শিরোনাম
◈ ক্ষমতায় গিয়ে কথা না রাখলে জবাব দিতে হবে: তারেক রহমান ◈ ইতিহাসের সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম ◈ ‘ভয়াবহ দুর্নীতি’ আদানি চুক্তিতে: বাতিলের জন্য যেতে হবে আন্তর্জাতিক আদালতে ◈ সিডনিকে সিক্সার্সকে হা‌রি‌য়ে বিগ ব্যাশে রেকর্ড ষষ্ঠ শিরোপা জয় কর‌লো স্করচার্স ◈ দেশের মানুষের জন্যই বিএনপির রাজনীতি: তারেক রহমান ◈ ভারত থেকে ৮ ট্রাকে ১২৫ মেট্রিক টন বিস্ফোরক প্রবেশ করল দেশে ◈ চীনের অনুদানে যে কারণে নীলফামারীতে হবে ১০ তলা হাসপাতাল, আরও যা যা থাকছে ◈ কোথায় রাখা হবে পোস্টাল ব্যালট, গণনা কোন পদ্ধতিতে ◈ আই‌সি‌সি এমন কে‌নো, কী কার‌ণে বাংলাদেশ ভারতের বাইরে খেলতে পারবে না— প্রশ্ন অ‌স্ট্রেলিয়ান গিলেস্পির  ◈ বিশ্বকাপ বয়কট আলোচনার মধ্যে দল ঘোষণা করলো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড

প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০১৯, ০৬:৫২ সকাল
আপডেট : ৩১ মে, ২০১৯, ০৬:৫২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গোসলের ছবি দেখিয়ে গণধর্ষণের পর সন্তান প্রসব, জড়িত চাচাও!

ডেস্ক রিপোর্ট : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় গণধর্ষণের ১০ মাস পর ১৩ বছরের এক কিশোরী মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। গত বুধবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে এই সন্তানের জন্ম হয়।

জানা যায়, কিশোরীর মা মানসিকভাবে অসুস্থ। তিনি অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। আর কিশোরীর ছোট ভাই দোকান কর্মচারীর সামান্য টাকায় চলে তাদের সংসার। দারিদ্র্যতার কারণে ষষ্ঠ শ্রেণিতেই বন্ধ হয়ে যায় ওই কিশোরীর পড়াশোনা।

বাড়ির কাজকর্ম দেখাশোনা করেই কেটে যাচ্ছিল তার সময়। এর মাঝেই গত ১০ মাস আগে তার জীবনে নেমে আসে আরেক ভয়ানক দুর্যোগ। গোসল শেষে কাপড় পাল্টানোর সময় গোপনে মোবাইলে ছবি ধারণ করে রুদ্র পাল নামের এক প্রতিবেশী।

রুদ্র সেই ছবি টাকার বিনিময়ে আরেক প্রতিবেশী মিঠুন পাল ও বসন্ত পালকে দেন। পরে মিঠুন পাল ও বসন্ত পাল ওই কিশোরীকে ডেকে নিয়ে ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে ধর্ষণ করেন। সেই সঙ্গে বিষয়টি গোপন না রাখলে মা ও ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেন তারা।

এ ঘটনার ১৫ দিন পর আবার ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন মিঠুন ও বসন্ত। এর দুইমাস পরে কিশোরীর আপন চাচা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে কিশোরীকে কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করেন তিনি। হুমকি দেওয়ায় দীর্ঘ ৮ মাস বিষয়টি গোপন রাখে ওই কিশোরী। দুই মাস আগে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়।

চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানান কিশোরীর পরিবারকে। এসময় তার কাছে জানতে চাইলে বিস্তারিত ঘটনা পরিবারকে জানায় ওই কিশোরী। পরে ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় চারজনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তাদের চারজনকেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

ওই কিশোরীর ভাষ্যমতে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আমার পরিবারকে হুমকি দিয়ে বাচ্চা নষ্ট করার জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তখন ডাক্তার বলেছিল, যেহেতু আট মাস পার হয়ে গেছে, এখন বাচ্চা নষ্ট করা হলে আমার মৃত্যু হতে পারে। এমন কথা শুনে আমার পরিবার বাচ্চা নষ্ট করতে দেয়নি।

ওই কিশোরীর দাবি, জন্ম নেওয়া ওই শিশুর বাবাকে পরীক্ষার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হোক। একই সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হোক।

কিশোরীর পরিবারের এক সদস্য জানান, বুধবার সকালে ওই কিশোরীর প্রসব ব্যথা শুরু হলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সে নিজেই এখনো কিশোরী, তার গর্ভে থেকে জন্ম নিলো আরেকটি শিশু। কী হবে শিশুর পিতৃ পরিচয়? আর কে করবে ভরণ-পোষণ?

দরিদ্র পরিবারটি এমন হাজারো হতাশার কথা জানালেও কিশোরীর পাশে থেকে ন্যায় বিচারের জন্য লড়ে যাবেন বলে জানান তারা। পাশাপাশি সদ্য জন্ম নেওয়া মেয়ে শিশুর বাবার পরিচয় ও দোষীদের শাস্তি দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক তাহমিনা সুলতানা জানান, বুধবার দুপুরে শিশুটিকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শিশুটির ওজন কম ও শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে শিশুটির অবস্থা শঙ্কা মুক্ত নয়।
সূত্র : দৈনিক আমাদের সময়

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়