শিরোনাম
◈ ভোটার তালিকা হালনাগাদ ২০২৬: খসড়া প্রকাশ ৫ নভেম্বর, চূড়ান্ত তালিকা ২৫ নভেম্বর ◈ সৌদি আরবের আইনে সাজা হলে সরকারের কিছু করার থাকে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ◈ মাদকের আস্তানায় অস্ত্র হাতে অভিযান নিয়ে যা বললেন ইশরাক ◈ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়াবে সরকার, কর্মসংস্থান ও যাতায়াত সুবিধা নিয়েও উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী ◈ সৌদির রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করল বিমান, ২১ অক্টোবর থেকে চালু হতে পারে দাম্মাম রুট ◈ ‘সিন্ডিকেট হচ্ছে ভাই’, সার সংকটে দিশেহারা গাইবান্ধার চরের কৃষকরা ◈ মাদক আস্তানায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ‘ইশরাকের অ্যাকশন’, আটক ৬ (ভিডিও) ◈ হামের থাবায় বাংলাদেশ, টিকাদানের ঘাটতি নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা ◈ সুন্দরবনের জলজ প্রাণীর দেহে প্লাস্টিক, মাছ খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মানুষ ◈ দুই সপ্তাহের মধ্যে আজিমপুর কোয়ার্টার পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ০৬:৪৩ সকাল
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ০৬:৪৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

একাত্তরে ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে বিশেষ কমিটি করেছিল জামায়াত

ডেস্ক রিপোর্ট  : ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায় ‘আনুষ্ঠানিক ক্ষমা’ চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল জামায়াতে ইসলামী। ২০১৭ সালে গঠন করা ওই কমিটির প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বেশিরভাগ সদস্য একমত হতে না পারায় বিষয়টি তখন থমকে যায়। তবে চলতি ডিসেম্বরে দলে নতুন-নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় প্রক্রিয়াটি আবারও সচল হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও প্রভাবশালী নেতারা। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তারা বিষয়টি সম্পর্কে তাদের মনোভাব তুলে ধরেছেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্য  বলেছেন, ‘কমিটির প্রস্তাব ২০১৭ সালে শুরা সদস্যদের কাছে পাঠানোর পর ৪০ শতাংশের মত ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে ছিল। তবে ৬০ শতাংশ বিপক্ষে মত দেওয়ায় ওই সময় বিষয়টি আর এগোয়নি। নতুন করে আমির নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি দলের অন্যান্য স্তরের কমিটিগুলোতেও পরিবর্তন আসবে। সেক্ষেত্রে আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হবে।’

জামায়াতের একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল নেতা শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘দৈনিক সংগ্রামের কার্যালয় ভাঙচুর ও সম্পাদক আবুল আসাদের গ্রেফতারের বিষয়টির পর দলের নেতারা অত্যন্ত গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এক্ষেত্রে যেকোনও ধরনের চিন্তা-ভাবনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের মধ্যে অনেকের সাজা হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি চিন্তা ছিল না। কিন্তু দৈনিক সংগ্রামের ঘটনার পর মুক্তিযুদ্ধ ও এ সংক্রান্ত আলোচনা জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা তো আছেই।’

গত ফেব্রুয়ারিতে একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে দলকে রাজি করতে না পারার কারণে পদত্যাগ করেন ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। ওই সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার চিঠিতে বলা হয়েছিল, ‘স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর আজও দলের নেতৃবৃন্দ ৭১-এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে পারেনি। এমনকি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রসঙ্গে দলের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেনি।’

দলের নির্বাহী পরিষদের একাধিক সদস্যের ভাষ্য, ব্যারিস্টার রাজ্জাক দলত্যাগ করায় ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টির অগ্রগতি কমে গেছে। তিনি দলে থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো। দলের অভ্যন্তরে শক্তিশালী একটি পক্ষ যেহেতু এখনও ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে, সেক্ষেত্রে আবারও এজেন্ডা আকারে তা উত্থাপন হতে পারে।’

জামায়াতের নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধে দলের রাজনৈতিক অবস্থান পর্যালোচনা ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশেষ কমিটি করেছিল জামায়াত। দলের বর্তমান নতুন আমির ডা. শফিকুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এ কমিটির সদস্য ছিলেন।

দলের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, কমিটির প্রস্তাব সদ্য বিদায়ী আমির মকবুল আহমাদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। তিনি এরপর আর কোনও সিদ্ধান্ত দেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকার একজন অঞ্চল পরিচালক  বলেন, ‘সেটা আর নেই। জামায়াতের নেতাদের বিচার তো সরকার করেই ফেলেছে। কমিটির প্রস্তাবেই তা নাকচ হয়ে গেছে। এখন ক্ষমা চাওয়াও হবে না, নতুন নামও হবে না আপাতত। আমাদের রাজনৈতিক ধারা পরবর্তী পরিবেশের উন্নতি ছাড়া স্থিতিশীল থাকবে।’

তবে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি নতুন করে এজেন্ডা আকারে আনার সম্ভাবনা তৈরি হবে কিনা, এমন প্রশ্নে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার এই সদস্য বলেন, ‘ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ধাপে অন্তত ১১০ জন নির্বাচিত হয়েছেন। এই সদস্যরা ভোট দিয়ে আরও ৩০ জনকে নির্বাচন করবেন। এরপর তৃতীয় ধাপে নতুন আমির আরও ২০ জনকে মনোনীত করবেন গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতাবলে। সেক্ষেত্রে শুরা গঠনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পর তিনি এই নীতি নির্ধারক কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাহী পরিষদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ মনোনীত করবেন। এরপর নতুন করে রাজনৈতিক এজেন্ডা ঠিক হবে। তবে মুক্তিযুদ্ধে ক্ষমা চাওয়ার বিষয় আসবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’ নতুন সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগে বিলম্বিত হওয়ার পেছনে শুরা গঠন যুক্ত বলে জানান এই সদস্য।

ক্ষমা চাওয়ার প্রক্রিয়া নতুন করে সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জামায়াতের একাধিক প্রভাবশালী নেতা জানান, দলের নতুন আমির হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান প্রথমবারের মতো নেতৃত্বে এসেছেন, যিনি একাত্তর-পরবর্তী প্রজন্মের নেতা। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিতে তার অবস্থান মাঝামাঝি। শফিকুর রহমান নিজেও ‘ক্ষমা চাওয়ার’এই বিশেষ কমিটির সদস্য।

দলের ভেতরে ক্ষমা চাইতে আগ্রহী অংশটি এখনও সক্রিয় ও কার্যকর উল্লেখ করে জামায়াতের প্রভাবশালী এক নেতা  বলেন, ‘নতুনভাবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন হওয়ার অপেক্ষায় আছে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবেই ক্ষমা চাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় কিনা, সেই চেষ্টা আবারও শুরু হতে পারে। নতুন আমির এসব বিষয়ে বিগত সময়ের চেয়ে আলাদাই হবেন, এমন সম্ভাবনা রয়েছে।’

কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য, ফেনী জেলা জামায়াতের আমির একে এম শামসুদ্দিন শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে  বলেন, ‘একাত্তর প্রশ্নে অনেক আগে মতামত চাওয়া হয়েছিল সারাদেশ থেকে। এসব বিষয়ে আসলে দলের সেন্ট্রাল পলিসির ওপর নির্ভর করে। আমাদের বলার কিছু নেই।’

জামায়াতের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধে দলের ভূমিকা নিয়ে ক্ষমা চাওয়া ও দলে সংস্কার চিন্তা অনেক আগে থেকেই চলমান। ২০১৯ সালের ফ্রেবুয়ারিতে দলত্যাগ করা আবদুর রাজ্জাক কয়েক দফায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দলীয় ফোরামে আলোচনা করেন। ২০০১ সালে জোটসরকার গঠনের পর জামায়াতের দুই নেতা মন্ত্রী হলে সেবছরের ডিসেম্বরে এ সংক্রান্ত বক্তব্য দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন ব্যারিসà§