প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ঈদ প্রস্তুতি

জাহিদুল হক চন্দন,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : ঈদ মানেই পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে যানজট, দুর্ভোগ। ফেরির সল্পতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ন্যব্যসংকট কিম্বা অতিরিক্ত স্রোত এবং ঈদে যানবাহনের চাপে নদী পারাপারে অতিরিক্ত সময় লাগে। এসমস্ত সমস্যাকে চিহ্নিত করে এবারের ঈদে নেয়া হয়েছে ব্যপক প্রস্তুতি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে যে কোন মূল্যে নির্বিঘ্নে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নিশ্চিত করা হবে। এদিকে গত বুধবার নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ঘাট এলাকা পরিদর্শন করে ঘাটের প্রস্তুতির ব্যাপারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

রাজধানী ঢাকার সাথে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১ টি জেলার কয়েক লক্ষ মানুষের অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি সার্ভিস। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন এই রুটে চলাচল করে প্রায় আড়াইহাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। ফেরির পাশাপাশি লঞ্চ সার্ভিসে পারাপার হয় লক্ষ্যাধীক যাত্রী। গড়ে ১৬টি ছোট-বড় ফেরি এবং ৩০টি লঞ্চ ব্যবহার করা হয় যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে। কিন্তু ঈদের সময় যানবহন ও যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যায় দ্বিগুনেরও বেশি। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো এসব মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নানামুখি উদ্যোগ নিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

ঈদের তিনদিন আগে ও পরের তিন দিন বন্ধ থাকবে সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার। তবে জরুরী পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার থাকবে স্বাভাবিক। বর্তমানে ১৬ টি ফেরি চলাচল করলেও তবে ঈদের আগেই বহরে যুক্ত হবে আরও চারটি ফেরি। নারায়নগঞ্জ ডক ইয়ার্ড এবং পাটুরিয়া ঘাটের ভ্রাম্যমান কারখানায় মেরামত করা হচ্ছে ফেরিগুলি। ফেরির পাশাপাশি যাত্রী পারাপারে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে চলাচল করবে ছোট বড় মিলে মোট ৩৪ টি লঞ্চ। যাত্রাপথে অসুস্থ হয়ে পড়া ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় কাজ করবে ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম। এছাড়াও যাত্রী ও পরবিহন চালকদরে সুবিধার্থে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অস্থায়ীভাবে ২০টি শৌচাগার নির্মাণ করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ফেরিঘাট এলাকা দিয়ে যাতায়াত করা লাখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ জেলার প্রায় ৩৬ কিলোমিটার অংশে মোতায়েন থাকবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ৫ শতাধিক সদস্য। এছাড়াও ফেরিঘাট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য মহাসড়ক ও ফেরিঘাট এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। সব মিলিয়ে পবিত্র ঈদ উল ফিতরে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা ঘাট শাখার উপ-মহাব্যাবস্থাপক মো. জিল্লুর রহমান জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই নৌরুটে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে এবং ঈদের সময় আরও তিনটি ফেরি অর্থাৎ ২০টি ফেরি চলাচল করবে। আশা করি এই ২০টি ফেরি দিয়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে নিরাপদে পারাপার করতে পারব।

বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাটের ভাসমান কারখানার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এনামুল হক জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে ফেরি মেরামতের জন্য আমরা সর্বদায় প্রস্তুত। যে ফেরিগুলো বড় ধরনের সমস্যা ছিল ইতিমধ্যে সেগুলো সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। আর চলাচল অবস্থায় যদি কোন ফেরির সমস্যা হয় তাহলে সেগুলো মেরামত করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা ঘাট শাখা সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, আরিচা কাজির হাট এবং পাটুরিয়া দৌলতদিয়া নৌপথ রয়েছে। আমাদের এই দুটি নৌপথে ৩৫টি লঞ্চ চলাচল করে থাকে। তবে একটি লঞ্চের ফিটনেস সমস্যার কারনে সেটা বন্ধ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। বর্তমানে আমাদের কোন সংকট নেই। যদি কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হয় তাহলে ঈদমুখো যাত্রীদের নিরাপদে লঞ্চ চলাচল করতে পারবে ইনশাল্লাহ।

শিবালয় উপজেলা র্নিবাহী র্কমর্কতা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি কন্টরুম ও মেডিকেল ইউনিট গঠন করা হবে। যাত্রীদের জন্য ২০ টয়লেট ও আলোর ব্যবস্থা করা হবে। যাতে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের কোন সমস্যা না হয়।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও আমরা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। এই কাজের জন্য প্রায় ৫ শত পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। আমাদের যে হাইওয়ে রয়েছে সেখানে যেন আইশৃঙ্খলার সমস্যা না হয় এবং কোন যাত্রী যাতে প্রতারণার শিকার না হয় সেজন্য ঘাট এলাকায় ও আশপাশে সাদা পোশাকে আমাদের পুলিশ কাজ করবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত