প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হুয়াওয়ের অ্যান্ড্রয়েড বাধা: গুগল অ্যাপগুলোর ওপর কতটা নির্ভরশীল আমরা?

শেখ নাঈমা জাবীন : বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্ট ফোন কোম্পানি হুয়াওয়ে গুগলের কিছু সফটওয়্যার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরে ভালোই বিপদে পড়েছে। গুগলের ভীষণ জনপ্রিয় কয়েকটি অ্যাপ ইউটিউব, গুগল ম্যাপ, জিমেইল এর মত অ্যাপগুলোর ওপর মানুষ কতটা নির্ভরশীল, তার ওপর নির্ভর করছে এই চীনা কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুয়াওয়েকে এমন একটি তালিকায় রাখা হয়েছে যে তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সাথে কোন আমেরিকান কোম্পানি লাইসেন্স ছাড়া বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না। গুগলের এ সিদ্ধান্তের ফলে হুয়াওয়ে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের কিছু আপডেট করতে পারবে না এবং কয়েকটি গুগল অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে না। বিবিসি

হুয়াওয়ে তরতর করে সামনে আগাচ্ছিলো। সম্প্রতি স্মার্টফোন বিক্রিতে হুয়াওয়ে জনপ্রিয় মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যাপলকেও ছাড়িয়ে যায়। মোবাইলে গুগল অ্যাপ ব্যবহার করতে না পারলে মানুষ কতটা গ্রহণ করবে ওই ফোন, বা আদৌ করবে কিনা এ নিয়ে ভাবছেন এই চীনা প্রতিষ্ঠানটি।

গুগল সার্চ : ইন্টারনেটে যে কোনো তথ্য খুঁজে পেতে সার্চ ইঞ্জিন প্রোভাইডারগুলোর মধ্যে এখনো গুগলই জনপ্রিয়তার শীর্ষে। পৃথিবীজুড়ে ৮৯ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেটে কিছু খুঁজতে হলে গুগলে খোঁজে। গুগলের প্রতিদ্বন্দ্বী সার্চ ইঞ্জিন, বাইদু, আসলে এর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীও নয়। ৮ শতাংশ লোক বাইদু ব্যবহার করে, যাদের বেশিরভাগই চীনে বাস করে। গুগল ছাড়া মানুষ চলতেই পারে না, সেখানে এ নিষেধাজ্ঞার কারণে হুয়াওয়ের স্মার্টফোন বিক্রিতে বেশ ভাটা পড়বে।
ইউটিউব : ২০০৬ সালে ইউটিউব কিনে নেয় গুগল। ইউটিউব এতটাই জনপ্রিয় যে এটি একটি নতুন পেশার সৃষ্টি করেছে। যার নাম ইউটিউবার। আপনি যদি কম্পিউটারে গেইম খেলায় বেশ দক্ষ হন, কিংবা ভালো মেকআপ করতে পারেন অথবা অন্য কোনো কিছু শেখান- লাখ লাখ লোক আপনার ভিডিও দেখতে পারে, আপনার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে পারে আর রাতারাতি আপনি হয়ে যেতে পারেন কোটিপতি!

ফোর্বস ম্যাগাজিন এর প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর শীর্ষ ১০ ইউটিউবার মোট ১ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয় করেছে। মানুষের খ্যাতি ও অর্থের বাসনাকে প্রভাবিত করে ভালোই কামিয়েছে ইউটিউব। তবে এই একটি ক্ষেত্রেই গুগলকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মার্কেটিং কোম্পানি সেন্সর টাওয়ারের হিসাব মতে, ২০১৮ সালে যে অ্যাপগুলো সবচেয়ে বেশি ডাউন লোড করা হয়েছে তার মধ্যে তিন নম্বরে রয়েছে টিকটক।

২০১৬ সালে প্রথম এই অ্যাপ বাজারে আসে। এ অল্প কদিনেই টিকটক নিয়মিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫ কোটিতে পৌঁছেছে। বাইটড্যান্স নামের এক চীনা কোম্পানি প্রথমে ‘ডোয়িন’ নামে এ অ্যাপ চালু করে। এখনো চীনে এ অ্যাপ ডোয়িন নামেই পরিচিত। এ অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি খুবই ছোট দৈর্ঘ্যের ভিডিও বানাতে পারবেন। ইউটিউব তো বটেই, এটি ইনস্টাগ্রামের জনপ্রিয়তাকে আরো বেশি হুমকির মুখে ফেলেছে। আবার এটিও প্রমাণ করেছে যে মানুষের রুচি কত দ্রুত বদলে যেতে পারে। ইউটিউব এখন গুগলের বেশ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। প্রায় ১৮ কোটি লোক ইউটিউব ব্যবহার করে। তবে এ চিত্র পাল্টে যাওয়াও অসম্ভব কিছু না। নতুন নতুন প্রতিদ্বন্দ্বীর আবির্ভাবের ফলে এই অ্যাপও হয়ত একদিন তার জনপ্রিয়তা হারাবে। সম্পাদনা : কায়কোবাদ মিলন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত