শিরোনাম
◈ আগামী এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী ◈ ‘উগ্রবাদীদের শিক্ষা দিতে’ কুরবানিতে গরু না দেওয়ার আহ্বান মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশার (ভিডিও) ◈ অবশেষে কাটলো সম্প্রচার জট, ভারতে দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ ◈ দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে ৪০ কোটি হাতকে এক হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশে নারী-শিশু নির্যাতন বেড়েছে, বিচারহীনতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ চায় ইউনিসেফ ◈ কলকাতায় বাংলাদেশি তারকাদের কাজে আপত্তি টলিউডের টেকনিশিয়ানদের, যা বললেন রুদ্রনীল ◈ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড পদত্যাগ করলেন ◈ দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ থেকে ছুটি শুরু ◈ গ্রিন কার্ডে নতুন কড়াকড়ি: যুক্তরাষ্ট্রে বসে আর নয়, বিদেশিদের দেশে ফিরে আবেদন বাধ্যতামূলক! ◈ চার নতুন নিয়ম আস‌ছে বিশ্বকাপে, ম্যাচের চেহারা বদ‌লে যা‌বে!

প্রকাশিত : ০১ মে, ২০১৯, ০৬:৫৭ সকাল
আপডেট : ০১ মে, ২০১৯, ০৬:৫৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম তবে এর অনুসারীরা অনেকদূরে সরে গিয়ে সর্ব নিকৃষ্ট পন্থা অনুসরণ করেছেন

রাশিদ রিয়াজ : বার্নার্ড' শ একবার বলেছিলেন, ‘ইসলাম হচ্ছে শ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং মুসলমানরা হচ্ছে সর্ব নিকৃষ্ট অনুসারী।’ এ বিষয়টি উপলব্ধি করার যথার্থ সময় এখন এসেছে। বিশে^ সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কেনার দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। অথচ এ দেশটির প্রতিবেশি দেশগুলো মুসলিম দেশ। আবার ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক গড়ে তুলেছে দেশটি। বিশ^ মুসলিম উম্মাহ ও পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম হিসেবে পরিচয় দেন দেশটির বাদশাহ থেকে শুরু করে ক্রাউন প্রিন্সরা। বাকস্বাধীনতা তো দূরের কথা সরকারের সমালোচনা করা মাত্রই আটক ও পরিণতি হয় শিরোশ্চেদ। তাবৎ বিশে^ ইসলামফোবিয়া বা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে আইএস জঙ্গিরা সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়ে দিচ্ছে, মানুষ খুন করছে, নারী নির্যাতন করছে। অথচ তার কোনো বুদ্ধি বৃত্তিক জবাব দিয়ে উপযুক্ত কৌশল নির্ধারণ আজ পর্যন্ত নিতে পারেনি মুসলিম দেশগুলো। এসব জঙ্গিদের হাতে অর্থ ও অস্ত্র কোত্থেকে আসছে কারা এদের ব্যবহার করছে সে সম্পর্কে আগাম কোনো সতর্কতা বা মুসলিম যুবকরা যাতে বিভ্রান্ত হয়ে এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর খপ্পরে পড়ে তার কোনো যুৎসই প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না।

অধিকাংশ মুসলিম দেশে গণতন্ত্র, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতার বালাই নেই। কোনো কোনো দেশের বাদশাহ পরাশক্তিরগুলোর লেজুরবৃত্তি করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে বসে আছে। বিলাসব্যসনে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। একারণেই ইসলাম ধর্মে রাষ্ট্র ও সমাজ চলার যে বিধান দেয়া হয়েছে তা যে দেশগুলি প্রতিদিনের জীবনে মেনে চলে তা খুঁজতে যেয়ে দেখা গেলো,-- যারা সত্যিকার ভাবে ইসলামিক বিধানে চলে তারা কেউ বিশ্বাসী মুসলিম দেশ নয়। স্টাডিতে দেখা গেছে সবচেয়ে ইসলামিক বিধান মেনে চলা দেশ হচ্ছে নিউজিল্যান্ড এবং দ্বিতীয় অবস্থানে লুক্সেমবার্গ। তারপর এসেছে পর্যায় ক্রমে আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ষষ্ঠ ও কানাডা সপ্তম অবস্থানে। মালয়েশিয়া ৩৮তম, কুয়েত ৪৮তম, বাহরাইন ৬৪তম, এবং অবাক করা কান্ড সৌদি আরব ১৩১তম অবস্থানে।

গ্লোবাল ইকোনমি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বাংলাদেশের অবস্থান সৌদিদেরও নীচে। গবেষণায় দেখা গেছে, মুসলমানরা নামাজ, রোজা, সুন্নাহ, কোরআন, হাদিস, হিজাব, দাড়ি, লেবাস নিয়ে অতি সতর্ক কিন্তু রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে ইসলামের আইন মেনে চলেনা। মুসলমানরা পৃথিবীর সবার চেয়ে বেশি ধর্মীয় বয়ান,ওয়াজ নসিহত শোনে কিন্তু কোন মুসলিম দেশ পৃথিবীর সেরা রাষ্ট্র হতে পারেনি।

অথচ গত ষাট বছরে মুসলমানরা অন্তত ৩০০০ বার জুমার খুতবা শুনেছে। একজন চাইনিজ ব্যবসায়ী বলেছেন, মুসলমান ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে এসে দুই নম্বর নকল জিনিস বানানোর অর্ডার দিয়ে বলে, অমুক বিখ্যাত কোম্পানির লেভেল লাগাবেন। পরে যখন তাদেরকে বলি আমাদের সাথে খানা খান, তখন তারা বলেন, হালাল না, তাই খবোনা। তাহলে নকল মাল বিক্রি করা কি হালাল? একজন জাপানি নব্য মুসলিম বলেছেন, আমি পশ্চিমা দেশগুলিতে অমুসলিমদের ইসলামের বিধান পালন করতে দেখি, আর পূর্বের দেশগুলিতে ইসলাম দেখি কিন্তু কোন মুসলিম দেখিনা। আলহামদুলিল্লাহ, আমি আগেই ইসলাম এবং মুসলমানদের পার্থক্য বুঝেই আল্লাহর ধর্ম গ্রহণ করেছি। ইসলাম ধর্ম শুধু নামাজ রোজা নয়, এটি একটি জীবন বিধান এবং অন্যের সাথে মোয়ামালাত আর মোয়াশারাতের বিষয়। একজন নামাজ রোজা পড়া আর কপালে দাগওয়ালা মানুষও আল্লাহর চোখে একজন মোনাফেক হতে পারে।

নবী(স) বলেছেন, ‘আসল সর্বহারা আর রিক্ত মানুষ হচ্ছে তারা, যারা কেয়ামতের দিন রোজা, নামাজ, অনেক হজ্জ্ব, দান খয়রাত নিয়ে হাজির হবে কিন্তু দুর্নীতি করে সম্পদ দখল, অন্যদের হক না দেয়া, মানুষের উপর অত্যাচারের কারণে রিক্ত হস্তে জাহান্নামে যাবে।’ ইসলামের দুটি অংশ, একটি হচ্ছে বিশ্বাসের প্রকাশ্য ঘোষণা যাকে ‘ঈমান’ বলা হয়, আর একটি হচ্ছে বিশ্বাসের অন্তর্গত বিষয় যাকে ‘এহসান’ বলা হয়,-- যা ন্যায়গতভাবে সঠিক সামাজিক নিয়ম কানুন মেনে চলার মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়। দুটোকে একত্রে অনুসরণ না করলে ইসলাম অসম্পূর্ণ থেকে যায় যা প্রতিটি নামের মুসলমান দেশে হচ্ছে। ধর্মীয় বিধি নিষেধ মানা যার যার ব্যক্তিগত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে এবং এটি আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার বিষয়। কিন্তু সামাজিক বিধি নিষেধ মেনে চলা একজন বান্দার সাথে অন্য বান্দার মধ্যকার বিষয়। অন্য কথায় ইসলামিক নীতিমালা যদি মুসলমানরা নিজেদের জীবনে ব্যবহারিক প্রয়োগ না করে, মুসলিম সমাজ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাবে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ হবে অসম্মানজনক।

এখন পর্যন্ত কাতারের ওপর যে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে সৌদি জোটের সদস্য দেশগুলো তার কোনো মীমাংসা আলোচনার মধ্যে সমাধান করা যাচ্ছে না। ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনে মানুষ মরছে। সিরিয়া থেকে আইএস জঙ্গি পিছু হটছে কিন্তু এজন্যে দেশের সাধারণ মানুষকে চরম খেসারত দিতে হচ্ছে। কই বিশ^মুসলিম উম্মার অভিভাবক বাদশাহরা এ নিয়ে তো কোনো সংলাপে যেতে পারছে না। ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে ঘনবসতির দেশ বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তারা এদেশের পরিবেশ ও ভূমির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে। এর কোনো সমাধান নেই কেন? কই কোনো খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, ইহুদি বা নাস্তিক অনুসারীদের দেশগুলোতে নিজেদের মধ্যে এত ঝগড়া ফ্যাসাদে লিপ্ত নেই। বরং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আর পুঁজির সংমিশ্রনে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি করছে। মুসলিমরা নিকৃষ্ট অনুসারী হয়ে শ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করার কারণেই এমনটি হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়