প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মূর্খের ‘ণ-ত্ব বিধান’ যথা নাক দিয়ে পিৎজ্জা ভক্ষণ!

মাসুদ রানা : বিশ্বে কোনো মানুষের পক্ষে দাঁত থেকে ‘ন’-ধ্বনি উচ্চারণ করে তা ‘ট’ ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত করে ‘ন্ট’ উচ্চারণ করা সম্ভব নয়। করতে গেলে তা অবশ্যম্ভাবীরূপে ‘ন্ত’ উচ্চারিত হবে। একইভাবে ‘ন’ ধ্বনির সঙ্গে ‘ঠ’, ‘ড’ কিংবা ‘ঢ’ ধ্বনির যুক্ত উচ্চারণ সম্ভব নয়, করতে গেলেই তা ‘ন্থ’, ‘ন্দ,’ ও ‘ন্ধ’ হয়ে যাবে। আবার কেউ যদি মূর্ধা থেকে ণ উচ্চারণ করে ত, থ, দ, ধ’র সঙ্গে যুক্ত করতে চান, তা হবে না। করতে চাইলে তা ণ্ট, ণ্ঠ, – ও ণ্ঢ হয়ে যাবে। এ কারণেই আমাদের পূর্বপুরুষদের তৈরি বাংলা বর্ণমালায় ‘ন’কে দেখা যায় ত-বর্গে : ত-থ-দ-ধ-ন, এবং ণ-কে দেখা যায় ট-বর্গে : ট-ঠ-ড-ঢ-ণ। এই বর্গ ব্যবস্থার বার্তা হচ্ছে : হে বাংলাভাষী, তোমরা কখনও ‘ন’ নিয়ে ট, ঠ, ড কিংবা ঢ’র সঙ্গে, এবং ‘ণ’ নিয়ে ত, থ, দ, কিংবা ধ’র সঙ্গে যুক্তধ্বনি তৈরি করো না। কারণ তা অসম্ভব। সুতরাং, যে বাংলাভাষী ‘ঘণ্টা’ স্থলে ‘ঘন্টা’, ‘কণ্ঠ স্থলে ‘কন্ঠ’ কিংবা ‘কা-’ স্থলে ‘কান্ড’ ইত্যাদি লিখে, তারা মূর্খ না হলেও অজ্ঞ। এই মূর্খদের কেউ কেউ তাদের তথাকথিত ‘ণ-ত্ব বিধান’ নিয়ে এসে আমার ‘ভুল’ ধরে জিজ্ঞেস করে আমি ‘লন্ডন’ না লিখে ‘ল-ন’ লিখি কেন। আমার উত্তর হলো : আমি ‘লন্ডন’ উচ্চারণ করি না এবং করা সম্ভব নয়, তাই আমি উচ্চারণ অনুসারে ল-ন লিখি।

তখন আরেক দল মূর্খ এসে বলে, বিদেশি শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা যাবে না। আমি জিজ্ঞেস করি : কেন? বিদেশি শব্দের উচ্চারণে যদি ণ ধ্বনি থাকে এবং ন ধ্বনি না থাকে, আমি কেন সেখানে ন লিখবো? কি কারণে?

উপমা দিয়ে বলি, কেউ যদি বলেন বিদেশি খাবার পিৎজ্জা মুখ দিয়ে নয়, নাক দিয়ে খেতে হবে, আমি তো স্বাভাবিকভাবে নাক দিয়ে খেতে অক্ষম হওয়ার কারণে জিজ্ঞস করবো : মহাশয়, নাক দিয়ে যেখানে খাওয়া সম্ভব নয়, আপনি মুখ দিয়েই ভাত খান, সেখানে পিৎজ্জা বিদেশি খাবার বলে আপনি নাক দিয়ে খাবেন কোন যুক্তিতে? পাঠক বন্ধু, যদি আমার বিচার যুক্তিযুক্ত মনে করেন, দয়া করে মূর্খদের অনুসরণ না করে, ধ্বনিতত্ত্ব অনুসরণ করে বানান লিখুন। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ