প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

মনুষ্যসৃষ্ট যানজটে নাকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন : আগে যাওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে যানজট সৃষ্টি করছে চালকরা। চালকদের বাধা দিতে গেলে ট্রাফিক পুলিশ এবং ঢাবি প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা নিজেরাই হচ্ছেন বাধার সম্মুখীন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভিসি চত্বর থেকে নীলক্ষেতের দিকে যে সব রিকশা, প্রাইভেট কার, সিএনজি, মটর সাইকেল চলাচল করে তার বেশির ভাগ বামপাশের পথে জ্যাম দেখলে উল্টো পথে অর্থাৎ ডানদিকের পথ দিয়ে ছুটেন। বিশেষ করে রিকশা এবং মোটর সাইকেলগুলো। যার ফলে নীলক্ষেত থেকে ভিসি চত্বরের দিকে সঠিকপথে আসা গাড়িগুলোর সাথে রাস্তার একপাশ ভাগাভাগি হওয়ায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। না পারে নীলক্ষেতের গাড়িগুলো চত্বরের দিকে আসতে আবার এদিকে চত্বরের দিক থেকে না পারে নীলক্ষেতের দিকে ভালোভাবে চলাচল করতে। আর এভাবে জ্যামে আটকা গাড়িগুলোর প্যাপো হর্ণ আর বেলের শব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হয়ে উঠে মহাখালী কিংবা মালিবাগ। এছাড়া ভারি যানবাহনের চলাচলও ক্যাম্পাসে চোখে পড়ার মত। বিভিন্ন সেক্টরের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বহনকারী বাসগুলোও ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে চলাচল করায় তৈরি হয় তীব্র যানজট।

ক্যাম্পাসে যানজট নিয়ন্ত্রণে ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসুর) পরিবহন সম্পাদক, নীলক্ষেত ট্রাফিক পুলিশ, প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা একত্রে প্রচেষ্টা চালালেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না উল্টোপথে চালকদের। বরং তারা বিভিন্নরকম বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এমনকি রবিবার ২৬ মে ২০১৯ এই প্রতিবেদককে উল্টোপথে আসা গাড়ির ছবি তুলতে গেলে আঙ্গুল তুলে এক চালক বলেন, ছবি না তুলে পারলে জ্যাম ছাড়ান।

পরিবহন সম্পাদক শামস ঈ নোমান জানান, আমি চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে জানযট সমস্যা সমাধান করার। আমি বহিরাগত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছি। যেহেতু আমাদের কে কোনো প্রশাসনিক পাওয়ার দেয়া হয়নি তাই আমি তো চাইলেই আর কোনো কিছুর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারিনা।

ঢাবি প্রক্টরিয়াল টিম জানান, আমরা প্রতিদিন যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা করছি। ভিসি চত্বরমোড়ে দাঁড়িয়ে থেকে উল্টো পথে গাড়ি চলতে দিচ্ছি না। কিন্তু আমরা নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। অনেকেই আমাদের সাথে ঝগড়া করেন গালাগালি দেন, জোর করে উল্টোপথে যেতে চান। না যেতে দিলে আমাদের উপরে ক্ষেপে গিয়ে এমনকি মারতে চান আমাদের।

তারা জানান, এমনকি ঢাবির শিক্ষার্থী পরিচয়ে একজন উল্টোপথে যেতে চাইলে আমরা যখন তাকে বাধা দেই এবং তার স্টুডেন্ট আইডি কার্ড দেখতে চাই তিনি আইডি কার্ড দেখাতে পারেন নি। রোজা রেখেও আমরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি, কিন্তু চালকদের নিয়ন্ত্রণ করতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত