প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৌরবিদ্যুৎ বরেন্দ্র অঞ্চলে ৩৭ হাজার টন খাদ্যশস্য উৎপাদনে অবদান রাখছে

শাহীন চৌধুরী : সৌরবিদ্যুতে চালিত সেচপাম্প বিভিন্ন উপায়ে জনগণকে উপকার করে দুর্ভিক্ষ-প্রবণ বরেন্দ্র এলাকার কৃষিতে নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ শুধু জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত বিদ্যুৎ সরবরাহের উপর চাপ কমিয়েই দেয় না বরং ধীরে ধীরে মাটির উপর চাপ বাড়িয়ে দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বছরে ৩৭ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ও সবজি উৎপাদনের জন্য অবদান রাখছে সৌরবিদ্যুৎ। এর মাধ্যমে ৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর কৃষি জমিকে সেচ সুবিধার অধীনে আনা সম্ভব হয়েছে। জানা যায়, বরেন্দ্র মাল্টিপলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিএমডিএ) বরেন্দ্র এলাকায় পানি সরবরাহের জন্য সব সেচ পাম্পকে সৌর বিদ্যুতে উন্নীত করেছে যাতে বছরে সেচের জন্য ভূ-পৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমানো যায়।

এ প্রসঙ্গে বিএমডিএর সুপারিনটিনডেন্ট প্রকৌশলী শামসুল হুদা বলেন, ১১৬ কোটি ১৩ লাখ টাকার প্রকল্পে ৩৮ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার খাল ও সাতটি পুকুর পুননির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া সৌর পাম্পের মাধ্যমে খাল ও পুকুরগুলিতে সংরক্ষিত পানি সরবরাহের জন্য ১৮১ কিলোমিটার খাল থেকে পানি উত্তোলনের জন্য ৮৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার পাইপলাইন চালু করা হয়েছে।

প্রকৌশলী শামসুল হুদা আরও বলেন, কৃষকদের মধ্যে সৌর পাম্প সেচ ব্যবস্থা জনপ্রিয় করার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পাম্পে ক্রমবর্ধমান মাউন্ট চাপ কমানোর জন্য খাল জল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, খাল ও পুকুরের তীরে আট হাজারেরও বেশি গাছকে প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে যা অবশেষে একটি পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বন নির্গমন হ্রাসে সহায়তা করবে এবং বিস্তৃত বরেন্দ্র অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব মোকাবেলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিজ অধিদফতরের অধ্যাপক চৌধুরী সরওয়ার জাহান বলেন, বরেন্দ্র সেচ ব্যবস্থা মূলত ভূগর্ভস্থ জলের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং, প্রতি বছর ইরি-বোরো সহ ফসল চাষের জন্য বিশাল ভূগর্ভস্থ পানি নিষ্কাশন করা হয়। তিনি আরো বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি সম্পদকে আরো অবনতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সেচের পানি উন্নীত করার কোন বিকল্প নেই।

প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে সৌরবিদ্যুতসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৫৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই হচ্ছে জলবিদ্যুৎ থেকে। চলতি বছর এই ক্ষমতা ৬০০ মেগাওয়াট হবে। এছাড়া পরের দুই বছর, অর্থাৎ ২০২০ ও ২০২১ সালে আরো এক হাজার ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০২১ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে দুই হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত