেকেই চলমান। ২০১৯ সালের ফ্রেবুয়ারিতে দলত্যাগ করা আবদুর রাজ্জাক কয়েক দফায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দলীয় ফোরামে আলোচনা করেন। ২০০১ সালে জোটসরকার গঠনের পর জামায়াতের দুই নেতা মন্ত্রী হলে সেবছরের ডিসেম্বরে এ সংক্রান্ত বক্তব্য দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক। ওই সময় একটি কমিটি হয়েছিল ও খসড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে তিনি প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। এক-এগারোর সময় দলের নেতৃত্বকে বোঝানোর চেষ্টা করেন বর্তমানে লন্ডনে বসবাসরত ব্যারিস্টার রাজ্জাক। ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় শুরার অধিবেশনে বিষয়টি তুললেও দলের ভেতরে একটি অংশের অবহেলা ছিল। তবে ওই অংশটির সব নেতারই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ড হয়েছে এবং চারজন নেতার ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। সবশেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্যারিস্টার রাজ্জাক যুদ্ধকালীন জামায়াতের ভূমিকা সম্পর্কে দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন। যদিও দলের নেতৃত্ব তা গ্রহণ করেনি এবং তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন।

১৯৮২ সালে জামায়াতের অনুজ সংগঠন ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের। বর্তমানে ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের মহাসচিব তিনি।  তিনি জানিয়েছিলেন, জামায়াতের ৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে রিভিউ করা হয়েছিল। প্রায় ২০/২৫টি প্রশ্ন ছিল তাদের। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা উত্তর তো পাননি, বরং শিবির থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি ও তার সময়ের সেক্রেটারি জেনারেল ফরীদ আহমদ রেজা।

দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, কর্মপরিষদসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতের নতুন আমির হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত হওয়ার পর দলটির রাজনৈতিক কর্মকৌশলে পরিবর্তন আসছে। একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো দলটিতে একাত্তর পরবর্তী নেতৃত্ব আসায় দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং নীতিতে এর প্রভাব পড়বে।

জামায়াতের রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ডা. শফিকুর রহমান আমির হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় সাংগঠনিকভাবেই পুরো দলকে উদারনৈতিক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন স্থগিত থাকা দলটির রাজনৈতিক জোটসঙ্গী বিএনপির নীতিনির্ধারকদের কাছে অবশ্য দলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে তেমন উচ্চাশা নেই। বিশেষ করে গত ৫ ডিসেম্বর শপথগ্রহণের পর নতুন আমির ডা. শফিকুর রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন-- তা বিশ্লেষণ করে নেতাদের কেউ-কেউ বলছেন, জামায়াতের নীতিতে পরিবর্তন আসেনি, আসবেও না। তবে রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে সরকারকে চটানোর বিপক্ষে থাকবে নেতৃত্ব। একইসঙ্গে সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর আগে রাজনৈতিক বাস্তবায়নমূলক কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না।

গত ৫ ডিসেম্বর ডা. শফিকুর রহমান আমির হিসেবে প্রথম বক্তব্য দিয়েছেন ঘরোয়াভাবে। সাধারণত কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সামনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হলেও গত দুটি মেয়াদে ঘটা করে শপথ অনুষ্ঠান করতে পারেনি জামায়াত। ডা. শফিকের বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, বক্তৃতার শুরুতে দেশের মুক্তিযোদ্ধাসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে ভাষণে ডা. শফিক মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত দলীয় পূর্বসূরীদেরও স্মরণ করেছেন। এও বলেছেন, তাদের মৃত্যু হয়েছে দ্বীনের পথে।

দলের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা জানান, ২০১৬ সালে বিদায়ী আমির মকবুল আহমাদের সময়েই গঠনতন্ত্রে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গটি যুক্ত করা হয়। ওই সময় গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির প্রধান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ উত্তর জামায়াতের নেতা ও বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে জামায়াতের প্রথম সারির বেশিরভাগ নেতার। (ফাইল ছবি)

জামায়াতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৮ সালে। এই দেশ, এই দেশের স্বাধীনতার প্রতি জামায়াতের বিশ্বাস অটুট ও অক্ষুণ্ন আছে। আর একইসঙ্গে এই মুহূর্তে দলের নতুন আমির মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী হওয়ায় এর প্রভাব তো নিঃসন্দেহে পড়বে।’

দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন দায়িত্বশীল বলছেন, ‘জামায়াতের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে দুটি ভাগ আছে, এটি বাস্তব। একটি অংশ ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে থাকলেও বড় অংশটি মনে করে, যাদের হাত ধরে দল প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এমন সিদ্ধান্তে তাদের ছোট করা হয়। সে কারণে এই উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহ খুব একটা সামনে আসে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত দলীয় নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে ‘শহিদ’ বলায় দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, এই ঘটনায় সরকারের সায় আছে। আর এ বিষয়টিই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে জামায়াতের শীর্ষনেতৃত্ব।’

জানতে চাইলে জামায়াতের রাজনীতির গভীর পর্যবেক্ষক শাহ আবদুল হান্নান বলেন, ‘কমিটি করে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি আমি নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে মূল কথা হচ্ছে, জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম একবার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটের বিশাল সমাবেশে ক্ষমা চেয়েছেন। প্রকাশ্যে তিনি একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চান।’

ক্ষমা চাওয়ার পর বারবার এই কথা তোলার কোনও মানে আছে কিনা সে প্রশ্নও তোলেন সাবেক এই সচিব।

শাহ আবদুল হান্নান বলেন, ‘‘ক্ষমা চাওয়ার পর কিছু সংবাদপত্রে ছাপা হলো দালালদের ক্ষমা নেই। আমি বহুদিন আগে টিভি প্রোগ্রামে বলেছিলাম, ক্ষমা চাইলে বলেন ‘ক্ষমা নাই’, আবার বলেন ‘ক্ষমা চাও।’ এগুলো পলিটিক্যাল, আর কিচ্ছু না।’’

ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এই চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘মেইন ইসলামিক পার্টিটাকে পিছিয়ে রাখতে চায় যারা তারাই এসব বলে। এটা ক্ষমতাসীনরা চায়। বামপন্থীরাও চায়, কারণ এই দেশে ইসলামি ধারার রাজনীতির প্রগ্রেস অনেকটা জামায়াতের ওপর নির্ভর করে। সামাজিকভাবে ও রাজনৈতিকভাবেও এটা জামায়াতের ওপর নির্ভর করে। ফলে, আমি ফিল করি একাত্তরে নিয়ে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা উচিত না। এখন তো কেউ নেই, যে বলছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান এক হয়ে যাক। বরং এই চেষ্টা আছে ভারতের যে কীভাবে বাংলাদেশটাকে আধা-আধি দখল করবে।’

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত