প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কমলগঞ্জে বরযাত্রীদের গাড়ি বহরে গণডাকাতি,গাড়ি ভাঙচুর,আহত-১০

সাদিকুর রহমান সামু: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে সড়ক অবরোধ করে বরযাত্রীবাহি গাড়ি বহরে গণডাকাতি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শমসেরনগর-পীরেরবাজার সড়কে ময়নাবুড়ির ঘর এলাকায় দুধুর্ষ এ ডাকাতি সংঘটিত হয়। ২০-২৫ সদস্যদের সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাত দল সড়ক অবরোধ করে ১০টি বরযাত্রীবাহি গাড়ি আটকে প্রথমে ভাংচুর করে যাত্রীদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করে। পরে একে একে বরযাত্রী ১০টি গাড়ির নারী পুরুষ সদস্যদের মারধর করে কাছ থেকে নগদ অর্থ,স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ডাকাত সদস্যদের হামলায় এক পুলিশ সদস্য এবং আবু বক্কর সিদ্দিকী নামে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

বরযাত্রী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার অবরস প্রাপ্ত শিক্ষক সুরৎ পাল বলেন, বরযাত্রীবাহি গাড়িগুলোর সামনের গাড়িটি ময়না বুড়ির ঘর এলাকা অতিক্রমকালে একটি প্রাইভেট কার সড়কে এলোপাতাড়িভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে চালক গাড়ি থামান। এ সময় ২০-২৫ সদস্যের ডাকাত দল অতর্কিত ভাবে দা,লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে গাড়ি বহরে হামলা চালিয়ে প্রথমে ৪টি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে একে একে ১০ গাড়িতে উঠে বরযাত্রী নারী-পুরুষদের মারধর করে তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইলফোন সহ প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে করে। এ সময় ডাকাত সদস্যদের হামলায় বরযাত্রী সিলেট রিজার্ভ পুলিশের সদস্য অলক পালসহ অন্তত ১০ জন বরযাত্রী আহত হন। ডাকাতির খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান চৌধুরী,সাবেক ইউপি সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিকসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পুলিশের পিকআপ গাড়ি এবং প্রাইভেট কার নিয়ে বরযাত্রীদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ঘটনাস্থলের অদুরে পুলিশ গাড়ি নিয়ে থেমে গেলে দুই ইউপি সদস্য ব্যবসায়ীদের নিয়ে এগিয়ে গেলে ডাকাত সদস্যরা তাদের উপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে দুই ইউপি সদস্যকে আহত করে তাদের বহনকৃত প্রাইভেট কার গাড়িটি ভাংচুর করে। উদ্ধারকারীদের উপর ডাকাত সদস্যরা হামলা করার সময় পুলিশ সদস্যরা ডাকাতদের প্রতিরোধ না করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা জানায়, এ ঘটনাটি জানাজানি হলে রাতেই বিক্ষুব্ধ লোকজন শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে জড়ো হন। এ সময় পুলিশ ফাঁড়ির সামনে উত্তেজনা দেখা দেয়।

খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান পুলিশ ফাঁড়িতে পৌছে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করলে বিক্ষুব্ধরা শান্ত হন। রাতেই আহতরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডিসপেন্সারীতে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

শমশেরনগর ফাঁড়ির এস.আই. শাহ আলম বলেন, মোবাইল ট্রাকিং করে পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। তবে কেউ লিখিত কোন অভিযোগ দেয়নি।

কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখছে পুলিশ। দুর্বৃত্তদের চিহিৃতপূর্বক আটক এবং লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, রাতে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে এলাকায় টহল দিয়ে থাকে। ঘটনার সময় যে কয়জন পুলিশ সদস্য ফাঁড়িতে ছিল সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত