প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দারুল উলুম দেওবন্দের ফতওয়া
প্রচলিত খতমে বুখারির আয়োজন অনুচিত

মোস্তফা কামাল গাজী : উম্মুল মাদারিস দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে গত ২১ এপ্রিল ২০১৮ ‘খতমে বুখারি’ সম্পর্কে একটি ফতওয়া বেরোয়। ফতওয়াটি দারুল উলুম দেওবন্দের ইফতা বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়। একজন ফতওয়া বিভাগ থেকে জানতে চেয়েছিলো, প্রচলিত খতমে বুখারি অনুষ্ঠান কতোটুকু শরিয়তসম্মত?

এর জবাবে বলা হয়, ‘বর্তমানে দেখা যায় অধিকাংশ মাদরাসায় বুখারি শরিফের শেষ হাদিসের দরস অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দেয়া হয়। তারিখ নির্ধারণ করে মানুষদের দাওয়াতও করা হয় বিশেষভাবে। মাদরাসাগুলোতে দলে দলে ছুটে আসে মানুষ। এমনটা না হওয়া চাই। দারুল উলুম দেওবন্দেও পূর্বে খতমে বুখারি উপলক্ষ্যে দিগ-দিগন্তের মানুষ ছুটে আসতো। অনেক মানুষের উপস্থিতিতে বুখারি শরিফের আখেরি দরস দেয়া হতো। পরবর্তীতে আকাবিরে দেওবন্দ এ প্রথা বন্ধ করে দেন।’

ফতওয়ার শেষাংশে দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়- ‘বর্তমানে দারুল উলুম দেওবন্দে অন্যান্য দরসের মতো সাধারণভাবেই বুখারির শেষ সবক দেয়া হয়। অন্যান্য মাদরাসার জন্যেও উচিত দেওবন্দকে অনুকরণ করে খতমে বুখারির অনুষ্ঠানগুলো পরিহার করা।’

ফতওয়াটির মূলকপি

দারুল উলুম দেওবন্দের এই ফতওয়াকে সামনে রেখে বিশিষ্ট কয়েকজন আলেম-এর মতামত তুলে ধরা হলোঃ

মুফতি আবুল কাসেম নোমানি দাঃবাঃ (মুহতামিম, দারুল উলুম দেওবন্দ, ভারত) বলেন- ‘খতমে বুখারি করা যদিও একেবারে নাজায়েজ নয়, কিন্তু বর্তমানে এটি একটি রুসুমে পরিণত হয়ে গিয়েছে। এ জন্যই দারুল উলুম একে পরিহার করেছে। সবার উচিত এটি না করা।’

মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান দাঃবাঃ (মুহতামিম, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা) বলেন- ‘আমাদের আকাবিরদের যুগে যেহেতু খতমে বুখারি অনুষ্ঠান ছিলো না, তাই একে পরিহার করাই যুক্তিযুক্ত। বড় অনুষ্ঠান করলে ছাত্রদের পড়ালেখারও অনেক ক্ষতি হয়। আমাদের মাদ্রাসায় যদিও ছাত্রদের অনুরোধে করতে হয়, তবে তা পরীক্ষার পরে করা হয়। আর তার নাম ‘খতমে বুখারি’ না রেখে ‘খতমে কোরআন’ রাখা হয়। কারণ, হাদিসের আগে কোরআন এসেছে। আগে কোরআন খতম করে এরপর হাদিস পড়া হয়। তবে একেবারেই অনুষ্ঠান না করা আমার কাছে পছন্দনীয়।’

মাওলানা জাফর আহমদ দাঃবাঃ (মুহতামিম, জামিয়া কাসেমিয়া টিএনটি মাদ্রাসা, ঢাকা) বলেন- ‘খতমে বুখারি যেহেতু নতুন একটা বিষয়, তাই এটি না করাই উত্তম। আমাদের উচিৎ দারুল উলুম দেওবন্দের অনুসরণ করে একে পরিহার করা।’

মাওলানা আলী হাসান তৈয়ব (সহ-সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ) বলেন- ‘দেওবন্দের ফতওয়া আমার মত। যে প্রথা সালফে সালেহিনদের যুগে ছিলো না, তা এতটা ঘটা করে পালন করার কিছু দেখি না। দেওবন্দের ফতোয়াকে গুরুত্ব দিয়ে দেওবন্দের অনুসরণ করা প্রত্যেকের কর্তব্য। কিন্তু আমরা তো সুবিধারটা মানি আর অসুবিধারটা ছাড়ি!’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত