প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনেকটাই সফল দুই সিটি করপোরেশন

সুজিৎ নন্দী: মাঠপর্যায়ে কর্মী সংখ্যা বাড়ানো ও তাদের ওপর নজরদারি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে অনেকটাই সফল হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মিরপুর, কল্যাণপুর, ধানমণ্ডি, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর ও পুরান ঢাকার বেশিরভাগ এলাকায় পরিষ্কার দেখা গেছে। তবে দক্ষিণ কল্যাণপুরে বুধবারও বর্জ্য দেখা গেছে।

ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতা বিভাগের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ‘এ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী আমরা ঈদের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত অফিসে থেকে একই পরিবারের মতো কাজ করেছি। আমরা সার্বক্ষণিক ওয়াকিটকির মাধ্যমে কর্মীদের খোঁজ-খবর নিয়েছি।’

ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, শতভাগ কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এ বছর মাঠ পর্যায়ে যেমন কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, তেমনি কঠোর করা হয়েছে মনিটরিং ব্যবস্থাপনা। এতে চ্যালেঞ্জিং হলেও নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়েছে।

ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘বিগত বছরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাগুলো কথা মাথায় রেখে এবার নতুন আঙ্গিকে পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনায় ছিল মাঠকর্মীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে কর্মীদের কার্যক্রম নিশ্চিত করা। এতে আমরা সফল হয়েছি।’

‘আমি নিজেও বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত লাইভ মনিটরিংগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি। এর ফলে পর্যাপ্ত কর্মী এবং সঠিক মনিটরিং ও কলিং সিস্টেমে নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা সেবা নিশ্চিত করতে পেরেছি। হটলাইনে প্রচুর সাড়া পেয়েছি। এতে যেসব স্থানে আমাদের কর্মীরা যেতে পারেননি সেসব স্থানেও ঠিকানা জেনে কর্মী পাঠাতে পেরেছি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করেছি।’

ডিএনসিসির একাধিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলেন, ‘এবার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। যে কারণে সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করে শত শত পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে পরিষ্কারের কাজে নিয়োগ করেছি। একই সঙ্গে মনিটরিং করেছি। এখনো মনিটরিং করা হচ্ছে ।’

ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানান, এ বছর সংস্থাটির নিজস্ব দুই হাজার ৪০০ জন নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ মোট নয় হাজার ৫০০ জন কর্মী বর্জ্য অপসারণে কাজ করেছেন। এবার প্রায় আড়াই লাখ পশু কোরবানি হয় ডিএনসিসি এলাকায়। ঈদের দিন ১৩ হাজার ২৩৪ টন বর্জ্য অপসারণ করেছে সংস্থাটি। এ কাজে খোলা ট্রাক, কন্টেইনার বক্স, কন্টেইনার ক্যারিয়ার, ডাম্পার ট্রাক, কম্পেক্টর, পানির গাড়িসহ ৪৩৮টি যানবাহন ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ডিএসসিসির কর্মকর্তারা জানান, এ বছর সংস্থাটির নিজস্ব পাঁচ হাজার ২৪১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ মোট নয় হাজার ৪৯৩ জন কর্মী কাজ করেছেন বর্জ্য অপসারণে। ডিএসসিসি এলাকায় এ বছর প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোরবানির পশু জবাই হয়েছে। এসব পশুর ১৬ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সংস্থাটির মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে অপসারণ করা হয়েছে। এ কাজে খোলা ট্রাক, কন্টেইনার বক্স, কন্টেইনার ক্যারিয়ার, ডাম্পার ট্রাক, কম্পেক্টর, পানির গাড়ি ও টায়ার ডোজারসহ ৩৮২টি যানবাহন ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ডিএসসিসির ফেইসবুক লাইভ মনিটরিং টিমের প্রধান ও সংস্থার আইসিটি প্রধান ও সিস্টেম এনালিস্ট আবু তৈয়ব রোকন বলেন, ‘আগে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঠিকমতো কাজ করছেন কি না তা মনিটরিং করা কঠিন ছিল। সবার পূর্ণ মনোযোগ ছিল বলেই এবার আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করতে পেরেছি।’

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত