প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারের দুর্নীতি ও অদূরদর্শীতার কারণে কৃষি ধ্বংসের মুখে, কৃষক ও কৃষিকে বাঁচাতে ৯ দফা প্রস্তাবনা দিলো বিএনপি

শাহানুজ্জামান টিটু : ন্যায্য মূল্যে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে বিএনপি। সঙ্গে কৃষককে বাঁচাতে ৯ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে দলটি।

শনিবার (২৫ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাবনা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগানদাতা কৃষক পরিবারের অবস্থা আজ খুবই নাজুক ও দূর্বিসহ। কিন্তু কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশাগ্রস্থ। ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এর সুদূরপ্রসারী পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। দেশের প্রায় ১.৫ কোটি কৃষক পরিবারের আজ ত্রাহি অবস্থা। কৃষকদের চাওয়া খুবই সামান্য ও যৌক্তিক। আমরা কৃষকদের এই যৌক্তিক দাবির সাথে একমত।

তিনি বলেন, বারবার গরীব কৃষক তার জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি কৃষি খাতকে একটি আধুনিক ও টেকসই খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য আজ বড়ই প্রয়োজন সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু নির্বাচনে মাধ্যমে জনগনের একটি সরকার।

কৃষক ও কৃষিকে বাঁচাতে ৯ দফা প্রস্তাবনায় রয়েছে :

এক. কৃষকদের উৎপাদিত ধানের বিপরীতে সরকার ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী কৃষককে কমপক্ষে ৩ মাসের জন্য সমপরিমান টাকা বিনা সুদে প্রদান করা। যেমন: কোন ক্ষুদ্র চাষী ৫০ মন ধান উৎপাদন করলে তাকে ৫০ মন ধানের বিপরীতে (৫০ ৪০ ২৮ টাকা )= ৫৬,০০০/-টাকা ধার দেয়া। ৩ মাস পর কৃষক তার ধান বিক্রি করে ধার পরিশোধ করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তদারকীর মাধ্যমে সঠিকভাবে ক্ষুদ্র চাষীকে চিহ্নিত করে এই কাজ করতে পারে সরকার। এতে কৃষকরা বর্তমান অবস্থা হতে পরিত্রান পাবে।

দুই. সরকারি পর্যায়ের ধান চাল গুদামজাত করনের ক্ষমতা হলো প্রায় ২১.৮ লাখ মেঃ টন। এই ধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে বেশী পরিমাণে সরকারকে ধান ক্রয় করতে হবে। কৃষকদের সহায়তা দিতে সরকারের সদিচ্ছা থাকলে বেসরকারী গুদাম ভাড়া করে সেখানে ধান চাল সংগ্রহ করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর (সোসাল সেফটিনেট প্রোগ্রাম) আওতা বাড়িয়ে অধিক পরিমান চাল বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে। যেন কৃষকের উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সদ্ব্যবহার করা যায়।

তিন. কৃষকের কাছ থেকে বেশী পরিমান ধান ক্রয়ের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করছি। যা দিয়ে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৩৬ লক্ষ মেঃ টন ধান কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ বা ক্রয় করতে পারে।

চার. কৃষকদের হয়রানি কমিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান বা চাল কিনতে হবে।

পাঁচ. প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র কৃষকরা উৎপাদন মৌসুমে অর্থের প্রয়োজনে তার ধান সস্তায় বিক্রি করে এবং কিছু দিন পর আবার নিজে বেশী দামে ক্রয় করে বাজার থেকে চাল কিনে খায়। সে কারণে প্রান্তিক চাষী ও ক্ষেত মজুরদের জন্য বিশেষ সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ছয়. ধান চাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে অসৎ কর্মকর্তাদের জড়িত করা যাবে না এবং অসৎ কর্মকর্তাদের শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সাত. সরকারের দলীয়করণের কারণে খাদ্য বিভাগের অসাধু কর্মকর্তারা কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি চাল কিনতে ৩ থেকে ৫ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছে, যা পত্রিকায় এসেছে (প্রথম আলো-২২.৫.২০১৯)। দলীয় নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করার জন্য তাদের ধান কেনার অনুমতি দিয়ে সরকার কৃষকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে।

আট. দেশে ধান উৎপাদন সম্পর্কে সরকার মিথ্যাচার করছে। সরকার বলছে দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন, অথচ প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ লক্ষ মেঃ টন চাল আমদানী করছে। সরকার জনগণের সাথে মিথ্যাচার করে আসল সত্যকে আড়াল করছে।

নয়. মৌসুমের আগেই ধানের সংগ্রহ মূল্য ঘোষণা করা এবং সংগ্রহ মূল্য অবশ্যই উৎপাদন খরচের চেয়ে যৌক্তিক পরিমান বেশী হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত