প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন বিদেশ যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট  : কথিত সোনার হরিণ খুঁজতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে না যেতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সরকার দেশেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছে, তাছাড়া যারা বিদেশে যেতে চায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভালোভাবে যেতে পারে। এক্ষেত্রে দালালের পেছনে পড়ে জীবনকে শঙ্কায় না ফেলতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জাপানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন শেখ হাসিনা।

সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নিহতের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা দেশের বাইরে যাবে নিজের ভাগ্য লক্ষ্মী খুলতে, সোনার হরিণ পাওয়ার জন্য। এটা ঠিক যে বাইরে আসার ফলে অনেকের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে, আমাদের দেশেরও উন্নতি হয়েছে- এতে কোনো সন্দেহ নাই। তবে আমি মনে করি অবৈধভাবে বিদেশে আসার কোনো প্রয়োজনই নাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেখেছি অনেকে নিজের ঘর বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে প্রবাসের পথে যাত্রা শুরু করে। এত অনিশ্চয়তার মধ্যে সে জানে না কোথায় যাবে, কোথায় কী? হয়তো কিছু দালাল থাকে তারা খুব ভালো স্বপ্ন দেখায়, সেই স্বপ্ন দেখে সোনার হরিণের পেছনে ছুটতে যেয়ে নিজেদের জীবন দিতে হয়।’

প্রবাসীদের কল্যাণে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেজন্য আমরা যেটা করেছি আমাদের প্রত্যেকটা ডিজিটাল সেন্টারে সকলে রেজিস্ট্রেশন করবে। এই রেজিস্ট্রেশন করার পরে তালিকাটা থাকবে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কোথায় চাকরি পাবে, সেই চাকরির কী কী সুবিধা পাবেন, ঠিক মতো চাকরিটা হবে কি না, বেতনটা হবে কি না? সেই বিষয়ে তথ্য নিয়ে তারপরে যেতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বাইরে কাজ করতে যাবে তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাও করা আছে। তাই প্রয়োজনীয় ট্রেনিং নিয়ে বিদেশ যেতে হবে। এতে বেতনও ভালো পাওয়া যাবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করে দিয়েছি, যে জমি জমা বিক্রি না করে ওই ব্যক্তি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা নিয়েও বিদেশ যেতে পারে। যারা হতদরিদ্র তাদের কোনো জামানতও দিতে হয় না। আমরা তাদের সহযোগিতা করি এবং খুব অল্প পয়সায় তারা প্রবাসে যেতে পারে। এত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন জানি মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ যায়! যখন আমরা দেখি সাগরে মানুষ মারা যায়, আট লাখ টাকা ব্যয় করে গিয়েছে।’

বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত চলে গেছে, সেই সুযোগটা আছে। এভাবে নিজেকে ধ্বংস করার পথে যেন কেউ না যায়। এখন দেশে কাজ করলেই টাকা। কেউ একটু কষ্ট করে কাজ করতে চায় তাহলে তারা কিন্তু কাজ করতে পারে।’

প্রবাসীদের দেশে বিনিযোগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীরাও আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে পারেন। প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করলে তারা নিজেরাও উন্নত হবেন, দেশও উপকৃত হবে।

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রবাসী বাংলাদেশি শাকুরা সাবের, সালেহ মোহাম্মদ আরিফ প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত