শিরোনাম
◈ লাল কার্ড পে‌লেন ওলিস, ৬ গোলের রোমাঞ্চে বায়ার্ন মিউনিখ‌কে রুখে দিলো ভাইকিং ◈ রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার ◈ টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ২১ ইউনিটের ৪ ঘন্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ◈ ওমান প্রবাসীদের জন্য জরুরি খবর! ◈ বাংলাদেশে ই-বর্জ্য থেকে বছরে ৫০ কোটি ডলারের সম্পদ উদ্ধারের সুযোগ, ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ◈ চ‌্যা‌ম্পিয়ন্স লিগ, ম‌্যান‌চেস্টার ইউনাইটেড‌কে হারা‌লো অ‌্যাত‌লে‌তি‌কো মা‌দ্রিদ ◈ ময়মনসিংহে স্কুলে শিক্ষক–শিক্ষিকার মারামারির ভিডিও ভাইরাল, পরে যা জানা গেল ◈ ফরিদপুর মেডিকেলে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয়! ◈ ইয়ে‌মে‌নের নি‌র্দেশ, সৌদি আরবের আরামকো স্থাপনা খালি করো, রিয়াদে পাল্টা হামলা চালা‌নো হ‌বে ◈ বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার চাপে দেশের পোশাকশিল্প: প্রবৃদ্ধির আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি

প্রকাশিত : ১৩ জুলাই, ২০১৯, ০৮:৪৩ সকাল
আপডেট : ১৩ জুলাই, ২০১৯, ০৮:৪৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আর্থিক জালিয়াতি: ব্যাংকের তথ্যের অভাবে আটকে যাচ্ছে তদন্ত

ডেস্ক রিপোর্ট : শুধু ডাচ-বাংলা ব্যাংকেই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ব্যাংকের এটিএম বুথে আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু জালিয়াতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো থেকেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। যুগান্তর

এমনকি বড় জালিয়াতি হলেও যথাসময়ে তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও জানানোও হয় না। এই সুযোগে আর্থিক খাতের অপরাধীরা দেশ ত্যাগ করছে।

বিভিন্ন আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য চাওয়া হলেও অনেক সময় তা বিলম্বে দেয়া হচ্ছে। গত ১৯ জুন মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ও দমন কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে গঠিত কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য পেশ করা হয়।

সভায় জালিয়াতি রোধে গ্রাহকদের তথ্য সরাসরি সরবরাহের দাবি করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (কাউন্টার টেরোরিজম) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহিদুর রহমান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে ইউক্রেনের নাগরিকদের অর্থ জালিয়াতির তদন্তের স্বার্থে ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হলেও তারা সাড়া দেয়নি।

এ ছাড়া আরও অনেক ব্যাংকে এ ধরনের জালিয়াতি হয়েছে। এসবের প্রতিকারে ব্যাংকগুলো যেমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বা সময়মতো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাচ্ছে না। তদন্ত সংস্থা থেকে ব্যাংকে তথ্য চাওয়া হলেও তা দেরিতে পাঠানো হচ্ছে। এ সুযোগে অপরাধীরা দেশ ত্যাগ করতে পারছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আদালতের অনুমতি ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অনুমোদন ছাড়া গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ কোনো সংস্থাকে দিতে পারে না ব্যাংক। তবে জাল-জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকগুলো নিজ উদ্যোগে থানায় প্রাথমিক অভিযোগ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তথ্য দিতে পারবে। প্রচলিত বিধির বাইরে অন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাবে না।

জানতে চাইলে বিএফআইইউ প্রধান কর্মকর্তা আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান যুগান্তরকে বলেন, ডাচ-বাংলা ব্যাংকে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ইউক্রেনের নাগরিকদের তথ্য বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে। সেটা পরবর্তীতে সিআইডির কাছে সরবরাহ করা হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থা কার্যক্রম পরিচালিত হয় আস্থার ভিত্তিতে। সব গ্রাহকই চায় তার তথ্য অন্য কেউ না জানুক। বর্তমানে ব্যাংকার্স বুক অব এভিডেন্স ও ব্যাংক কোম্পানি আইনের মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা দেয়া আছে। প্রত্যেক দেশেই এ বিধান রয়েছে। অন্য দেশে ব্যাংক সিক্রেসি অ্যাক্টের মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্যের সুরক্ষা দেয়া হয়। এখন পুলিশকে সরাসরি তথ্য দিতে হলে আইন সংশোধন করতে হবে। এটা সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে এতে ব্যাংকিং খাতের ওপর গ্রাহকের আস্থা কমার আশঙ্কা রয়েছে।

গত ২ জুন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় ৬ ইউক্রেনের নাগরিককে আটক করে পুলিশ। এর আগে ২০১৬ সালে বেসরকারি তিনটি ব্যাংকের ৪টি এটিএম বুথে জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এটিএম বুথে এন্টি স্কিমিং ও পিন শিল্ড ডিভাইস বসানোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, ব্যাংক থেকে সরাসরি গ্রাহকের তথ্য নেয়ার ক্ষমতা চেয়ে একাধিকবার পুলিশের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়। গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখা ও গ্রাহকদের হিসাবের তথ্যের নিরাপত্তার কারণে অনুমতি দেয়া হয়নি। এখন আবার তারা এ ক্ষমতা চাচ্ছে। বর্তমানে আদালত, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ, দুদক, সীমিত আকারে এনবিআর ব্যাংক থেকে সরাসরি গ্রাহকদের তথ্য নিতে পারে।

টাস্কফোর্সের ওই সভায় মাদক ব্যবসায়ীদের লেনদেন খতিয়ে দেখা, ১৪৫ ভুয়া সমবায় সমিতিকে মনিটরিং এবং অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী কো-অপারেটিভ সোসাইটিকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় এই ১৪৫টি সমিতির কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে বিএফআইইউকে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া যেসব কো-অপারেটিভ প্রতিষ্ঠান নামের শেষে ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করে অবৈধভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাদের তথ্যসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বিএফআইইউতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া বিএফআইইউ থেকে মাদক ব্যবসায় জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকাও চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পোস্ট অফিসের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘নগদ’-এ দিনে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে সম্ভাব্য ঝুঁকির নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সভায় এবং পরবর্তীতে জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

টাস্কফোর্স ওই সভার সভাপতিত্ব করেন বিএফআইইউ’র প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। সভায় এনবিআর, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), পুলিশ, সিআইডি, দুদক, সমবায় অধিদফতর, জীবন বীমা কর্পোরেশন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও বেসরকারি ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ