প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিতাসের ২৮ লাখ গ্রাহক প্রি-পেইড মিটার পেলে প্রতিদিন গ্যাস সাশ্রয় হবে ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট

শাহীন চৌধুরী: তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পর্যায়ক্রমে আবাসিক সকল গ্রাহকের জন্য প্রিপেইড মিটার চালু করতে যাচ্ছে। রাজধানীর কিছু এলাকায় প্রিপেইড মিটার প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে তা সম্প্রসারিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, তিতাসের প্রায় ২৮ লাখ আবাসিক গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটার দেয়া হলে প্রতিদিন ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সাশ্রয় হবে।

সূত্রমতে, প্রিপেইড মিটারের সাথে সহজে বিল শোধ করার উপায় চান গ্রাহকরা। জরুরি প্রয়োজনে বিল রিচার্জ করার সুযোগ চান তারা। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, বসুন্ধরা, বাড্ডা, তেজগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট, কাফরুল, মিরপুর, খিলক্ষেত এবং উত্তরা ও এর আশপাশের আবাসিক গ্যাস গ্রাহকদের প্রি-পেইড মিটার প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। এই এলাকায় মোট দুই লাখ প্রিপেইড মিটার লাগানো হবে। ইতিমধ্যে প্রায় এক লাখ আবাসিক গ্রাহকের বাড়িতে জরিপ শেষ হয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাস ইফিসিয়েন্সি প্রকল্পের আওতায় এই মিটার লাগানো হচ্ছে। সিস্টেম লস কমিয়ে আনতে নেয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।

প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করার জন্য ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) সাথে চুক্তি করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তাদের নিদির্ষ্ট শাখায় বিল দেয়া যাবে। অথবা ইউক্যাশের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং পদ্ধতিতে কার্ড রিচার্জ করা যাবে।

গ্রাহকরা মনে করছেন, কার্ড রিচার্জ করার উপায় সহজ হতে হবে। যখন তখন রিচার্জ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। ভোগান্তি কমাতে মোবাইলে বিকাশ, রকেট কিম্বা অন্যকোনো মাধ্যমে রিজার্চ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। তাহলে সুবিধা হবে।

তিতাস গ্যাস-এর পরিচালক প্রশাসন মুনীর হোসেন খান বলেন, প্রিপেইড মিটার প্রতিস্থাপন গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে। গ্রাহকরা যাতে আরও সহজে বিভিন্ন মাধ্যমে বিল রিচার্জ করতে পারে সে উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রিপেইড মিটারে গ্রাহকের খরচ ও অপচয় কমবে।

খিলক্ষেত এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, যেহেতু প্রিপেইড মিটার তাই গ্যাস যেকোন সময় ফুরিয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মোবাইলের মাধ্যমে সহজে রিচার্জের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এখন ব্যাংকে গিয়ে গ্যাসের বিল দিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। তাই কয়েক মাসের বিল একবারে পরিশোধ করি। কিন্তু প্রিপেইড মিটারে তো বিল জমিয়ে রাখার সুযোগ থাকবে না।

বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন এমন গ্রাহকরাও একই ধরনের অভিযোগ করেন। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা হেলেনা বিলকিস চৌধুরী বলেন, আমরা ৪ বছর ধরে প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছি। সবদিক থেকেই এটা ভালো। তবে রিচার্জ করাটা বেশ ঝক্কির। কয়েকবার খেয়াল রাখতে না পারায় তাৎক্ষণিকভাবে রিচার্জ করতে না পেরে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তিতাস গ্যাসের গ্রাহক সংখ্যা ২৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৪টা। এরমধ্যে আবাসিক গ্রাহক ২৭ লাখ ৬৪ হাজার ২৪৭টা। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করে তিতাস।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ইতোমধ্যেই দুই লাখ প্রিপেইড মিটার সংযোগ দেয়া হয়েছে এবং আরো সংযোগের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে গ্যাসের সকল মিটার প্রিপেইড করা হবে। ঢাকা মহানগরীসহ সকল এলাকা থেকে পুরাতন গ্যাস পাইপ লাইন অপসারণ এবং প্রিপেইড মিটার প্রতিস্থানের প্রকল্প নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। সম্পাদনা ; মিঠুন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত