প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মৎস্য অভয়াশ্রমের অর্ধেকের বেশি অচল হয়ে পড়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট : জলাশয়ে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া, পানি শুকিয়ে যাওয়া এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় মত্স্য অভয়াশ্রমগুলো অচল হয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে অনেক নদী-নালা, খালবিল শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে মাছের আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এতে মত্স্য অভয়াশ্রম হুমকির মুখে পড়েছে। অভয়াশ্রমগুলো হারিয়ে ফেলছে তাদের বৈশিষ্ট্য।  ইত্তেফাক

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাত্পদ এলাকার জনগণের দারিদ্র্র্য বিমোচন ও জীবিকা নির্বাহ নিশ্চিতকরণ (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৮৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করে মত্স্য অধিদপ্তর। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষে এর প্রভাব মূল্যায়ন সমীক্ষা করেছে আইএমইডি।

প্রকল্পটির মাধ্যমে ৩৭০টি মত্স্য অভয়াশ্রম তৈরি করা হয়েছিল। তিন থেকে আট বছর আগে স্থাপিত হয়েছে এমন ৫০টি অভয়াশ্রম নিয়ে সমীক্ষা করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এগুলোর মধ্যে ৫৮ ভাগ অচল অবস্থায় রয়েছে। সার্বিকভাবে ৩৭০টি মত্স্য অভয়াশ্রমের মধ্যে ১৫৫টি সচল রয়েছে। বাকি ২১৫টি অভয়াশ্রম অচল। কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে প্রকৃত গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষভাবে মত্স্যজীবীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থকে বঞ্চিত হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মত্স্য অভয়াশ্রম স্থাপনের ফলে মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল সৃষ্টি হচ্ছে। এখানে ডিমওয়ালা মাছ নিরাপদে প্রজনন করতে পারে। ফলে মাছের উত্পাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্মিলিত উদ্যোগে অভয়াশ্রমকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি, মত্স্য অফিসার কর্তৃক তদারকি এবং মত্স্যজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা জরুরি। অভয়াশ্রমগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনবোধে পুনরায় সংস্কার ও পুনঃখনন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মত্স্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সাঈদ মো. রাশেদুল হক ইত্তেফাককে বলেন, শুধু এই প্রকল্পেই নয়, সারাদেশে মত্স্য অধিদপ্তর পাঁচ শতাধিক অভয়াশ্রম তৈরি করেছিল। এর অর্ধেকের মতো সচল রয়েছে। আলোচ্য প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়েছে। নানা কারণে অচল হয়ে পড়েছে অভয়াশ্রমগুলো। তিনি জানান, অচল অভয়াশ্রমগুলোকে সচল করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইএমইডির সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, নানা কারণে দেশের উত্তর-পাশ্চিমাঞ্জলে বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এবং মার্চ-এপ্রিল—এই দুই সময়ে খাদ্যাভাব ও কর্মের অভাব ছিল, যাকে পূর্বে মঙ্গা বলে অভিহিত করা হতো। সেই সময়ের মঙ্গাপীড়িত এলাকায় সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তাবায়ন করা হয়েছে।

প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়নে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, প্রকল্পের আওতায় বিকল্প কর্মসংস্থানের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদানের ফলে ৯১ শতাংশ পর্যন্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সুফলভোগীদের পারিবারিক মাসিক গড় আয় বেড়েছে ৩০ শতাংশ। সুফলভোগীদের ৮৯ শতাংশের টিনের ঘরে উন্নীত হয়েছে। ৫০ শতাংশ ছেলেমেয়ে লেখাপড়া করছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে অ-খামারভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির ফলে মৌসুমী কর্মহীনতা কমেছে। ১ হাজার ২১১টি পতিত জলাশয় খনন বা পুনঃখননের মাধ্যমে চাষোপযোগী হিসেবে উন্নয়ন করা হয়েছে। অভয়াশ্রম তৈরি করার ফলে মাছের উত্পাদন ২১ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার পর কালিবাউস, মেনি, চেলা, কুচি, বোয়াল, বেলে, পাবদা, গুতুম, কই, কুঁচিয়া, ফলি, চিতল, আইড়, বাইম, শোল, গজার ইত্যাদিসহ নানা জাতের বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে।

প্রকল্পের দুর্বল দিক বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, মত্স্য অভয়াশ্রম সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনার স্বার্থে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন সংবলিত নির্দেশিকার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা প্রস্তুত করা হয়নি। পোনা মজুত এবং সংশ্লিষ্ট সমাজভিত্তিক সংগঠন কার্যকরভাবে সক্রিয় না থাকায় পোনা মজুত কার্যক্রমে ইপ্সিত ফলাফল পাওয়া যয়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত