প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু!

অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন : ছোটবেলায় ইংরেজি ক্লাসে ‘ডাক্তার আসিবার পূর্বেই রোগী মারা গেলো’ ট্রান্সলেশন শিখতে গিয়ে মনে মনে ডাক্তার সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণা জন্মেছিলো। মনে হতো, ডাক্তার বোধ হয় দেরি করেই আসেন এবং এ কারণেই রোগী মারা যান। অংক ক্লাসে যেমন ভেজালের অংক করতে গিয়ে মনে হতো ব্যবসায়ী মাত্রই পণ্যে ভেজাল মেশান। এর একটা অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক সমস্যাও দেখা দিয়েছিলো। কারও অসুস্থতায় বাসায় ডাক্তার ডাকলেই আমার মনে একটা ভয় কাজ করতো, ডাক্তার বাসায় আসবার আগেই বোধহয় রোগী মারা যাবে!

এই মধ্যবয়সে এসে পত্রিকায় আজকাল প্রায়ই ‘ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু’ শিরোনাম দেখি। নিজে একজন চিকিৎসক হওয়ায় তাৎক্ষণিক মনে প্রশ্ন জাগে, ডাক্তারের চিকিৎসা যে ভুল ছিলো তা কে নির্ধারণ করলো? একটা সত্য ঘটনা বলি। এক রোগীকে তার আত্মীয়স্বজন যখন ক্লিনিকে আনলেন তখন তার ব্লাড প্রেসার মাপা যাচ্ছিলো না, নাড়ির স্পন্দন ছিলো খুবই ক্ষীণ। খোঁজ নিয়ে ডাক্তার জানলেন, তিনদিন ধরে রোগী ডায়রিয়ায় ভুগছিলেন, এক হাতুড়ে ডাক্তারের কাছ থেকে ওষুধ খেয়ে অবস্থা আরও খারাপ হলে তিনদিনের মাথায় ক্লিনিকে এসেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেলো পানিশূন্যতার পরিণতিতে রোগীর কিডনি বিকল হয়ে গেছে। রোগীর বাঁচবার সম্ভাবনা কম, এই মর্মে আত্মীয়স্বজনকে বুঝিয়ে ‘রিস্ক বন্ডে’ সই নিয়ে রোগী ভর্তি করা হলো, একঘণ্টা পরে রোগী মারা গেলেন। এ খবর পেয়ে সেখানে স্থানীয় এক সাংবাদিক এলেন, দুয়েকজনের সাথে কথা বলে তিনি নিউজ করলেন, ‘ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু’। সেই খবর পড়ে উত্তেজিত জনতা ক্লিনিকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরে ক্লিনিকের কর্তব্যরত সেই ডাক্তারের সাথে দেখা হলে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘বলেন তো, আমি কার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতাম?’

কদিন আগে পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ধর্ষণ করে চিকিৎসক কারাগারে’ শীর্ষক খবরে চোখ বুলাতেই দেখি, এক পল্লী চিকিৎসকের কা-। অথচ শিরোনাম দেখে যে কেউ ডাক্তারদের সম্পর্কে ভুল ধারণা করতে বাধ্য। বাংলাদেশে এখন নিউজ পোর্টালের অভাব নেই, সেই সাথে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ মহামারি আকার ধারণ করেছে। এই ‘হলুদ সাংবাদিক’দের অন্যতম টার্গেট হলো ডাক্তার। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ডাক্তার সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের বেলায় নাম করা মিডিয়াগুলোও মাঝেমধ্যে যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয় না। এ বিষয়টার একটা সুরাহা হওয়া জরুরি। এভাবে ডাক্তারদের সামাজিক ইমেজকে হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত করা হলে ভবিষ্যতে তা সমগ্র চিকিৎসা ব্যবস্থার উপরে প্রতিকূল প্রভাব ফেলতে বাধ্য। আর এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে চিকিৎসা প্রত্যাশী রোগীরা।  লেখক: চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি অ্যান্ড রাইটস।

 

 

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ