প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সারাদেশে চলছে সম্মেলন, তৃণমূলের কোন্দলে বিব্রত আওয়ামী লীগ

ইয়াসিন আরাফাত : টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে এখন অনেকটাই প্রতিপক্ষহীন। দেশের সবত্রই রাজনীতির মাঠে একক আধিপত্য সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের। ফলে আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে প্রায়ই কোন্দলে জড়াচ্ছে সংগঠনটির তৃণমূলের নেতা কর্মীরা।

দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কোন্দলের বিষয়টি উঠে এসেছে জনসম্মুখে। এমনকি অনেক স্থানে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতেই সংঘর্ষে জড়িয়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এতে বেশ হতভম্ব কেন্দ্রীয় নেতারা। জানা গেছে, দলটির নীতিনির্ধারকরা এ সমস্যার সমাধানে কার্যকর উপায় খুঁজছেন।

গত ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। ওই সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সামনেই আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদউল্লাহ খান সোহেলের অনুসারীরা। চলে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া। এ সময় সংঘর্ষে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

অন্যদিকে, গত ৭ ডিসেম্বর একই দিনে অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এসময় মঞ্চে থাকা নেতাদের সামনেই সংঘর্ষে জড়ান মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমানের ও মিরসরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এবং উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি গিয়াসউদ্দিনের অনুসারীরা।

এছাড়া গত ২৫ নভেম্বর কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মাঠ দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। গত ২ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন চলাকালে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ। গত ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা সম্মেলনেও দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়। গত ৩০ নভেম্বর কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ টিয়ার শেল ও রবার বুলেট নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে ৪ পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন আহত হন।

অন্যদিকে, বেশ কিছু জেলা-উপজেলা ও মহানগর সম্মেলন শেষ হয়েছে অনেকটা নির্ঝঞ্ঝাটভাবেই। খুলনা জেলা ও মহানগর, বরিশাল মহানগর, নড়াইল, বগুড়া ও বাগেরহাট জেলাসহ বেশ কিছু ইউনিটে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নেতাকর্মীরা ছিলেন উৎসবমুখর।

তবে এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলছেন দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের বেশ কয়েক জন নেতা। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। তাই এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতাও বেশি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর দ্বারপ্রান্তে থাকা আওয়ামী লীগ চাচ্ছে দেশের সব ইউনিটে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দলকে প্রতিষ্ঠা করতে। সে লক্ষ্যেই ঢেলে সাজানো হচ্ছে সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে সেগুলো নিছকই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তবে যারা এসব ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে। সম্পাদনা : মাজহারুল ইসলাম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত