প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাগরে তের গ্যাস পেলে আগে আমাকে অফার করতে হবে বলেন, বললেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

শেখ নাঈমা জাবীন : বঙ্গোপসাগরের গ্যাস রপ্তানীর সুযোগ রেখেই সংশোধন করা উৎপাদন অংশিদারিত্ব চুক্তি কি দেশের স্বার্থবিরোধি নাকি গ্যাস অনুসন্ধানে আরো আগ্রহী হবে আন্তর্জাতিক কোম্পানীগুলো। গ্যাস অনুসন্ধানে সংশোধিত প্রডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্টকে সময় উপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রি নসরুল হামিদ। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি আমদানি না বাড়িয়ে অনেক আগেই পিএসসি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া উচিৎ ছিলো সরকারের। এটিএন, ০১:০০

সমুদ্রকে বলা হয় প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত আঁধার।বঙ্গোপসাগরে ব্যাপক গ্যাস ও তেল সম্পদ আবিষ্কার করে এরই মধ্যে ভারত ও মিয়ানমার বিশ্বের বড় বড় তেল গ্যাস অনুসন্ধানীদের নজর কেড়েছে। কিন্তু ২০১৪ সালে দেশের ভূখন্ডের প্রায় সমপরিমান অংশে বঙ্গোপসাগরে মালিকানা নিশ্চিত হওয়ার পরও সেটি কাজে লাগাতে নেয়া হয়নি তেমন কোনো উদ্যোগ।

সমুদ্রের গভীর এবং অগভীর এই দুই অংশে ২৬ টি ব্লকে ভাগ করা হয় তেল গ্যাস অনুসন্ধান। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ৪টি ব্লকের ইজারা দেয়া গেছে আন্তর্জাতিক কোম্পানীর কাছে। এবার আইওসির কাছে ব্লকগুলোকে আরো আকর্ষনীয় করতে সাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে সম্প্রতি মডেল উৎপাদন বণ্টন চুক্তি পিএসসি ২০১৯ অনুমোদন করেছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, তেল গ্যাস পেলে অবশ্যই আমাকে আগে অফার করতে হবে। আমি যদি না নেই গ্যাস তারপর তুমি বিক্রি করতে পারো। ডিপ সী কিন্তু প্রায় ১২শ মিটারের আরো নিচে যেতে হবে সমুদ্র তলদেশের। সেখান থেকে গ্যাস আনতে হবে। এর একটি বিরাট কস্ট আছে। পাইপটা কে নির্মাণ করবে। গ্যাস যদি আনতে চাই সেটি কিভাবে আনবো, অনেকগুলো কস্ট এর সাথে ইনভল্ভ হবে ভবিষ্যতে। এগুলো স্পষ্ট ছিলো না।

পিএসসির সংশোধনে বাংলাদেশকে গ্যাম্বলিং করতে হয়েছে পার্শবর্তী দেশ মিয়ানমার ও ভারতের গ্যাসের দর নিয়ে। মিয়ানমারে গ্যাসের দাম বেশি থাকলেও ভারতের সমুদ্রে তেল গ্যাসের দাম বেশ কম। মিয়ানমার থেকে চীনা কোম্পানী প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাস তুলছে ৭.৭২ ডলারে। অন্যদিকে ভারতে এ দাম ৫.৬১ ডলার। তবে ভারত ও মিয়ানমারে গ্যাস উত্তোলনকারী কোম্পানীকে কর্পোরেট ট্যাক্স প্রদান করতে হয়। বাংলাদেশের কোম্পানীগুলোর পক্ষে পেট্রোবাংলা সেই কর্পোরেট ট্যাক্স দিয়ে থাকে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ওআইসি আমাদের এখন অর্ধেকের বেশি গ্যাস সরবরাহ করছে এবং অফিসিয়ালী দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ করে যাচ্ছে। ওআইসির কারণে এখনো আমরা টিকে আছি এই সেক্টরে। সুতরাং আইইউসিকে গালিগালাজ করার বা আইইউসিকে নেগেটিভ ভাবার কোনো যৌক্তিকতা দেখছি না। আইইউসির গ্যাস আমাদের নিজস্ব গ্যাস যদি আমরা ৫ ডলারেও কিনি স্টিল চিপার দেন ১০/১২ ডলারের এলএনজি।

বহুজাতিক কোম্পানি গুলোকে গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী করে তুলতে মাল্টি ক্লায়েন্ট সিসমিক সার্ভের মাধ্যমে ডেটা প্যাকেজ তৈরির কাজও খুব দ্রুত শুরু করবে জ্বালানি বিভাগ।

জ্বালানী বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ওদের জন্য আছে একটু ঝুঁকি। ভালোভাবে তাদের সাথে নেগোসিয়েশন করে যেনো তারা আসে সেটা আমাদের চেষ্টা করতে হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, কিছুদিনের মধ্যে আমরা মাল্টি ক্লায়েন্ট সার্ভে শুরু করবো। তারপর আমরা টেন্ডার করবো ব্লকগুলোর। তখন আমাদের পিএসসি দেখে আমরা আশা করছি অনেকে আসবে। এটি ওয়ার্ল্ড স্ট্যান্ডার্ডে করা হয়েছে। সম্পাদনা : কায়কোবাদ মিলন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত