প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাজেটে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাত বরাদ্দ পাচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা

শাহীন চৌধুরী: আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ২৯ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। অতিরিক্ত দামে বিদ্যুৎ ও গ্যাস ক্রয় করে কম দামে গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণের কারনে এই খাতে বরাবরই ভর্তুকি দিতে হয়। গ্যাসের দাম সমন্বয় না করায় এ বছর ভর্তুকির পরিমান আরও বাড়াতে হচ্ছে। বরাদ্দকৃত এই বাজেট ভর্তুকির মধ্যে শুধু বিদ্যুৎ খাতেই ২৬ হাজার কোটি বরাদ্দ দেওয়া হবে। আর জ্বালানিতে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে এলএনজি আমাদানি ও তা জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হওয়ায় জ্বালানি খাতে ঘাটতির পরিমান এবার মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পাবে। সরকার সম্প্রতি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ নিলেও বাংলাদেশ এনাজি রেগুলেটরি কমিশনের গণশুনানীতে অংশগ্রহনকারী বিভিন্ন গ্রুপের ব্যাপক বিরোধীতার কারনে উদ্যোগটি থেমে যায়। ফলে বিপাকে পড়েছে পেট্রোবাংলা। এজন্য পেট্রোবাংলা একাই আগামী বাজেটে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দাবি করেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) গড় ঘাটতি আগের মতই রয়েছে। তাদের বার্ষিক ঘাটতির পরিমান প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। সরকারি দফতরগুলোতে বিল বকেয়া থাকাটা বিপিডিবির একটি বড় সমস্যা। অবশ্য আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় এ বছর বাংলাদেশ পেট্রোরিয়াম করপোরেশনে ঘাটতি কিছুটা কমেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এত বিপুল পরিমান ভর্তুকি দিয়ে একটি সেক্টর চলতে পারেনা। তারা এক্ষেত্রে সরকারকে বিকল্প অনুসন্ধানের পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে এলএনজির খরচ মেটাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পক্ষে দৃড় অবস্থানে রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির কারণে এরই মধ্যে ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। অতিরিক্ত আরও ১৪ হাজার কোটি টাকার মতো প্রয়োজন হবে। এ অবস্থায় গ্যাসের দাম সমন্বয় করতে না পারলে ভর্তুকি আরও বাড়তেই থাকবে।

নসরুল হামিদ বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি গ্রিডে যোগ হয়েছে। শিগগিরই আরও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি যোগ হবে। গত বছর আগস্ট থেকে আমরা এলএনজি আমদানি শুরু করেছি। আমদানিকৃত এই গ্যাসের দাম অনেক বেশি। নিজস্ব গ্যাসেরই আমরা এখন ভর্তুতি দেই। গ্যাসের যে দাম তার থেকে অনেক কম দামে গ্রাহককে সরবরাহ করা হয়। যদি দাম সমন্বয় না করা হয় তাহলে চলতি অর্থবছরে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। আগামী অর্থবছর ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা বাড়তি লাগবে।

তিনি বলেন, আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করার পশাপাশি পুরনো গ্যাস লাইন খুলে ফেলে নতুন করে পাইপ লাইন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর এজন্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে গ্যাস সাশ্রয়ের কথাও চিন্তা করা হচ্ছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত