প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাজারে এসেছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের টিকা

মাজহারুল ইসলাম : ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সের ওষুধ কোম্পানি স্যানোফি-পাস্তুর  উদ্ভাবন করেছে সিওয়াইডি-টিডিভি (কাইমারিক ইয়েলো ফিভার ডেঙ্গু টেট্রাভ্যালেন্ট ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন)। ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে এই ভ্যাক্সিনের ব্যবহার শুরু হয়েছে বিভিন্ন দেশে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এ টিকা অত্যন্ত কার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের অনুমোদন সাপেক্ষে  এই  টিকাটি বাংলাদেশে  এনেছে স্যানোফি-অ্যাভেন্টিস। যুগান্তর

জানা যায়, ২০১৫ সালে উদ্ভাবিত এই টিকা ২০১৬ সালে ফিলিপাইনের ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮লাখ মানুষের ওপর প্রয়োগ করে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়। বিশেষ করে ৯ বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে এ টিকা ৭৬ শতাংশ কার্যকর। প্রমাণ মিলেছে যে, গর্ভবতী মা ও গর্ভের শিশুর ওপর এই টিকার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। এমনকি টিকাগ্রহীতা ৮০ ভাগ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দেখা দিলেও তা মারাত্মক আকার ধারণ করে না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ টিকা সহজলভ্য করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে টিকার তিন ডোজের একটি সার্কেল গ্রহণ করতে হয়। প্রথম ডোজ গ্রহণের ৬মাস পর দ্বিতীয় ডোজ এবং এক বছর পর তৃতীয় ডোজ নিতে হয়। ডেঙ্গুর ৪টি সেরোটাইপের প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন এ টিকা মানবদেহে প্রয়োগের পর শরীরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। বিশেষ করে মানবদেহে ডেঙ্গুর যেসব অণু বহিস্থ এন্টিজেন হিসেবে কাজ করে, সেগুলো টিকায় সম্পৃক্ত থাকায় তা ৪টি পৃথক সেরোটাইপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে। আধুনিক রিকমবিনেট পদ্ধতিতে এ টিকা তৈরি করায় বর্তমানে এর দাম বেশি। তবে স্যানোফি-পাস্তুুরের এই টিকা দেশে সহজলভ্য করার সুযোগ রয়েছে। কারণ স্যানোফি-পাস্তুুরের এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে স্যানোফি অ্যাভেন্টিস কাজ করছে। ২০১৬ সালে ফিলিপাইনে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করার সময় এটির দাম ছিল ২০০ ডলার।

এ টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা বা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে (এশিয়ার পাঁচটি দেশে ও ল্যাটিন আমেরিকার পাঁচটি দেশে) গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যেখানে শিশু ও পূর্ণ বয়স্ক মানুষের (দুই থেকে ১৬ বছর) ওপর এটি প্রয়োগ করা হয়। প্রয়োগের এক বছর পর ফলোআপে দেখা গেছে, ৬০ ভাগ লোক যারা ডেঙ্গুর সেরোটাইপে আক্রান্ত হয়েছিল তাদের আর ডেঙ্গু হয়নি। ৮০ ভাগ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দেখা দিলেও সেটি মারাত্মক আকার ধারণ করেনি।

এছাড়া ৯ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের যাদের এ টিকা দেয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে ৯২ শতাংশের ডেঙ্গুর জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। তবে অধিকতর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৯ বছর বয়সী বা তদূর্ধ্ব যারা আগে ডেঙ্গু দ্বারা আক্রান্ত হয়নি এমন লোকদের ক্ষেত্রে এ টিকার কার্যকারিতা ৩৯ শতাংশ। ৯ বছর বয়সী বা তদূর্ধ্ব বয়সী যারা আগে ডেঙ্গু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের ক্ষেত্রে এ প্রতিষেধক টিকার কার্যকারিতা ৭৬ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ২বছরে দেশে ডেঙ্গুর নতুন সেরোটাইপ-৩ দ্বারা সংক্রমণ ঘটছে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে এ টিকা ব্যবহার হতে পারে। সরকারিভাবে এটি সর্বস্তরে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে বিতরণের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি সহজলভ্য করতে পারলে দেশের ডেঙ্গুজনিত জটিলতা ও মত্যুহার হ্রাস পাবে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে টিকা বাজারে এসেছে সেটি ব্যবহারে আরও অপেক্ষা করতে হবে। এর কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। এ বিষয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে নিরাপদ থাকা সম্ভব। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।

এমআই/এসবি

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত