প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যস্ততার কারণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর কোনও কারণ না দেখিয়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাতিল করলেন ভারত সফর

খালিদ আহমেদ ও তরিকুল ইসলাম : ইন্ডিয়ান ওশান সামিটে যোগ দিতে আজ বিকেলে নয়াদিল্লি যাওয়ার কথা ছিলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের। ওশান সামিটে যোগ দেয়ার পাশাপাশি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথাও ছিলো। জানা গেছে, তুমুল ব্যস্ততা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য নীতিনির্ধারনী কর্মকর্তারা বিদেশে থাকায় ড. মোমেন সফরে যেতে পারছেন না। তবে ইন্ডিয়ান ওশান ডায়ালগে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন মন্ত্রণালয়ের আমেরিকান উইংয়ের মহাপরিচালক ফেরদৌসী শাহরিয়ার। এদিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের ভারতে যাওয়ার কথা ছিলো।

সফর স্থগিতের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে গতকাল রাতে জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের আজকের ভারত সফর কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে তিনি ভারত সফর করবেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে ভারতের মেঘালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার কথা ছিলো বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য ডিসেম্বর মাস সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। বুদ্ধিজীবী দিবস এবং বিজয় দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্যই এই সফর বাতিল করতে হয়েছে। তাছাড়া আমাদের প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক দেশে নেই। তারা এখন দ্যা হেগে অবস্থান করছেন। সবকিছু বিবেচনা করে সফর বাতিল করে দেশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাহোক, আগামী জানুয়ারিতে আমি অন্য একটি বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য ভারতে যাবো। তবে আমি আমার ডিজিকে চলতি বৈঠকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এদিকে ভারতে নাগরিকত্ব বিল পাশের জেরে ধরেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আচমকা দেশটিতে সফর বাতিল করেছে বলে দাবি করেছে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো। এনডিটিভি ও আনন্দ বাজার তাদের প্রতিবেদনে বলছে, লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও ছাড়পত্র পেয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি)। তা নিয়ে বিক্ষোভের মাত্রা বাড়ছে আসাম, ত্রিপুরা-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে। আর এ জন্যই মিস্টার মো ভারত সফর বাতিল করেছেন। দেশটির গণমাধ্যমের এমন খবর কূটনৈতিক মহলে হাস্যরসের তৈরি হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ভারতের এনআরসি ও সিএবি এটা তাদের নিজস্ব বিষয়। বাংলাদেশ এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন নয়। কোনো দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অন্যদেশের মাথা ব্যথা হবার কথাতো নয়। ভারতীয় গণমাধ্যমে এ ধরণের প্রতিবেদন প্রকাশ দায়িত্বহীনতার পরিচয় বটে। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

সর্বাধিক পঠিত