প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ত্রিদেশীয় ট্রানজিটে উন্নয়নের নতুন ছোঁয়া পাবে বাংলাবান্ধা বন্দর

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ ভারত ও নেপাল মিলিয়ে ত্রিদেশীয় ট্রানজিটে বদলে যাবে বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর। এরই মধ্যে গাড়ি চলাচলের উদ্যোগ নিয়েছে তিন দেশের সরকার। এ সংক্রান্ত চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল পরস্পরের সড়কপথ ব্যবহার করে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাতায়াত করতে পারবে। বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন সমন্বয়’ এবং ভারতভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাটস ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত সর্বশেষ ২০১৪ সালের যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্ক (দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা) দেশগুলোতে ৫০০ মিলিয়ন মানুষের বসবাস। সেই বিবেচনায় ত্রিদেশীয় ট্রানজিট হলে ১০ বছরে বাংলাবান্ধা দেশের দ্বিতীয় স্থলবন্দরে পরিণত হবে। পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চত করে তিন দিশের মধ্যে ট্রানজিট সুবিধা চালু হলে বাংলাদেশের বাংলাবান্ধা, ভারতের ফুলবাড়ী ও নেপালের কাকরভিটা স্থলবন্দরগুলোতে আন্তবাণিজ্য বাড়বে। এতে বাংলাবান্ধা ১০ বছরে দেশের দ্বিতীয় স্থলবন্দরে পরিণত হবে।

একই সঙ্গে নেপাল চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। নেপালের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কয়েকগুণ বাড়বে। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও পর্যটন খাতের বিকাশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল (বিবিআইএন)-এর আওতায় মোটর ভেহিক্যালস অ্যাগ্রিমেন্ট (এমভিএ) বা মোটরযান চলাচল চুক্তি দ্রুত কার্যকর দেখতে চায় বাংলাদেশ ও ভারত। কারণ এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার এই চারটি দেশে বাণিজ্য বাড়বে। বিবিআইএন মোটরযান চলাচল চুক্তি পূর্ণাঙ্গ রূপে কার্যকর হলে ঢাকা থেকে গাড়িতে চড়ে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা। হিমালয় কন্যা দেখার আগে সড়কপথে ভারতের শিলিগুড়ির সৌন্দর্যও উপভোগ করা যাবে। আকাশে উড়ে যারা নেপাল যেতে চান না, তাদের জন্য যাত্রী পরিবহন হিসেবে শিলিগুড়ি হয়ে কাঠমান্ডু যাবে বাংলাদেশি গাড়ি। ফলে মহানন্দা নদী তীরে অবস্থিত বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরে দ্বার খুলবে অপার সম্ভবনার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটন খাতের বিকাশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবিআইএনের আওতায় পরিবহন চলাচল চুক্তি কার্যকর করা প্রয়োজন। এ জন্য একটি কার্যকর সংস্থা তৈরি করা যেতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত ভুটান চুক্তি কার্যকরে উদ্যোগ নেয়নি।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মোটরযান চলাচল চুক্তি দ্রুত কার্যকর হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য যেমন বাড়বে, তেমনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। এক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিবিআইএন কার্যকরের ফলে বাণিজ্য সর্ম্পকিত কিছু ভুলবোঝাবুঝিরও অবসান হবে। ক্যাটর্স ইন্টারন্যাশনালের সহকারী নীতি বিশ্লেষক অর্ণব গাঙ্গুলি বলেন, বিবিআইএন কার্যকর হলে ‘বাংলাদেশ ভুটান ভারত ও নেপাল’র মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে। বাড়বে বাণিজ্য সুবিধাও। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও বাড়বে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, আমাদের পরবর্তী ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বিবিআইএনকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের যৌথ উদ্যোগ বিবিআইএন নামে পরিচিত। ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে এই চার দেশের মধ্যে বিবিআইএন মোটর ভেহিক্যালস অ্যাগ্রিমেন্ট (এমভিএ) বা মোটরযান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষর হয় ২০১৫ সালের জুনে। পরে এই চুক্তি বাস্তবায়নে ধীর চলো নীতি অনুসরণ শুরু করে ভুটান। দেশটির সংসদের উচ্চকক্ষ চার দেশের মধ্যে যান চলাচল চুক্তির অনুমোদন দেয়নি। তাই ভুটানকে বাদ দিয়েই বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে গাড়ি চলাচলের উদ্যোগ নিয়েছে তিন দেশের সরকার। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল পরস্পরের সড়কপথ ব্যবহার করে এক দেশ আরেক দেশে যাতায়াত করতে পারবে।

বিবিআইএনের আওতায় বাংলাদেশ-ভারত ও নেপাল মিলিয়ে ত্রিদেশীয় ট্রানজিটেও অপার সম্ভাবনা হয়ে উঠছে বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর। দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়ন বাংলাবান্ধা ত্রিদেশীয় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণ হয়ে দাঁড়াবে। এই তিন দেশের মানুষও স্বল্প খরচে স্থলপথে এক দেশ থেকে আরেক দেশে চলাচল করতে পারবেন। পর্যটকদের পাশাপাশি বাংলাদেশে শিক্ষা গ্রহণের জন্য নেপালের শির্ক্ষাথীদের আগমনও অনেক বাড়বে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত