শিরোনাম
◈ ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি: প্রেস সচিব ◈ একটি দলের কার্যকলাপ নিয়ে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বললেন তারেক রহমান (ভিডিও) ◈ তিন নেতার কবর জিয়ারত করে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু এনসিপির ◈ ৮ ইউএনওকে বদলির আদেশ বাতিল ◈ ৪১৯ উপজেলায় ভর্তুকি মূল্যে চাল বিক্রি শুরু, কেজিপ্রতি কত ◈ ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ (ভিডিও) ◈ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখন গলার কাটা, সুযোগ নিতে পারে অন্যরা ◈ প্রার্থিতা ফিরে পেতে এবার আপিল করবেন বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ◈ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ফাঁস করলেন সজীব ওয়াজেদ জয়! ◈ ১২ ফেব্রুয়া‌রি নির্বাচন কি আসলেই হবে- এই প্রশ্ন এখনো কেন উঠছে

প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ০৪:১৩ সকাল
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ০৪:১৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মিডিয়ায় নারীদের পণ্য হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নারীর নিজেদেরও সবিশেষ ‘অবদান’ আছে

লুৎফর রহমান হিমেল : ১. বসকে আকর্ষণে যে রঙে ঠোঁট রাঙাবেন! ২.গণধর্ষণ করে অর্ধনগ্ন মহিলাকে ঘোরানো হলো গ্রামে, ৩. একজন বিমানবালার গোপন ‘স্বীকারোক্তি’! ৪. রগরগে যৌন দৃশ্যে শাহিদ কাপুর ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।
সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে এই শিরোনামগুলো পড়েছি। এখনো গুগলে সার্চ করলে শিরোনামগুলো পাবেন। নারীকে অপদস্থ করতে এ রকম অসংখ্য শিরোনাম ও সংবাদ আমাদের গণমাধ্যমে এখন দেখি অহরহ। মিডিয়ায় নারীদের পণ্য হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নারীদের নিজেদেরও সবিশেষ ‘অবদান’ আছে। কারণ তারা নিজেরাও এ ব্যাপারে সচেতন নয়। অধিকার নিজেদেরই আদায় করে নিতে হয়। রবি ঠাকুর যেমনটা বলেছেন, ‘‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ/ এ নহে মোর প্রার্থনা/ তরিতে পারি শক্তি যেন রয়।’ পুরুষনির্ভরতা কাটিয়ে নারীকে মানুষ হয়ে ওঠার জন্য তার নিজেকেই সচেতন হতে হবে, জেগে উঠতে হবে। তাহলেই তার সার্থকতা। নারীর আজকের এই নিগ্রহ, এটা কিন্তু প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। একটু ভাষাচিত্রে চোখ রাখি। নারী : রমণী, রামা, বামা, অবলা, মহিলা, স্ত্রী, মেয়ে, মেয়েমানুষ, ললনা, মানবী, মানবিকা, কামিনী, আওরত, জেনানা, যোষা, বালা, বণিতা, ভামিনী, শর্বরী, দুহিতা- আরো কতো বাহারি নাম। রমনী মানে? রমন করিবার নিমিত্বে যারা। অবলা মানে শক্তিহীন। কামিনী শব্দে ‘কামে’র সরব উপস্থিতি। জেনানা মানে নিষিদ্ধ। দুহিতা অর্থ দোহনকারিণী। ভাবা যায়? কতোটা অপমানসূচক শব্দগুলো।
খেয়াল করে দেখুন, এসব নামে ইতিবাচকতা নেই। সব নেতিবাচক। কিন্তু কেন? কারা বানালো এসব শব্দবন্ধ? কবে থেকে চলে আসছে এসব? শুধু বাংলা শব্দেই নয়, ইংরেজিটাও দেখুন, গবহ শব্দটার আগে ডড় ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। ম্যানের সাথে ঝুলে থাকাই যেন (ডড়) নারীর নিয়তি।
কেন, ম্যান শব্দটার অর্থ নারী হতে পারতো না? আর ওম্যান অর্থ পুরুষ। সমস্যা কী ছিলো? নারীর অধিকারবঞ্চিত হবার ইতিহাস জানতে এই শব্দখেলার ইতিবৃত্তও জানা দরকার।
আর হ্যাঁ, এ নেতিবাচক শব্দগুলো কবুল করে নেয়ার জন্য নারীরাও দায়ী। তারা পারফিউমের বিজ্ঞাপনে পুরুষের পঙ্গপাল হিসেবে হাজির হন! ওদিকে গলা ফাটিয়ে অনেক ‘প্রগতিশীল নারী’ নারীবাদী হন। এর কাউন্টারে অবশ্যম্ভাবীরূপে চলে আসে পুরুষবাদ। নারীবাদ ধারণাটা এসে পুরুষবাদটাকে সমাজে অলিখিত একটা শক্ত ভিত্তি দিয়ে দেয়।
বাংলা একাডেমির ডিকশনারিতেও ‘মানুষ’ শব্দের অর্থ খুঁজলে পাওয়া যায় মানব, মনুষ্য, লোক, জন, নৃ, নর। ‘মানুষ’ শব্দের অর্থের মধ্যে ‘নর’ বিদ্যমান কিন্তু ‘নারী’ উধাও। একইভাবে ‘মানব’ শব্দের অর্থ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে মানুষ, মনুষ্য, নৃ, নর। এখানেও ‘নারী’ শব্দটি গুম হয়ে গেছে। কিন্তু ‘নর’ শব্দটি ঠিকই আছে। আসলে আমরা যেই আঁধারে ছিলাম, সেই আঁধারেই রয়ে গেছি। এখনো অনেক পরিবারে ছেলে সন্তানের জন্য পুরোটা ডিম, আর মেয়ে সন্তানের জন্য অর্ধেক ডিম বণ্টনের রেওয়াজ রয়ে গেছে। রাষ্ট্রের সবচেয়ে ছোট ইউনিট পরিবারে যখন মেয়ে এবং ছেলে দু’জনই ‘মানুষ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে, তখনই নারী দিবস অর্থপূর্ণ হবে। প্রকাশিত বই : সাংবাদিকতা সুসাংবাদিকতা কুসাংবাদিকতা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়