প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধানের মধ্যে গমের জিন ঢোকানোর চিন্তা করছে বিজ্ঞানীরা বললেন ব্রি’র ডিজি

মতিনুজ্জামান মিটু: পানি সমস্যা মোকাবেলায় ধানের মধ্যে গমের জিন ঢোকানোর ঢোকানোর চিন্তা করছে বিজ্ঞানীরা বললেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো: শাহজাহান কবীর। রবিবার(২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে কৃষি জীবপ্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদ পরিবেশনে কৃষি সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক দুই দিনব্যাপি এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন।

তিনি বলেন, ধান আবাদের জন্য তুলনামুলক অনেক বেশি পানি লাগে। তাই কম পানিতে ধান ফলানোর চিন্তা করছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ গম উৎপাদনে পানি কম লাগে। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। কিন্তু ভাতে প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব রয়েছে। তাই ভিটামিনের অভাব পুরণে আয়রণ ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইচ উদ্ভাবন করা হচ্ছে। পলিশ করার কারণে চালের ওপরের মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় জিঙ্ক থাকে না। এই সমস্যা মোকালেয়ায় জিঙ্ক ও আয়রণ চালের ভিতরের দিকে দেওয়ারও চিন্তা হচ্ছে।

কর্মশালায় ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, বিজ্ঞানীদের সাথে সাংবাদিকদের সেতু বন্ধনের জন্য এই ধরনের কর্মশালা আয়োজন একটি অনন্য উদ্যোগ। প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূরীকরণে সাংবাদিকরা সর্বদা তৎপর।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর কারিগরী সহায়তায় আর্ন্তজাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ফার্মি ফিউচার বাংলাদেশ যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। ইরি বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. হোমনাথ ভান্ডারীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, ইরি’র ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস ও ইরি বংলাদেশ অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার ড. সৈয়দ মো. ইব্রাহীম ও ফার্মি ফিউচার বাংলাদেশ এর সিইও মো. আরিফ হোসেন।

কর্মশালার কারিগরী সেশনে গোল্ডেন রাইস, বিটি বেগুন ও বিটি তুলাসহ বিভিন্ন জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবিত ফসল সম্পর্কে উপস্থাপনা প্রধান করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। পরে বিজ্ঞানীরা কৃষি সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। কর্মশালার কারিগরী সেশনে বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্ণেল বিশ^বিদ্যালয়ের এলায়েন্স ফর সায়েন্স এর প্রশিক্ষক মিস প্যাটরিশিয়া নানতেনজা ও দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ।

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, একুশ শতকের কৃষি মানেই প্রযুক্তির ছোয়া। বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন ফসল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন। বিজ্ঞানের আশীর্বাদে এখন ফসল বোনা থেকে খাবার টেবিল পর্যন্ত সামগ্রিক প্রক্রিয়া সহজসাধ্য হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানের সুনিপুণ কৌশলকে কাজে লাগিয়ে ফসলের বীজ ও উদ্ভিদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের প্রয়োজন মিটানোর প্রচেষ্টাই জীবপ্রযুক্তি। বৈজ্ঞানিক মহলে যা “বায়োটেকনোলজি” হিসেবেই অধিক পরিচিত। ভবিষ্যতের কৃষির উৎকর্ষতা এই জীবপ্রযুক্তিকে ঘিরেই আবর্তিত হবে।

বিজ্ঞানীদের মতে নিকট ভবিষ্যতে মানুষের চাহিদামতো নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার যোগান দিতে জীবপ্রযুক্তির ব্যবহার হয়ে উঠবে অন্যতম উপায়। তবে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো নিয়ে সঠিক তথ্যের অভাবে জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। কারণ এ সর্ম্পকে মৌলিক জ্ঞান এর অভাবে সাধারন মানুষের পাশাপাশি অনেক বিজ্ঞানমনস্ক মানুষও এই প্রযুক্তি নিয়ে বিভ্রান্ত হন। অথচ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে হরহামেশাই আমরা জীবপ্রযুক্তি উদ্ভাবিত খাবার গ্রহন ও পণ্য ব্যবহার করছি। এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্দেশ্য কৃষি সাংবাদিকদের এ বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে জনগনের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এবং সঠিক তথ্য নির্ভর কৃষি সংবাদ প্রচারে সহায়তা করা।
সোমবার ২৫ ফেব্রুয়ারি অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের নিয়ে ব্রি ও বারির গবেষণা মাঠ ও ল্যাব পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত