প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এরশাদের চল্লিশার জন্য চাঁদা উঠেছে কোটি টাকা, একজনেরই অনুদান অর্ধকোটি!

ডেস্ক রিপোর্ট  : জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের চল্লিশা জাঁকজমক ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালন করার পূর্ণ প্রস্তুতি চলছে। এজন্য চলছে প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের পৃথক বৈঠক। একই সঙ্গে চলছে চাঁদা তোলার কাজ। দলটির প্রেসিডিয়াম সস্য ও দলীয় এমপিসহ নেতা-কর্মীর চাঁদায় আগামী ৩১ আগস্ট এই চল্লিশা সম্পন্ন হবে। ওই দিন একযোগে সারা দেশে কর্মসূচি চলবে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর ও রংপুর মহানগরে মোট খরচ ধরা হয়েছে সোয়া কোটি টাকারও বেশি।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে এককোটি টাকার কিছু বেশি অর্থ এ পর্যন্ত জমা হয়েছে। তবে এই অর্থের মধ্যে অর্ধ কোটি (৫০ লাখ) টাকাই এসেছে দলের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের কাছ থেকে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান নিজেই এরশাদের চল্লিশার জন্য ৫০ লাখ টাকা চাাঁদা দিয়েছেন বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

রংপুর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইয়াসিরের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হলে তিনিও সারাবাংলাকে একই ইঙ্গিত দেন। পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙার কাছে ৫০ লাখ টাকার একটি চেক জমা পড়েছে বলেই জানান এই নেতা এবং চল্লিশা অনুষ্ঠান সফল করতে প্রয়োজনে সেলিম ওসমান আরও টাকা অনুদান দেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তবে সেলিম ওসমান বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে যোগযোগ করা সম্ভব হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙা বলেন, ‘অনুদান কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তবে কে কত টাকা দিয়েছে তা বলবো না। ঢাকা ও রংপুরে চল্লিশায় খরচ ধরা হয়েছে সোয়া কোটি টাকা। এ খরচ প্রয়োজনে বড়তে পারে।’

চল্লিশা অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানা গেছে, ওই দিন সারা দেশে জেলা-উপজেলা -থানা ও ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নে কোরআন খতম করা হবে। পরে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা মহানগরে দুঃস্থ মানুষের মাঝে তেহারি বা খিচুড়ি বিতরণ করবে।

সারা দেশের জেলা-উপজেলার নেতাদেরকে সাধ্যমত চল্লিশার আয়োজন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রংপুর মহানগরে কেন্দ্রীয়ভাবে ২০ হাজার দুঃস্থ মানুষের জন্য খিচুড়ির আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার নেতারা। এছাড়া বৃহত্তর রংপুরের জেলাগুলোতে নেতারা যে যার সাধ্যমতো চল্লিশা পালন করবেন। অনেক জেলা ও উপজেলায় সারাদিন কোরআন খতম করে বিশেষ মোনাজাতের পর মিষ্টি বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে রংপুর মহানগরের জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইয়াসির বলেন, ‘কেন্দ্রের নির্দেশ পাওয়া গেছে নির্দেশ অনুযায়ী সব কিছু করা হবে।’

 

চাঁদার টাকায় এরশাদের ‘চল্লিশা’

 

রংপুর মহানগরে ২০ হাজার দুঃস্থ মানুষের মাঝে তবারক বিতরণ করার টার্গেট রয়েছে। এ সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানান ইয়াসির। রংপুর মহানগরে কেউ গরু, কেউ চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবারহ করবে।

এদিকে, ঢাকা মহানগরের ৫০টি থানায় ৫০টি গরু সরবারহ করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির শীর্ষ নেতাদের। চল্লিশার জন্য ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানায় খরচ ধরা হয়েছে সোয়া লাখ টাকা করে। সূত্রমতে, এই টাকা প্রয়োজনে বাড়তে পারে।

এসব বিষয় নিয়ে দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রুবেল জানান, জাতীয় পার্টির কাকরাইল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বড় আকারে অনুষ্ঠান হবে। এছাড়া দক্ষিণের প্রতিটি থানায় পৃথক অনুষ্ঠান হবে। কেউ আবার বিচ্ছিন্নভাবে নিজের টাকায় ওয়ার্ডে চল্লিশা অনুষ্ঠান করবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণেও একইভাবে পালন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

এসব বিষয় নিয়ে পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের জানান, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিরা ১ লাখ করে অনুদান দিয়েছেন। কেউ বেশি কেউ কম। কত টাকা অনুদান উঠেছে তা বলা যাবে না। তবে জাঁকজমকপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতার সঙ্গে এরশাদ সাহেবের চল্লিশা পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চল্লিশার দিন তিনি ঢাকায় থাকবেন বলেও জানান জিএম কাদের।

সারাবাংলা

সর্বাধিক পঠিত